ক্ষেপে গেলেন প্রতিবাদী সাংবাদিক রবিউল করিম

Robi-654.jpg

এম এ মান্নান :

ক্ষেপে গেলেন ময়মনসিংহের ফুলপুরের প্রতিবাদী সাংবাদিক লেখক মুক্তিযুদ্ধের গবেষক এটিএম রবিউল করিম রবি। দেশব্যাপী ধর্ষণ উৎসবের প্রেক্ষাপটে বুধবার তার ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি নিজ দলের দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ করেন। ‘নষ্ট বিবেক – নিষ্ঠুর মানুষ – স্তম্ভিত জাতি, দেশপ্রেম শুধু ঠোঁটে’ শিরোনামে তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
নষ্ট বিবেক – নিষ্ঠুর মানুষ – স্তম্ভিত জাতি। দেশপ্রেম শুধু ঠোঁটে।।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়ে দেশব্যাপী তোলপাড়ের মধ্যেই খবর আসে লক্ষীপুরে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক বিধবা। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। নেয়াখালীতে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় যেখানে সরকারী দল, সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে দারুণভাবে হৈচৈ শুরু হয়েছে, সে সময় ধর্ষণের অভিযোগ এলো সিলেটের শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ভিডিও ছাড়ার হুমকি দেন।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবব দেখে মনে হচ্ছে, কি হচ্ছে দেশে? দেশ থেকে লজ্জা – শরম ও আইনের শাসন বলতে কোন কিছুর বালাই নেই। দেশটা গুটি কয়েক সন্ত্রাসীর হাতে জিম্মি! এই জিম্মি দশার পিছনের কাহিনীটা কি তা দেশের কোন নাগরিকের অজানা নয় বলে আমি মনে করি। সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার শাসকদলীয় নেতা নামধারীর হাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে হতবাক হওয়ার মত নির্যাতনের ঘটনা দেশবাসীর সামনে আসে। যাতে বিবেকবান সকল নাগরিক স্তম্ভিত।
এখন প্রশ্ন জাগে, কেন বার বার শাসকদলীয় নেতা – কর্মীদের দ্বারা এ রকম লজ্জাজনক ঘটনা ঘটে? তার কয়েকটি কারণ আমার এ রকম বলে মনে হয়: প্রধান কয়েকটি কারণ এখানে তুলে ধরলাম। সবাই হয়তো আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন।
১. স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নেতাদের অতিরিক্ত অর্থ লোভ। ২. নিজ দলের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতা – কর্মীদের বাদ দিয়ে নেতার নিজের স্বার্থ রক্ষার্থে নিজস্ব অনুসারী বা হাইব্রীড নেতা – কর্মী দলে ভিড়ানো। হোক সে জামায়াত, বিএনপি অথবা ফ্রিডম পার্টির অনুসারী। তাতে তাদের কোন যায় আসে না। ওই সমস্ত লোকজন দলে ভিড়েই শুরু করে আখের গোছানের ফিকির। ৩. সামাজিক অবক্ষয়। ৪. সিনেমা নাটকে অসম্ভব দৃশ্য দেখে যুব সমাজের ভালটা গ্রহণে ব্যর্থতা। ৫. আইনের শাসন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষের ব্যর্থতা । ৬. কোন অপরাধ সংঘটনে সামাজিক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের অভাব। ৭. শিক্ষা ও অর্থ। ৮. নেতা – কর্মীদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার অভাব। উপরোক্ত কারণগুলি ছাড়াও আরো কিছু কারণ বিদ্যমান আছে।
এই কয়েকদিনের ব্যবধানে সিলেটের দুইটি ও বেগমগঞ্জের ঘটনাসহ দেশে সংঘটিত অনেক ঘটনায় সরকার দলীয় নেতা – কর্মীদের নির্লজ্জভাবে জড়িত থাকার একটিই কারণ “বড় ভাইয়ের আশির্বাদ “। নেতার সস্তা ডায়লগ, তোরা যা ইচ্ছা তাই করবি, তোদের জন্য সাত খুন মাফ। অনেক সময় নেতার ওই রকম কথা বাস্তবে শতভাগ ফলে যায়। তাতে ওই সমস্ত অপরাধীরা বিপুল উৎসাহে যে কোন অপরাধ অবাধে চালিয়ে যেতে থাকে। অর্থ আদায়ের প্রধান নিয়ামক মাদক বিক্রি, জমি দখল ও চাঁদাবাজী। ওই সমস্ত কাজে ওদের মতো নিরাপদ কর্মী পাওয়া সহজ নয়। তাদের ব্যবহার করে বড়ভাইয়েরা রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। প্রত্যেক সংসদীয় এলাকায় দুই – তিনজন করে চামচা আছেন যাদের মাধ্যমে অর্থ কামাই করেন বড়ভাই। অতি সহজে অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে শিকার করেন বড়ভাই বা নেতারা। উনারা মনে করেন জনগণ কিছুই বুঝে না। আসলে জনগণ সবই বুঝেন। শুধু মুখ খুলে কিছু প্রকাশ করেন না। সময় মতো সঠিক কাজের অপেক্ষায় থাকেন জনগণ। পিএসদের দাপটে নেতার ধারেকাছে যাওয়াটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। বড়ভাই যে আস্তে আস্তে জনবিচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছেন তা তিনি যখন বুঝেন তখন আর সময় থাকে না। তখন দলের ভরাডুবি হয়। হারায় ক্ষমতা।
অনেকে মনে করেন, আওয়ামীলীগ সরকার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকায় একটি দুর্বৃত্তায়নের শ্রেণী তৈরী হয়েছে। যারা হিরোইন, ইয়াবা, গাজাসহ বিভিন্ন মাদক ও অবৈধ কর্ম জায়েজ করার জন্য ক্ষমতাশীল দলই একটি নিরাপদ স্থান ভাবে। হাইব্রীডদের অত্যাচারে দলের অনেক ত্যাগী নেতা – কর্মীরা দিশেহারা।
আমাদের দেশপ্রেম শুধু ঠোটে। অন্তরে নেই। দেশপ্রেমের বড় অভাব! দেশটাকে লুটেপুটে খাওয়াই হলো আমাদের প্রধান চেষ্টা। যারা দেশের জন্য কাজ করতে চায়, তাঁদের হাত ও মুখ শক্ত করে বেধেঁ দেওয়া হয়। এসব কিছুর পিছনে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়ে গিয়েছে। যা কোন ভাবেই কাম্য নয় সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য। আমাদের (কতিপয়) চরিত্র এতো নিচে গিয়েছে যে, আমরা কোন জঘন্যতম অপরাধ করেও লজ্জা পাইনা। এমন কি তার ভিডিও প্রকাশ করে বীরত্ব জাহিরে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আমাদেরকে ওই সকল গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
আমি উক্ত ঘটনাগুলির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সরকার শক্ত হাতে সকল অপকর্ম বন্ধ করুক। আমরাও ভাল হয়ে যাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর একটি আবাস গড়ার লক্ষে।

Share this post

PinIt
scroll to top