নবীর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ব্যঙ্গ বিদ্রূপ বিষয়ে বাংলাদেশকে প্রতিবাদ করা উচিৎ- আব্দুল মান্নান

44704.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের ফুলপুর সরকারী কলেজ রোডস্থ দারুল ইহসান কাসিমিয়া (এক্সিলেন্ট) মাদরাসার প্রিন্সিপাল ‘দৈনিক ময়মনসিংহ’ অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, গত ১৬ অক্টোবর সেমুয়েল প্যাটি নামে একজন ফরাসী ইতিহাস শিক্ষক ক্লাসে আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করেছে, যা কোন মুমিন মেনে নিতে পারে না। মেনে নিতে পারেননি চেচেন বংশোদ্ভূত তরুণ আব্দুল হকও। যে কারণে তিনি ওই প্যাটিকে কতল করেন। এজন্যে তাকেও শহীদ হতে হয়েছে। ইচ্ছা করলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিষয়টির সুন্দর সূরাহা দিতে পারতেন কিন্তু তিনি তা না করে বরং মুসলমানদের বিরুদ্ধে ও মুসলমানদের প্রাণপ্রিয় নবীর বিরুদ্ধে প্যাটি গ্রুপকে আরো উস্কে দিলেন, বিষোদগার করলেন। প্যাটির ন্যাক্কারজনক কাজের সমর্থন জানিয়ে ম্যাক্রোঁ বলে ফেললেন, ‘ফ্রান্স ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা বন্ধ করবে না। তিনি আরো বলেন, ‘ইসলাম সংকটে রয়েছে।’ এছাড়া নির্লজ্জভাবে তিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানী ও পেরেশানি করা শুরু করেন। ওই কুখ্যাত শিক্ষককে বীর আখ্যা দিয়ে ম্যাক্রোঁ মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এমন ধৃষ্টতার প্রেক্ষিতে এক প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, ‘তার মানসিক চিকিৎসা দরকার।’ এছাড়া পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমরান খান বলেছেন, এটা দুঃখজনক। কেননা, মহানবী (সা:) এর কার্টুন প্রদর্শন মুসলিমরা অবমাননা হিসেবেই দেখে।
শুধু এবারই না, এর আগেও ২০১৫ সনের ৭ জানুয়ারি বিতর্কিত কার্টুন ছাপার জেরে প্যারিসে শার্লি এবদু কার্যালয়ে ঢুকে গুলি চালিয়ে ১২ জনকে হত্যা করে দুই মুসলিম। তখন ফ্রান্সের বিশিষ্ট কার্টুনিস্টও মারা গিয়েছিল। এছাড়া ওই বছর নভেম্বরে ফ্রান্সের একটি থিয়েটারে ও প্যারিসের আশপাশ এলাকায় গুলির ঘটনায় আরো ১৩০ জন নিহত হয়। গত ১৬ অক্টোবরের ঘটনার জের ধরে ফ্রান্স থেকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং মুসলমানদেরকে তাদের দেশের জন্যে হমকি বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। মাওলানা আব্দুল মান্নান বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশ চুপ। বাংলাদেশকেও এর প্রতিবাদ করা উচিৎ। আমি ব্যক্তিগতভাবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ফ্রান্সকে এজন্যে মাফ চাইতে হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top