যমুনা গ্রুপের মালিক তাঁর মালিকের নিকট চলে গেছেন

Jamuna-copy.jpg

এম এ মান্নান :
দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা ও যমুনা টেলিভিশনসহ যমুনা গ্রুপের ৪১টি প্রতিষ্ঠানের মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাবুল (৭৪) আর নেই। তিনি তাঁর মালিক মহান আল্লাহর নিকট চলে গেছেন। আল্লাহ তায়ালার ডাক এলে কারো দেরি করার সুযোগ নেই। সুস্থ্য থাকলেও অসুস্থ্য থাকলেও যেতেই হয়। তিনিও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সোমবার বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ বাদ যুহর যমুনা ফিউচার পার্ক জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজাশেষে তাকে বনানী গোরস্থানে দাফন করা হবে। তার মৃত্যুতে দেশের শীর্ষজনরা শোক জানিয়েছেন। নুরুল ইসলাম বাবুল একজন সফল শিল্প উদ্যোক্তা ও দানবীর ছিলেন। তার স্ত্রী সালমা ইসলাম সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমান এমপি। ছেলে শামীম ইসলাম যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর তিন মেয়ে যথাক্রমে সারীয়াত তাসরীন সোনিয়া, মনিকা নাজনীন ইসলাম ও সুমাইয়া রোজালীন ইসলাম যমুনা গ্রুপের পরিচালক। জানা যায়, ১৪ জুন নুরুল ইসলাম বাবুলের করোনা পজিটিভ আসে। পরে ওই দিনই তাকে চিকিৎসার জন্য এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, কিডনি খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। পরে তাঁর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ, চীন ও সিঙ্গাপুরের নেতৃত্বে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এছাড়া চীনের ৪ জন ও সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসাপাতালের ২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে তার চিকিৎসায় পরামর্শ দেন।কিন্তু কিছুতেই শেষরক্ষা হলো না। প্রচুর সম্পদের মালিক বাবুলকে তার নিজের মালিকের নিকট চলে যেতে হয়েছে। বুদ্ধিমানদের প্রত্যেককেই এখান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিৎ এবং শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নেওয়া উচিৎ। কেননা, বাবুলের মত যে কোন সময় যে কাউকে মালিকের ডাকে সাড়া দেওয়া লাগতে পারে।
জানা যায়, ১৯৭৪ সালে নুরুল ইসলাম বাবুল যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। মেধা, দক্ষতা, পরিশ্রম ও সাহসিকতায একে একে শিল্প এবং সেবা খাতে তিনি
৪১টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে লক্ষাধিক মানুষ তার যমুনা গ্রুপে কাজ করছেন।
এশিয়ার সবচেয়ে বড় শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কের মালিক তিনি (যেখানে গেলে মানুষ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়)। এছাড়া নির্মাণাধীন মেরিয়টস হোটেলসহ শিল্প ও সেবা খাতে তার অবস্থান এখনও শীর্ষে।
সর্বশেষ করোনার চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকার অনুদানও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই। সময় হলে মালিকের ডাক এলে শুধু যমুনা গ্রুপের মালিকের নয় আমাদের সবাইকেই এভাবে চলে যেতে হবে। আমি মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে জান্নাতে একটু জায়গা করে দেন আর মরার সময় আমাদেরকেও ঈমানটুকু নিয়ে যাওয়ার তাওফীক দেন।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top