হালুয়াঘাটে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল মুসল্লিরা, ঝড়ে উড়িয়ে নিল মসজিদের চাল

Kandapara-Masjid.jpg

এম এ মান্নান :
অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল মুসল্লিরা আর হালকা ঝড়ে উড়িয়ে নিল মসজিদের চাল। তবে অক্ষত রয়ে গেছে মসজিদের বারান্দা, বারান্দার উত্তরপাশে ইমামের কক্ষ, মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণপাশে লম্বা অজুখানা, পানির ট্যাঙ্কি ও মসজিদের চালের সাথে লাগা গাছপালাসহ সব। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কিসমত নড়াইল কান্দাপাড়া জামে মসজিদে সোমবার ফজরের নামাজের সময় এ অলৌকিক ঘটনা ঘটে। ঝড়ে শুধু মসজিদটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর কোন কিছু নয়। অল্পবয়সী ইমাম হাফেজ বেলাল তখন তার কামরায় ঘুমাচ্ছিলেন। মুসল্লিরা তাকে ডেকেডুকে নিজেরাই নামাজ শুরু করেন। ভোর ৫টায় মসজিদের পুবের বাড়ির মুসল্লি তৈয়ব আলী মুন্সির ইমামতিতে ফজরের ফরজ নামাজ শেষ হয়। মুসল্লি হিসেবে তখন উপস্থিত ছিলেন মাইন উদ্দিন ও নূর ইসলাম। নামাজ শেষ করে তৈয়ব আলী মুন্সি মুসল্লিদের দিকে ফিরে তাসবীহ পাঠ শুরু করেন কেবল। তখন হঠাৎ টিনগুলো একটু ঝনঝনিয়ে শব্দ করে ওঠে। মুনাজাত দূরের কথা তাসবীহাত শেষ করারও সময় হয়নি তাদের। এরই মাঝে কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘরের একটি পাইর তৈয়ব আলী মুন্সির ডান হাতে পড়ে যায়। তখন বের হতে চাইলে দরজায় ধাক্কা লেগে মাইন উদ্দিন নামে আরেক মুসল্লি তার হাতে ব্যথা পান। তবে মুসল্লি নূর ইসলাম কোন ব্যথা পাননি। তৈয়ব আলী মুন্সি বলেন, সুন্নাত পড়ে ইমাম সাইবেরে ডাইক্যা না পাইয়া নামাজ শুরু করছি। সালামডা ফিরায়া তাসবীহ পড়ারও সুযোগ পাই নাই। এর মধ্যেই চালডার মধ্যে ঝনঝনাইয়া উঠছে। এক মিনিটও লাগে নাই। দেহি সব অন্ধকার অইয়া গেছে। পরে আমরা মসজিদ থেকে বাইরইবার লাইগ্যা দরজা খুইজ্যা পাই না। মুসল্লি মাইন উদ্দিন বলেন, এইডা বাহু বুঝানি যাইতো না, কী যে অইলো! সব ঠিকটাক রইছে। খালি চালডি খুইল্যা লইয়া গেছেগা। বাইরনির সময় দরজাত বারি লাইগ্যা আমার হাতটার মধ্যে একটু ব্যথা পাইছি। বাইরইয়া দেহি মসজিদের চাল নাই। পরে আমরার ডাক চিৎকারে আশপাশের মানুষ দৌঁড়ায়া আসে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের পাড়া ও গ্রামের লোকজনও মসজিদটি একনজর দেখতে ভীড় করেন। মধ্য নড়াইলের নিজাম উদ্দিন মন্ডল বলেন, আল্লাহর কী কুদরত! চালের সাথে লাগা গাছের একটা ডালও পর্যন্ত ভাঙলো না। গিয়া দেইখ্যা আইলাম। এর মধ্যে কি রহস্য লুকায়িত মহান আল্লাহই তা ভাল জানেন। কিসমত নড়াইলের আলীম উদ্দিন ডাক্তারের ভাতিজি জামাই সুজন বলেন, আমি তখন মাছ ধরার বাইর আনতে উত্তরের বন্দে গেছিলাম। দেহি ক্ষেতের পানি উলটপালট অইয়া যাইতাছে আর আগুনের ফুরুঙির মত উড়তাছে। পরে ক্ষেতের আইলো ধইরা কতক্ষণ শুইয়া রইছি। মসজিদের পাশের বাড়ির মরহুম শহর উদ্দিন মুন্সির ছেলে আবুল হাশেম বলেন, একটু বেইল উঠলে পরে আমরা পশ্চিমের বন্দে পানির মধ্যে থেইক্যা খুইজ্যা খুইজ্যা টিনগুলো টুহায়া টুহায়া আনছি। সব টিন মুচড়ে বেঁইক্যা গেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা আপাতত: মসজিদের বারান্দায় নামাজ চালায়া যাইতাছি। জরুরিভিত্তিতে মসজিদটি সংস্কার করা দরকার। হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সায়েম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি মুসল্লিদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আপনারা চিন্তা করবেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মসজিদটি সংস্কার করা হবে। এসময় ৮নং নড়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী আনোয়ারুল ইসলাম মানিক তার সাথে ছিলেন।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top