অবশেষে ইমনকে তুলে দেওয়া হলো পোষ্যপিতার হাতে

Emon.jpg

এম এ মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে শুক্রবার ভোরে উপজেলার মোকামিয়া বাজার সংলগ্ন রাস্তায় কুঁড়িয়ে পাওয়া শিশু ইমনকে অবশেষে এক পোষ্যপিতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তার পোষ্যপিতা হতে ১১জন প্রার্থী হলে যাচাই বাছাইয়ের পর দুইজন টিকে। একজন ঢাকার ও অন্যজন ময়মনসিংহ পন্ডিতপাড়ার। এই দুইজনের মধ্যে
আজ রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ জজ পারিবারিক আদালত (ফুলপুর) ঢাকার এক ভদ্রলোকের পক্ষে রায় প্রদান করেন। এ সময় ময়মনসিংহ সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার মাহফুজ ইবনে আইয়ূব, ফুলপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শিহাব উদ্দিন খান, ফুলপুর থানার শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা এসআই সুমন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, শুক্রবার ভোর রাতে মোকামিয়া বাজার থেকে দক্ষিণমুখি কাঁচা রাস্তার মুখে কে বা কারা নবজাতক এই শিশুটিকে ফেলে রেখে যায়। শিশুটি তখন কাঁদতেছিল। এ সময় সেখানে কোন শিয়াল হানা দিতে চেয়েছিল কিনা জানা যায়নি তবে শিশুর কান্নার আওয়াজ ও কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দে ঘুম ভাঙে পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবুল হাশিমের স্ত্রী হোসনা বেগমের। সে এগিয়ে গিয়ে দেখতে পায় তিনটি কুকুর শিশুটিকে পাহারা দিচ্ছে। আর শিশুটি মাটিতে পরে কান্নাকাটি করছে। এ সময় আশপাশের আরো কয়েকজন এসে হোসনার সাথে যোগ দেয়। এ সময় শিশুটি কাঁদতে থাকলেও প্রথমে ‘ধরলে কি যেন হয়’ ভেবে কেউ তাকে ধরতে চায়নি। কিছুক্ষণ পর মমতাময়ী হোসনা বেগম ‘যা হয় হবে’ ভেবে এগিয়ে যায় এবং শিশুটিকে কোলে জড়িয়ে নেয়। এরপর হোসনা তার নাম রাখে ইমন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনলাইন পোর্টালে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ‘ফুলপুরে রাস্তায় পাওয়া গেল শিশু’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর মূহুর্তেই চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে অলৌকিক এই শিশুর খবর। পরে তাকে এক নজর দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা লোকজন হোসনা বেগমের বাড়িতে ভীড় করে। এক পর্যায়ে পাশেই এক চায়ের দোকান থেকে এগিয়ে আসেন স্থানীয় ইউপি সদস্য রতন। রতন বিষয়টি ফুলপুর থানাকে অবহিত করলে আস্তে আস্তে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, ওসি ইমারত হোসেন গাজী, সমাজসেবা অফিসার মো. শিহাব উদ্দিন খান, ফুলপুর থানার শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সুমন মিয়া ও হেল্ডস মহাসচিব তাসফিক হক নাফিওসহ অনেকেই অবগত হন। পরে থানা প্রশাসন শিশুটিকে উদ্ধার করে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হেফাজতে রাখেন। আজ রবিবার সন্ধ্যায় যাচাই বাছাইয়ের পর ঢাকার এক পোষ্যপিতাকে লালনপালনের জন্য রায় দেন আদালত। পরবর্তীতে শিশুটির উপর কুপ্রভাব পড়তে পারে ভেবে পোষ্যপিতার পরিচয় গোপন রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top