বিদ্যুতের অযোগ্য কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে কষ্টে হাজারো গ্রাহক

Biddut17.jpg

এম এ মান্নান:
বিদ্যুতের অসাধু ও অযোগ্য কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে অন্ধকারে কষ্টময় জীবন যাপন করছেন হাজারো অসহায় গ্রাহক। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল করে বিলের চাপে কষ্ট ও যন্ত্রণার মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে অনেক গ্রাহককে। অতিরিক্ত বিল করলে বিদ্যুৎ বিভাগে লিখিত অভিযোগ করতে হয় কিন্তু মানবতা দেখিয়ে লিখিত অভিযোগ অনেকেই করেন না বা করার কৌশলও বুঝেন না। মৌখিক অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা বলেন যে চিন্তা করবেন না বিল ঠিক করে দিব। দিব দিব করে মাসের পর মাস ঘুরায় কিন্তু বিল আর ঠিক করা হয় না। পরে এক সময় ওই অফিসার বদলি হয়ে গেলে অন্য অফিসার এসে গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করে। ময়মনসিংহের ফুলপুরে এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আবাসিক ও সেচ গ্রাহকদের মিটার না দেখে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল করে গ্রাহকদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে উপজেলার ভাইটকান্দি গ্রামের কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তার মিটারে ৭৮৩ ইউনিট ছিল। পরে ৭৮৩ ইউনিটের স্থলে বিল করা হয়েছে ১১ হাজার ১০০ ইউনিটের। একই গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, তার মিটারে রিডিং ছিল ৩৫৩৩ ইউনিট কিন্তু বিল করা হয়েছে ৩৫৩৩০ ইউনিটের। ফুলপুর সরকারি কলেজ রোডের আকিজুল ইসলামের (হিসাব নং ২১৬৯/২১৮ গ্রাহক নং ৭৫৫৮৩০৮০) মিটারে রিডিং ছিল ১৭১১৯.৬ ইউনিট। এই মিটারটা ব্যবহার করেন তার ভাড়াটে মো. আব্দুল মান্নান। ১৭১১৯.৬ ইউনিটের মধ্যে বিল দেওয়া ছিল ১৬৪০০ ইউনিটের। তার নিকট ৭১৯ ইউনিটের বিল পাওনা ছিল। পরে সম্ভবত: ৭১০ ইউনিটের বিল করতে গিয়ে এক শূন্য বাড়িয়ে তার বিল করা হয়েছে ৭১০০ ইউনিটের। এরপর আকিজুল ইসলামের ভাড়াটে মো. আব্দুল মান্নান যেন মামলা না করেন সেজন্যে ফুলপুর বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারী ফরহাদ দিউ মাদরাসায়ে সাইয়্যেদেনা উমর ফারুক (রা.) আবাসিক হিফজখানার শিক্ষক হাফেজ মূসা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল মতিন মতির ভাই জাহিদুজ্জামান মিলনকে বিল সংশোধনের আশ্বাস দিয়ে সুপারিশ করালে তিনি কোন মামলায় যাননি। এরপর মাসকে মাস বিল সংশোধন না হওয়ায় ফুলপুরের সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল আমিন ও রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্নজনের সুপারিশ নিয়ে বার বার বিদ্যুৎ বিভাগের দ্বারস্থ হন কিন্তু তারপরও বিল ঠিক করা হয়নি। ২০১৬ সনের এপ্রিল মাসে ৭২১১৩ টাকা বিল আসে। অথচ এর আগে বা পরে সাধারণত: ৪/৫ হাজার টাকা করে বিল হতো। একসাথে এত বেশি বিল হওয়ার পর প্রতি মাসে যোগ হতে থাকে বড় অঙ্কের ভ্যাট। ২০২০ সনের নভেম্বর মাসে এর বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬৬৯১০ টাকা। পরে ৯ ডিসেম্বর এই মিটারের গ্রাহক আকিজুল ইসলাম ও ব্যবহারকারী আব্দুল মান্নানের নামে বিদ্যুৎ কোর্টে মামলা হয় ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। যে মামলা হওয়া উচিৎ ছিল বিদ্যুৎ বিভাগের উপর সেই মামলা এসে চাপে গ্রাহকের ঘাড়ে। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ের মত ব্যাপার। তারপর কোর্টের অনুমতি নিয়ে ২১ ডিসেম্বর বিল বাবদ ৯০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হলেও এবং নির্ধারিত তারিখে হাজিরা দিয়ে পুন:সংযোগের আবেদন করলেও নানা তাল বাহানায় অদ্যাবধি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা মনে করেন বিদ্যুৎ বিভাগে কিছু অসাধু ও অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কারণেই গ্রাহক হয়রানি হচ্ছে।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top