ফুলপুরে ইফতা বিভাগ দিয়ে শুরু মাদরাসা ‘জামিয়া গিয়াছ উদ্দিন রহ:’-এর শুভ উদ্বোধন ও সবক ইফতেতাহ্

Phulpur-Pic-0352.jpg

এম এ মান্নান :
বাংলাদেশের কিংবদন্তি আলিমে দীন পীরে কামিল আল্লামা গিয়াছ উদ্দিন আহমাদ পাঠান রাহমাতুল্লাহের নামে ময়মনসিংহের ফুলপুরে এক ইফতা মাদরাসার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ফুলপুর পৌরসভার পুরাতন ভবনে ‘জামিয়া গিয়াছ উদ্দিন রহ: পীর সাহেব, বালিয়া’ নামে ইফতা বিভাগের ওই প্রতিষ্ঠানটি আজ বুধবার বাদ ইশা উদ্বোধন করা হয় ও সবক ইফতেতাহ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম, বালিয়ার শিক্ষা উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস মরহুম শায়খে বালিয়ার উস্তাদ আল্লামা এমদাদুল হক দামাত বারাকাতুহুম। দোয়াপূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বালিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আইন উদ্দিন, সাবেক নায়েবে মুহতামিম বর্তমানে সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা ওয়াইজ উদ্দিন, অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী, ফুলপুর কাজিয়াকান্দা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদীন, কাতুলি এমদাদীয়া ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জালাল উদ্দিন, ফুলপুর আদর্শ মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আবু রায়হান, শায়খে বালিয়ার সাহেবজাদা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ, ফুলপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কাজী আব্দুস সাত্তার, রূপসী মহিলা মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মুজিবুর রহমান, আল হুমায়রা (রা:) মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইয়াহইয়া, ফুলপুর সরকারি কলেজ মসজিদের ইমাম ও সুফফা মাদরাসার পরিচালক হাফেজ এরশাদুল্লাহ, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, মাওলানা উসমান গণি আজাদী, মাওলানা আসাদুল্লাহ, মাওলানা শাহাদত হুসাইন, ফুলপুর সরকারী কলেজ রোডস্থ দারুল ইহসান কাসিমিয়া (এক্সিলেন্ট) মাদরাসার প্রিন্সিপাল (নিজ) মো. আব্দুল মান্নান প্রমুখ। বক্তব্যে মাওলানা ওয়াইজ উদ্দিন বলেন, আল্লামা নূরুদ্দীন গহরপুরী (রহ:)ও প্রথমে দাওরা জামাত খুলে দারুস সালাম নামে একটা মাদরাসা শুরু করেছিলেন। তিনি লন্ডনের বেলাল বাওয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে এক ঘটনা বয়ান করেন। সেখানে তিনি ৭০ বছরের এক ছাত্রকে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে লন্ডনে পড়াশোনা করতে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পড়ালেখা করলে বয়স কোন বাধা নয়। এসময় তিনি বিশেষ করে কাজিয়াকান্দার প্রিন্সিপাল, উপজেলা মসজিদের ইমাম ও এক্সিলেন্টের প্রিন্সিপালের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আল্লামা সুয়ূতী রহ: এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের উত্তম পন্থা হলো কুরআন তিলাওয়াত। আল্লামা আইনুদ্দীন বলেন, মনে হচ্ছে, আতরের ডিব্বা খোলা হচ্ছে। আশা করি সকলেই এর সুঘ্রাণ পাবে। মাওলানা জয়নুল আবেদীন বলেন, শায়খে বালিয়ার কাছে আমরা কম-বেশি সবাই ঋণী। এ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে আমরা প্রত্যেকেই যাতে একটা করে বই লিখতে পারি সেজন্যে দোয়া করবেন। মাওলানা আতাউল্লাহ বলেন, আমরা যাদের উপস্থিতি আশা করেছিলাম সকলেই এসেছেন বলে ধন্যবাদ জানাই। জামিয়ার পরিচালক মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী বলেন, পীর সাহেব হুজুর চলে গেলেও উনার রেখে যাওয়া আদর্শ যাতে বাকি থাকে সেই ফিকির থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের চিন্তা শুরু। তিনি আরো বলেন, আমন্ত্রিত মেহমানদের আলোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইস্তিকামাতের সাথে আমরা যাতে কাজটি করে যেতে পারি সেজন্যে সবাই দোয়া করবেন। সবশেষে প্রতিষ্ঠানটির মকবুলিয়াত কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করেন বর্তমান শায়খে বালিয়া আল্লামা এমদাদুল হক দামাত বারাকাতুহুম। আলোচনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কাড়াহা মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মাহমুদুর রহমান মানিক।

Share this post

PinIt
scroll to top