প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অ্যাপ তৈরি করে সাড়া জাগিয়েছেন ফুলপুরের ক্ষুদে কম্পিউটার বিজ্ঞানী শিফা

Shifa-930.jpg

এম এ মান্নান :
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘এক পলকে শেখ হাসিনা’ শিরোনামে একটি অ্যাপ তৈরি করে সাড়া জাগিয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভার আমুয়াকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কৃতি ছাত্রী আরাবী বিনতে শফিক (শিফা)। শিফার বাবা মো. শফিকুল ইসলাম ফুলপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ছিলেন। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার। ফুলপুরে তিনি ২০১৩ সন থেকে ২০২০এর শুরু পর্যন্ত ছিলেন। অল্প কিছুদিন আগে তিনি সুনামগঞ্জে পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়েছেন। তবে শিফা আমুয়াকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ে ভর্তি হওয়ার সুবাদে তার মা কামরুন্নাহার লাকী শিফাকে নিয়ে এখনো ফুলপুরেই উপজেলা কোয়ার্টারে রয়ে গেছেন। শিফাই তাদের একমাত্র সন্তান। শিফার বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার মহিউদ্দিন নগর গ্রামে হলেও চাকরির সুবাদে শিফার জন্ম হয় ভৈরবে।

সে সবসময় কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকতে পছন্দ করে। এভাবে এক সময় শিফা কম্পিউটারে পারদর্শী হয়ে ওঠে। ইন্টারনেটে ব্রাউজ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্বন্ধে তার আগ্রহ বাড়ে। এ আগ্রহ থেকেই শিফা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অ্যাপ তৈরি করে। সর্বমোট ১২টি শিরোনাম সম্বলিত এ অ্যাপে তুলে ধরা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জন্ম, বেড়ে ওঠা, শিক্ষা জীবন ও রাজনৈতিক দিকসহ নানাবিষয়।

শিফার বাবা শফিকুল ইসলাম জানান, একবার আনুমানিক রাত ২টার সময় শিফার কান্নার আওয়াজে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে হঠাৎ কেঁদে ওঠে শিফা। কি হয়েছে জানতে চাইলে শিফা জানায় যে, সে স্বপ্নে দেখেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মারা গেছেন। এখন দেশের কি হবে? পদ্মাসেতুর কাজ কে কমপ্লিট করবে? ইত্যাদি বলে সে কাঁদতেছিল। টিভিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও এক্টিভিটিজ দেখে তাঁকে মনেপ্রাণে ভালবেসে ফেলেন শিফা। সেই থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা ও ভাবনা শিফার মনে কাজ করতো। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সে বিভিন্ন স্বপ্ন আঁকতো তারই মনের আঙিনায়।

এরই ধারাবাহিকতায় শিফা ওই অ্যাপ তৈরি করেন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি শিফা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়েও অ্যাপ তৈরি করার চিন্তায় রয়েছেন। ক্লাসের বাইরে শিফা বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও গল্পের বই পড়ে সময় কাটায়। তার পছন্দের খাবার কাচ্চি বিরানী পাস্তা। শিফার দাদা মরহুম আব্দুর রশিদ ও নানা আবুল হাশেম মারা গেছেন। তবে দাদী রহিমা রশিদ ও নানী নূরুন্নাহার নলেজ আজও আছেন ভালই। আরাবী বিনতে শফিক শিফার সাথে কথা হলে সে ভবিষ্যতে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করে দেশের সেবা করবে বলে জানায়। এছাড়া এতিম, অসহায় ও বঞ্চিত পথশিশুদের নিয়ে কাজ করতে চায় শিফা। শিফা জানায়, খুব শিগগিরই সে ‘ছোটদের বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর একটি অ্যাপ অবমুক্ত করবে। এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট সার্চ করে তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছে শিফা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তার নির্মিত অ্যাপ ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নজরে পড়েছে বলেও জানা গেছে। ১৮ অক্টোবর ঢাকায় শেখ রাসেলের জন্মদিনে অংশ নিতে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সেই অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরাবী বিনতে শফিক শিফার কথা হবে বলেও সূত্র জানায়।

শিফার মত মেধাবী শিশু বিরল। তারপরও তেমন যে নেই তা নয়। আমাদের সমাজের পরতে পরতে এমন শিফা আরো অনেক রয়েছে। তাদের সুপ্ত মেধাকে বিকশিত করতে সরকারের উর্ধ্বতন মহল ও সমাজের ধনাঢ্যদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top