আপনিও যেতে পারেন অপরূপ সৌন্দর্য্যে ঘেরা প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের বাড়িটি দেখতে

20190903_161349.jpg

এম এ মান্নান:
বিশাল জলরাশিতে বেষ্টিত অপরূপ সৌন্দর্য্যে ঘেরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদের বাড়িটি দেখতে আপনিও যেতে পারেন। এটি যেন এক পিকনিক স্পট। প্রতিদিনই মানুষ লঞ্চে, নৌকায় বা স্পীড বোটে চড়ে যাচ্ছে উহা এক নজর দেখার জন্য। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় কামালপুর গ্রামে ঘোড়া উৎরা নদীর তীরে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের বাড়িটি দেখতে খুবই চমৎকার। নদীর পাড় ঘেঁষা প্রেসিডেন্টের বাড়িতে রয়েছে তিনতলা বিশিষ্ট একটি বিল্ডিং, দুটি হাফ বিল্ডিং, টিনশেড কয়েকটি ঘর ও মনোরম একটি পুকুর। উনার ভাইদের টিনশেড ঘরগুলো এখনও পুরনো স্মৃতি বহন করছে। এটি মূলত: প্রেসিডেন্টের বাবা মরহুম হাজী মো. তায়েব উদ্দিনের বাড়ি। বাড়িতে প্রবেশের মূল ফটকে হাজী মো. তায়েব উদ্দিন লেখা রয়েছে। বাড়ি সংলগ্ন রয়েছে একটি মনোরম মসজিদ। মসজিদের সামনে তাঁর বাবা ও মা তমিজা খাতুনের কবর। মসজিদটিতে নামাজ ও অজুর অত্যন্ত সুন্দর ব্যবস্থা থাকলেও এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু তাহের জানান, প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনায় অনেক কিছু আছে। কাজ চলছে। সবই পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। মসজিদের ভিতরে টয়লেট দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মসজিদের বাইরে উহা করা হবে। তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট এবার বাড়িতে আসলে মসজিদের টয়লেট ও লোকজনের বসার ব্যবস্থাটা জরুরিভাবে করা হবে। বাড়ির কয়েকশ গজ সামনে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক সরকারি কলেজ আর মিঠামইন বাজারে হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত। উপজেলা অফিসও একেবারে নিকটে। বাড়ি সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই এলাকায় প্রেসিডেন্টের বাড়ি ছাড়াও বেড়িবাঁধ, হাসপাতাল, কলেজ, লঞ্চ ঘাট, মালিকের মাজার ইত্যাদি দেখার মত অনেক কিছু রয়েছে। তাই আমরা কয়েকজন সংবাদকর্মী যথাক্রমে সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল আমিন, মো. খলিলুর রহমান, এটিএম রবিউল করিম রবি, রফিকুল ইসলাম, হাজী আব্দুস সাত্তার, সাইফুল ইসলাম বাবুল, রাকিবুল ইসলাম মাহফুজ, ইয়াকুব আলী ও আমি আব্দুল মান্নান ফুলপুর থেকে সোমবার মিঠামইন গিয়েছিলাম। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টায় একটি হায়েস গাড়িতে করে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর কৈলাগ রোডের মাথায় গিয়ে পৌঁছি সকাল ১১টায়। সেখান থেকে তানভীর নৌ পরিবহণে হুমায়ুনপুর, সাপমারি, পোড়াদিঘা ও ছাতিরচর হয়ে মিঠামইন গিয়ে পৌঁছি বেলা পৌনে ২টায়। পথে দেখছিলাম বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পানি আর পানি। ছোট বড় নৌকা, ট্রলার, মালবাহী জাহাজ। হাওড়, মাছের ঘের, সামুদ্রিক পাখি, আরো অনেক কিছু দেখা হয়েছে। এই বিশাল বিলের ভিতর দিয়ে কারেন্টের লাইনও টানা হয়েছে। নজরে পড়েছে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড। আমাদের ট্রলারের উপর সামিয়ানা টানিয়ে ডেকে বসে উন্মুক্ত বাতাসে যাওয়া, খাওয়া ও আলাপ আলোচনায় ব্যাপক আনন্দ করা হয়েছে। ফেরার সময় নিকলী হাসপাতাল ও ফায়ার স্টেশনস্থ ঘাটে চা বিরতি করা হয়। যুহর পড়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট মসজিদে আর আসর ও মাগরিব ট্রলারেই আদায় করা হয়। মাগরিবের পর পরই বাজিতপুরের ওই লঞ্চ ঘাটে গিয়ে নেমে পুনরায় হায়েস গাড়িতে চড়ি। ফুলপুর এসে নামা হয় রাত ১০টায়।
উল্লেখ্য, পরবর্তীতে সেখানে আরো যাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন অনেকে। জানা যায়, পরে গেলে রোডেই যাওয়া যাবে মিঠামইন। কিশোরগঞ্জ থেকে বাজিতপুর ও অষ্টগ্রাম হয়ে মিঠামইন দিয়ে ইটনা পর্যন্ত নজরকাড়া রাস্তা হচ্ছে। নদী, খাল বিল ও হাওড়ের মাঝখান দিয়ে নির্মিত চমৎকার ওই রাস্তাটি আগামী জুনেই খোলে দেওয়া হবে বলে সূত্র জানায়। তখন রোডেই যাওয়া যাবে প্রেসিডেন্টের বাড়ি মিঠামইনে। সময় বাঁচবে কয়েক গুণ। খরচও কমবে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে অনেকে প্রেসিডেনট গার্ডেন, শিশু পার্ক ও স্টেডিয়ামসহ ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য বিচিত্র ও আকর্ষণীয় আইটেমে বিনোদন স্পট করার জন্য পর্যটন কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসকের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top