ফুলপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়রপদে আ’লীগের ৬, বিএনপির ৪ ও স্বতন্ত্র ২ প্রার্থীর প্রচারণা শুরু

Amin46.jpg

এম এ মান্নান:
ময়মনসিংহের ১নং ক্যাটাগরির ফুলপুর পৌরসভার নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তাই আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র পদে ইতোমধ্যে ১১ প্রার্থীর প্রচারণা শুরু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুয়েকজন বাদে প্রায় প্রত্যেকেরই পোস্টার এখন পথে প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ মোটর সাইকেল শো ডাউন করছেন আবার কেউ কেউ পৌরসভার প্রতিটি পাড়া মহল্লায় গিয়ে গিয়ে জনসংযোগ করছেন। ভোটারদের মন জয় করতে দিয়ে যাচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। প্রচারণায় থাকা এই ১১ প্রার্থীর মধ্যে শুধু আওয়ামী লীগেরই রয়েছেন ৬ জন, বিএনপির ৩ জন ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী রয়েছেন ২ জন। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় নমিনেশন কে পাবেন বা কয়জন মাঠে টিকবেন তা এখনও স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের ৬ প্রার্থীর মধ্যে একজন হলেন, ফুলপুর পৌরসভার প্রথম ও সাবেক দুইবারের নির্বাচিত মেয়র মোঃ শাহজাহান।

দলে তার বিভিন্ন ভাইটাল পদপদবি রয়েছে। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মানিত সদস্য। ছাত্রজীবনে তিনি ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। পরবর্তীতে ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একবার কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা আধুনিক পৌরসভার রূপকার এই সাবেক মেয়র ফুলপুর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে পুনরায় মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্যে মাঠে নেমেছেন এবং প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এবার নির্বাচিত হতে পারলে ফুলপুরকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলবো।

এছাড়া ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, ফুলপুর থানা পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও ফুলপুর উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সম্মানিত সদস্য শশধর সেন বরাবরের ন্যায় এবারও মেয়র পদে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি সকলের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম এ হাকিম সরকারের সুযোগ্য পুত্র ফুলপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তুখোড় নেতা এটিএম মনিরুল হাসান (টিটু) বি. কম (অনার্স) এম. কম মেয়র পদে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি গত নির্বাচনেও মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন। উনাদের সাথে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে এবার নতুনমুখ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক দুইবারের নির্বাচিত ফুলপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রাসেল আহমেদ রয়েল,

ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ফুলপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ফুলপুর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক নির্বাচিত ভি.পি. দেলোয়ার।

এবং সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল নাগরিক সেবা নিশ্চিতের অঙ্গীকার নিয়ে মেয়র পদে মাঠে নেমেছেন দুইবারের নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর মো. রফিকুল ইসলাম।

তারা প্রায় সবাই নিজেদেরকে মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের একান্ত আস্থাভাজন ও তাদের দল বর্তমানে ক্ষমতায় থাকায় বেশি কাজের সুবিধা পাবেন, এলাকায় বেশি উন্নয়ন হবে এমন আশ্বাস দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)রও একাধিক প্রার্থী অর্থাৎ তিন নেতা মেয়র পদে লড়ছেন। তাদের একজন হলেন বর্তমান মেয়র মোঃ আমিনুল হক।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ফুলপুর পৌর শাখার সভাপতি ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য। এছাড়া ফুলপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন এই বিএনপি নেতা। ফুলপুর পৌরসভাকে একটি আধুনিক মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে এবং উন্নয়নের ধারা চলমান ও গতিশীল রাখতে তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার সাথে গত পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন সাবেক মরহুম উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মতির ছোটভাই, পয়ারী ইউনিয়নের বার বার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আবুল কাশেমের ঔরষজাত সন্তান বিএনপি নেতা মোহাম্মদ রকিবুল হাসান সোহেল।

সোহেল এবারও আগেভাগেই মাঠে নেমে রয়েছেন। কর্মপরিকল্পনার ছক তৈরি করে তিনি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ‘উন্নয়ন নয় রূপকথা, দরকার নেতৃত্বের সামঞ্জস্যতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোটারদের সমস্যার কথা শুনে যাচ্ছেন ও তা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মেয়র পদে ভোট প্রার্থনা করছেন তিনি।

এছাড়া ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কারা নির্যাতিত নেতা মোঃ এমদাদ হোসেন খান (মাষ্টার) মেয়র পদে প্রচারণা চালিয়েছেন। দলে তার অনেক অবদান ও বিভিন্ন ভাইটাল পোস্ট রয়েছে। তিনি ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি এবং ফুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী ফুলপুর প্রেসক্লাবেরও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এমদাদ হোসেন খান। গরিব, দুঃখী মহনতি মানুষসহ সর্বস্তরের জনতার বসবাসযোগ্য একটি মডেল পৌরসভা নির্মাণের লক্ষ্যে তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। তাছাড়া ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য, ফুলপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক বিআরডিবি চেয়ারম্যান মরহুম হাফিজুল ইসলামের সুযোগ্য পুত্র মো. আমিনুল ইসলাম লিটন মেয়র পদে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তিনি ফুলপুর পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি, জেলা যুবদলের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক, ফুলপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ফুলপুর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। নির্যাতিত, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত আধুনিক পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও দোয়া প্রত্যাশা করেন। এই দুই দলের বাইরেও স্বতন্ত্রভাবে মেয়র পদে নির্বাচন করতে মাঠে রয়েছেন দুইজন। তাদের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এম. এইচ. ইউসুফ।

তিনি গত পৌরসভা নির্বাচনেও মেয়র পদে নির্বাচন করেছেন। এবারও ভোটারদের নজর কাড়তে আগেভাগে পৌরসভার অলিগলিতে পোস্টার ছড়িয়ে দিয়েছেন। তারুণ্যের প্রথম ভোট উন্নয়নের স্বার্থে হোক, শান্তির পক্ষে হোক এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি সকলের দোয়া চেয়েছেন। এছাড়া কোন প্রতিশ্রুতি নয় বরং উন্নয়নের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার সাঁটিয়েছেন মোঃ এবাদুল ইসলাম।

ফুলপুর পৌর এলাকার সকল ওয়ার্ডের দিনমজুর, শ্রমিক, মেহনতি ও গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ও তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অঙ্গীকার নিয়ে মেয়র পদে সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন এবাদুল।

Share this post

PinIt
scroll to top