ফুলপুরে অপরিকল্পিত ফিসারীর কারণে জলাবদ্ধতায় শতাধিক পরিবার

Pond-and-Water-Kuripara-copy.jpg

এম এ মান্নান:
ময়মনসিংহের ফুলপুরে অপরিকল্পিত ফিসারীর কারণে জলাবদ্ধতার শিকার শতাধিক পরিবার। বছরকে বছর ফসল করা থেকে বঞ্চিত কৃষকরা। পঁচা পানি মাড়িয়ে তাদের বাড়িঘরে যেতে হয়, কারো বা পরের বাড়িতে ভ্যানগাড়ি রেখে দু:শ্চিন্তায় করতে হয় রাত্রিযাপন, আবার কারো পোলাপানের লেখাপড়াই হচ্ছে না পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করে ফিসারী করার জন্যে। হাজার বছর ধরে পানি প্রবাহিত হওয়ার যে পথ ছিল ফিসারী করে সে পথ বন্ধ করায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জানা যায়, ফুলপুর থেকে পাইকপাড়া, নগুয়া ও কুঁড়িপাড়া হয়ে রফিকুলের বাড়ির পাশ দিয়ে সরকারি রাস্তাটি ডেফুলিয়া বাজারে গিয়ে মিলিত হয়েছে।

ওই রাস্তাটি বিভিন্ন স্থানে স্থানে ভেঙে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে এবং এ রাস্তা থেকে একটি হালট রফিকুলের বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে চাউইল্যা বিলে গিয়ে নেমেছে। এ ব্যাপারে ফুলপুর উপজেলা দোকান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাঁশাটী গ্রামের মো. রুহুল আমিন বলেন, এই সরকারি হালটটি বর্তমানে বেদখল হয়ে গেছে। এর কারণেই জলাবদ্ধতায় আমরা অনেক দু:খ কষ্টে আছি। এই হালটটা উদ্ধার করে অপরিকল্পিত ফিসারীর পাড় খুলে দিয়ে পানি বিলে নামার সুবিধা করে দিলেই আমাদের দু:খ ঘুচবে। এ সর্বনাশা ফিসারীটি কুঁড়িপাড়া গ্রামের প্রতাপশালী কৃষক রফিকুল ইসলাম, মতিউর রহমান ও আব্দুর রশিদ নামে তিন ভাইয়ের। তারা তিনভাই মিলে কারো কথা তোয়াক্কা না করে ফিসারীর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে ভোগান্তিতে ফেলে রেখেছেন শতাধিক পরিবারকে।

এছাড়া তারা সরকারি রাস্তা ও হালটের উপর থাকার ঘর, গোয়ালঘর ও খড় রাখার ঘর বানিয়ে রাস্তা বেদখল করে রেখেছেন। সরেজমিন পরিদর্শন করতে গেলে কথা হয় ভুক্তভোগী অনেকের সাথে। বাঁশাটী গ্রামের আখতারুজ্জামান খান, সিরাজুল ইসলাম খান ও আমানত খান নামে তিন কৃষক বলেন, এইনো ফিসারী করার পর থাইক্যা আমরা কোন ফসল করতারি না। আমরার ক্ষেত অহন বিল অইয়া গেছে। বছরের পর বছর ফরা থাহে। এক মুইট ধান ফাই না। আব্দুল খালেক নামে এক মুসল্লি বলেন, ওই তিন ভাইয়ের কারণে আমরা মসজিদেও যাইতারি না। ফিসারী ও গোবরের স্তুপ দিয়ে রাস্তা নষ্ট কইরালছে। আডু হমান প্যাক অইয়া গেছে। এইন্দা যাওনের কোন ভাউ নাই। রাস্তার বাইরে দিয়াও যাওন যায় না। বাঁশ বাইন্ধা থইছে।

শেখ ফরিদ নয়ন নামে একজন বলেন, মসজিদে চলাচলে অসুবিধার কারণে পুব পাড়ার মুসল্লিরা নতুন আরেকটি মসজিদ বানাইবার ভাউ করতাছে। বাঁশাটী গ্রামের নাজিম উদ্দিন বলেন, আমাদের বাঁশাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রধান রাস্তাডা তারা কাইট্টালছে। ইস্কুলের পোলাপান যাতায়াত করতারে না। ভ্যান চালক নাজমুল ও তার প্রতিবেশী ফারুক এ প্রতিবেদককে হাত ধরে টেনে নিয়ে দেখায় তাদের দুর্দশার দৃশ্য। তাদের ঘর দুয়ারে পানি। কোলের বাচ্চা ও গরু বাছুর নিয়ে কষ্টে চলছে তাদের দিন।

সরকারি রাস্তা বেদখল করে ঘর নির্মাণ, পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে ফিসারী করা ও রাস্তার উপর গোবরের স্তূপের কারণে মুসল্লিসহ পথচারীদের সমস্যা সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ উদ্দিনের ছেলে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র মেজমানুল হক রিজভী ও মতিউর রহমানের ছেলে বওলা কলেজের ছাত্র আনারুল ইসলাম কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরার নিকট বার বার মোবাইল করে ও মোবাইলে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মেসেজ পাঠালেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top