এক্সিলেন্ট থেকে এবার হাফেজ হলো দুই এতিম ছেলে

86248.jpg

এম এ মান্নান:
ময়মনসিংহের ফুলপুর দারুল ইহসান কাসিমিয়া (এক্সিলেন্ট স্কুল)মাদরাসা থেকে এবার হাফেজ হলো আলিফ ও মারুফ নামে দুই এতিম ছেলে। ৪ নভেম্বর বুধবার সকালে অত্র প্রতিষ্ঠানের হাফেজ ফখরুল ইসলামের নিকট শেষ সবকের মাধ্যমে তারা হিফজ সম্পন্ন করে। ২০১৭ সনের ২৫ নভেম্বর ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মাইনুদ্দীন তাদেরকে হিফজের সবক দিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৮ সনে এক্সিলেন্ট স্কুল থেকে ৩.৫৮ পেয়ে আলিফ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। হিফজ পড়া অবস্থায় সে কাজিয়াকান্দা কামিল মাদরাসায় ৭ম শ্রেনীতে অধ্যয়ণরত। আর মারুফ হাসান হালুয়াঘাটের বিলডোরা ইউনিয়নের পলাশকান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা পাস করে। সে পেয়েছিল ৪.২৫। সেও একই প্রতিষ্ঠানে ৮ম শ্রেণীতে অধ্যয়ণরত। তারা দুজনই একসাথে হিফজের সবক নিয়েছিল এবং একই সাথে হিফজ সম্পন্ন করে। ভবিষ্যতে তারা মাদরাসা লাইনে উচ্চতর ডিগ্রি হাসিল করে ভাল ও আদর্শ শিক্ষক হতে চায়। আলিফের গ্রামের বাড়ি ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের গোস্তাবহুলী গ্রামে। প্রায় দেড় বছর আগে তার বাবা শফিকুল ইসলাম মারা যান। তার মা জোসনা বেগম ও তার চাচা-জেঠারা তাকে দেখাশুনা করেন। ইলিয়াস নামে একজন ছোটভাই ও জান্নাত নামে আলিফের একজন ছোট বোন রয়েছে। ওরা গ্রামের প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করে। আর মারুফ হাসান বিলডোরা ইউনিয়নের আতুয়াজঙ্গল গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। প্রায় ৫ বছর আগে তার মা মনোয়ারা বেগম মিনি মারা যান। তিনি রেখে গেছেন আরো দুজন মেয়ে। ওরা মারুফের বড়। উনাদের বিয়ে হয়ে গেছে। বাবা আব্দুল জলিল ও তার নতুন স্ত্রী মাহবুবা তাকে খুবই আদর করেন। বুঝতে দেন না যে তার মা নেই। তাদের স্নেহে মারুফ লালিত পালিত হচ্ছে। সে এবং আলিফ দুজনই খুব মেধাবী ছাত্র। আলিফের বাবা বহুবার এ মাদরাসায় বেতন নিয়ে এসেছে। তারা আজ জীবিত থাকলে তাদের ছেলেদের হিফজ সম্পন্নের কথা শুনে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। আল্লাহ তাদের জান্নাতে আ’লা মাক্বাম দান করুন। তারা দুজনই সকলের দোয়াপ্রার্থী।
ছবি: তুলনামূলক খাটোজন আলিফ আর পরেরজন মারুফ।

Share this post

PinIt
scroll to top