অসহায় বাবার পাশে দাঁড়ালেন ফুলপুর ওসি

Phulpur-017.jpg

ময়মনসিংহের ফুলপুরে শাহাব উদ্দিন (৮০) নামে অসহায় এক বাবার পাশে দাঁড়ালেন ফুলপুর ওসি ইমারত হোসেন গাজী। সোমবার কিছু টাকা ও খাবার দাবার নিয়ে ওই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ান তিনি।
সূত্র জানায়, ওই বাবাকে তার ঔরষজাত পু্ত্র ও পু্ত্রবধূ মিলে মেরে ফেলার হীন ষড়যন্ত্র করেছিল। সে ওষুধপত্র ও ভাত-কাপড়ের জন্যে চিল্লাচিল্লি করতো বলে, রাতে বিছানায় পেশাব পায়খানা করে দিত বলে ওরা রাগ করতো। বাবাকে গালিগালাজ করতো। মাসের পর মাস বাবার পক্ষ থেকে নানা কষ্ট সইতে না পেরে অতিষ্ঠ হয়ে তারা তাকে গাড়ির নিচে চাপা দিয়ে মেরে ফেলার ফন্দি করে এবং সোমবার গভীর রাতে সাহাপুরের নিকটে আনোয়ার খিলায় ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কে রাস্তার পাশে তাকে ফেলে রেখে যায়। তখন ওই বৃদ্ধ বাবার আর্ত চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এদিকে, পলি নামে এক মায়াবী পথচারীর নজর কাড়ে বিষয়টি এবং এগিয়ে এসে ৯৯৯ নাম্বারে কল দিয়ে পুলিশকে অবহিত করেন তিনি। পরে ফুলপুর থানার একদল চৌকস পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যান ও তাকে উদ্ধার করেন। এসময় নিষ্ঠুর পু্ত্র ও পুত্রবধূ পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভয়ে এবং আসল ঘটনা ফাঁস হয়ে যাবে সন্দেহে পালিয়ে যায়। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় হয়। পরে ওসি ইমারত হোসেন গাজী নিজেও বৃদ্ধ শাহাব উদ্দিনের বাড়িতে যান ও তার সাথে কথা বলেন। তার খোঁজ খবর নেন ও নগদ টাকাসহ কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এবং স্থানীয় লোকজনকে সাথে তার সেবা নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, কষ্ট দিয়েই শুরু হত দরিদ্র শাহাব উদ্দিনের জীবন। তার বাড়ি ছিল শেরপুর জেলায়। সেখানে প্রভাবশালীদের দ্বারা একের পর এক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন ও একটু সুখের আশায় প্রায় ৩০ বছর আগে ফুলপুরে চলে আসেন। এসে ডা. নাজমুল হাসান লিটনের সাহাপুরস্থ জমিতে বাউইল্লা হিসেবে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেন। কিন্তু বিধি বাম। এখানেও সুখের দেখা পাননি তিনি। তার ২ ছেলে, স্ত্রী ও নাতিপুতিসহ অনেক বড় একটা সংসার। বড় ছেলে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছে। বাপ-মার খবর রাখে না। ছোট ছেলে একার আয় রোজগারে ৪ সন্তান, বউ ও মা-বাবা নিয়ে বিপাকে পড়ে। এরই মাঝে যুক্ত হয়েছে বিধ্বংসী করোনা। যার কারণে কর্মহীন ও অর্থহীন হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবারটি। এক পর্যায়ে কষ্ট সইতে না পেরে রবিবার ভোরে স্ত্রীর সহযোগিতায় ঔরষজাত সন্তান হয়েও তার বৃদ্ধ বাবাকে প্রাণনাশের হীন উদ্দেশ্যে রাস্তায় এনে ফেলে দেয়। পরে পুলিশ ওদের খুঁজে বের করলে তারা লোম হর্ষক ওই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয় এবং কৃত অপরাধের জন্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। এমনকি জীবনে আর কোন দিন এ ধরনের ঘৃণ্য ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাবে না বলে অঙ্গীকার করে। পরে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ওসি তাদের মাঝে সুষ্ঠু সূরাহা দান করেন।

Share this post

PinIt
scroll to top