পারি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফুলপুরের খতি পাগলী পেল টিনের ঘর

Phulpur-pic-0-1.jpg

এম এ মান্নান
পারি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ময়মনসিংহের ফুলপুরে খতি পাগলী পেল একটি টিনের ঘর। দীর্ঘ দিন ধরে সে পলিথিন বেষ্টিত একটি ডেগরার মধ্যে থাকতো। যা আসমানীদের বেন্যা পাতার ছাওনিওয়ালা কুঁড়ে ঘরের চেয়েও খারাপ। বৃষ্টির সময় খতির গায়ে পানি পড়তো। তখন বসে বসে সে কাঁদতো। খতির মলিন মুখ দেখে তার কষ্ট আঁচ করতে পারেন ফুলপুর উপজেলার গজন্ধর গ্রামের ছেলে পারি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক পথশিশুদের বন্ধু সমাজ সেবক আব্দুল মালেক। পরে খতির দু:খ লাঘবে তিনি উদ্যোগ নেন। এ সময় তার সাথে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন, সদ্য বিদায়ী ফুলপুর ইউএনও জেবুন নাহার শাম্মী, হেলডস্ কো-চেয়ারম্যান তরুণ সমাজ সেবক আতিকুর রহমান, ফুলপুর থানার কনস্টেবল আব্দুল লতিফ, ব্যবসায়ী আজহারুল ইসলাম, স্কয়ার ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের পরিচালক মোজাম্মেল হক, সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিখন প্রমুখ। তারা সবাই মিলে ছবির এই ঘরটি করে দেন। ঘর পেয়ে খতি যেন লাভের মুখ দেখেছে। সে খুশিতে আটখানা। ঘর হলেও ছিল না টয়লেট ও টিউবওয়েল। খবর পেয়ে ফুলপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সে অভাবও পূরণ করে দেন। এখন খতির মুখে হাসির ঝলক।
খতি ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার সাবেক ব্যবসায়ী মৃত নুরালীর মেয়ে। সে প্রায় কিশোরী বয়স থেকেই মানসিক সমস্যায় ভারসাম্যহীন ও ভাসমান জীবন যাপন করে আসছিল। বর্তমানে তার মানসিক সমস্যা কিছুটা কমেছে। ফুলপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত ২ শতাংশ ভূমিতেই ছিল তার পলিথিন বেষ্টিত ছোট্ট ডেগরা। গত কিছু দিন আগে তার পায়ের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় ঠিকমত হাঁটতেও পারে না সে। আর মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভোটার না হওয়ায় সরকারী ভাতাও পায় না খতি পাগলী। পথে প্রান্তরে ভিক্ষায় চলে তার জীবন। সারাদিন ভিক্ষা করে রাতে ঠিকমত ঘুমাতেও পারতো না। ভাঙা ঘরে বৃষ্টির সময় তার গায়ে পানি পড়তো। যখন মধ্যরাতে টপ টপ করে শরীরে বৃষ্টির ফোটা পড়তো তখন খতি বসে বসে কাঁদতো। তার এই কষ্ট দূর করতে কেউ না পারলেও অবশেষে পারি ফাউন্ডেশন পারলো। আমাদের সমাজের পরতে পরতে এ ধরনের হাজারো খতি রয়েছে। তাদের লাভে এগিয়ে আসতে আমরাও তো পারি। পারি না কি?

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top