বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল্লামা মাহমূদুল হাসান

Mahmud-737.jpg

এম এ মান্নান :
বাংলাদেশের কওমী মাদরাসাসমূহের সর্ববৃহৎ শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রবীণ আলেম জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ি মাদরাসার মুহতামিম গুলশান কেন্দ্রীয় (আজাদ) মসজিদের খতীব আল্লামা মাহমূদুল হাসান দামাত বারাকাতুহুম। এতে সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন দেশের  বরেণ্য আলেম মাওলানা নূর হুসাইন কাসেমী আর মহাসচিব নির্বাচিত হন মাওলানা মাহফুজুল হক।

আজ  শনিবার (৩ অক্টোবর) বেফাকের পূর্ব নির্ধারিত আমেলা মিটিংয়ে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে তারা এসব পদে নির্বাচিত হন। আল্লামা মাহমুদুল হাসান বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথে গঠনতন্ত্র অনুসারে ক্বওমী মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সরকার গঠিত সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়ারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। বেফাকের প্রধানই হাইয়াতুল উলয়ার চেয়ারম্যান হবেন। গঠনতন্ত্রে এমনটাই রয়েছে। আজকে যাত্রাবাড়ির কাজলার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় বেফাকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আমেলা মিটিংয়ে প্রায় ১২৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের অধিকাংশেরই প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি নির্বাচিত হন। তিনি ৬৬ ভোট পেয়ে জয় নেন। লিখিত ভোটে তিনি জয়ী হয়েছেন। বেফাকের সভাপতি পদে অরাজনৈতিক ব্যক্তিই পছন্দ আমেলা সদস্যদের। পরবর্তিতে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সভাপতি নির্বাচনের বিষয়টি সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছে বেফাকের একটি সূত্র। তবে কবে নাগাদ শুরা সদস্যদের উপস্থিতি কাউন্সিল ডাকা হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

বেফাকের সার্বিক উন্নতি ও বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে সবাই মিলে সুষ্ঠু সমাধান করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন আমেলা মিটিংয়ে। ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকেও সবাই সার্বিক সহযোগিতার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। অপরদিকে, বেফাকের মহাসচিব ও কো-চেয়ারম্যান পদ নিয়েও আমেলা বৈঠকে বেশকিছু আলোচনা হয়েছে। বেফাকের গঠনতন্ত্র ও নিয়ম মেনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসা হবে বলেও জানা গেছে। তবে সদ্য নির্বাচিত ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সামনে একটি সংকটকালীন সময় রয়েছে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বেফাকে প্রশ্নফাঁস, বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রকাশিত কল রেকর্ড ও বিভিন্ন বিষয়ে বেফাকের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা ও এসব বিষয়ে লবিং ও গোষ্ঠিতন্ত্র নিয়ন্ত্রণের একটি চ্যালেঞ্জ তার সামনে থেকেই যাবে।
প্রসঙ্গত : বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষাবোর্ড ও প্রতিষ্ঠান। বেফাকের অধীন ছয়টি স্তরের সারা দেশের ১৩ হাজার মাদ্রাসা আছে। এসব মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। কওমি শিক্ষার সনদের সরকারি স্বীকৃতি থাকায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই সুবাদে সরকারের সঙ্গে কওমি আলে​মদের যোগাযোগও বেড়েছে। উল্লেেখ্য,  গত ১৮ সেপ্টেম্বর আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ) -এর ইন্তিকালে সভাপতির পদটি খালি হয়। তথ্য: অনলাইন থেকে সংগৃহীত।

Share this post

PinIt
scroll to top