ফুলপুরে পথের অভাবে গৃহবন্দি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানসহ কয়েকটি পরিবার

received_2747864575436638.jpeg

এম এ মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ ৫/৬টি পরিবার। ঘর থেকে বের হওয়ার জন্যে তারা একটু পথ চায়। ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ সীমানা প্রাচীর ঘেঁষা স্থানে এসব পরিবারের বসবাস। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জনাব আলীর কন্যা ইফফাত আরা সাথীসহ ৫/৬টি পরিবার প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ ওখানে বসবাস করে আসছিলেন। পৌর আইন ভঙ্গ করে চতুর্দিক থেকে ৩ ফুট জায়গা না রেখে বাসা বাড়ি করায় ভোগান্তির শিকার এসব পরিবার। তারা আগে সবদুল বেপারীর একটি সরু পথ দিয়ে চলাচল করতেন। তিনি মারা গেলে তার ছেলেরা উহা বন্ধ করে দেওয়ার পর হাসপাতালের ভাঙা দেওয়ালের উপর দিয়ে যাতায়াত করতেন তারা। সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঠিকাদার সেটিও বন্ধ করে দিলে গৃহবন্দি হয়ে পড়েন পরিবারগুলো। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা কন্যা ইফফাত আরা সাথী বাসা থেকে বের হওয়ার জন্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট আগের ভাঙা ওয়ালটা খোলা রাখার দাবি জানান। এছাড়া অবরুদ্ধ পরিবারের সায়েদুর রহমান রাসেল, সাহেদুর রহমান, আবুল কালাম ও আপন মিয়া বলেন, রাস্তা ছাড়া আমাদের একটা দিনও থাকার কোন উপায় নেই। চতুর্দিক থেকে আমাদের এমনভাবে অবরুদ্ধ করা হয়েছে যে, হাসপাতালের দেওয়ালটি বন্ধ করে দিলে কোন দিক থেকেই আমাদের বের হওয়ার কোন পথ নেই। শুেেনছি ১৫ দিন পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই পথটুকু সীমানা প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে দিবেন। এর আগেই আমাদের পথের ব্যবস্থা দরকার। সাবেক ছাত্রনেতা আজাদুর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে কোনো মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এভাবে অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত হবে তা কোনভাবেই কাম্য নয় বরং খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. রাশিদুজ্জামান খান বলেন, এই হাসপাতালের অন্য পাশ দিয়েও আরো ৪টি পথ ছিল। ওইগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন এদিক দিয়ে খোলা রাখলে অন্যরাও তাদের বাসার সম্মুখ দিয়ে খোলা রাখার দাবি উঠাবে। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের নিরাপত্তার স্বার্থে এ রকম খোলা রাখা কোনভাবেই সম্ভব নয়। ভুক্তভোগীদের সামনের বাসার মালিক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ বলেন, আমার অল্প জায়গা। ঘর করে ফেলেছি। উহা ভেঙে রাস্তা দেওয়া সম্ভব নয়। একই কথা বলেন, পাশের বাসার আনিসুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিতভাবে রাস্তার জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও অদ্যাবধি কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা কন্যা ইফফাত আরা সাথী বলেন, আমাদের কেহ এখন মারা গেলে ঘর থেকে লাশ বের করার পথটুকুও নেই। তাই মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনার জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীতেষ চন্দ্র সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়।

Share this post

PinIt
scroll to top