সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য অবদান রাখতে পারবে হতদরিদ্র বাক প্রতিবন্ধী নাঈম

Protibondhi-Naim.jpg

ওমর ফারুক সুমন :
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট মাদানীনগর বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শাহাদত হোসেন বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের জন্য অবদান রাখতে পারবে হালুয়াঘাট উপজেলা কোয়ার্টার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবজি বিক্রেতা ফারুক হোসেনের মেধাবী ছেলে বাক প্রতিবন্ধী নাঈম। নাঈম এবার হালুয়াঘাট মাদানীনগর বিএম কলেজ থেকে এইচএসসিতে প্রশংসনীয় ফলাফল করেছে। এর আগে কারিতাস টেকনিক্যাল কারিগরী বিদ্যালয় থেকে হাতে কলমে মোবাইল সফটওয়্যার ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নেয় সে। বর্তমানে লেখাপড়ার পাশাপাশি নাঈম একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান হিসেবে শত শত ছেলেমেয়েকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও কারিগরি বিষয়ে বিশেষ শিক্ষা দান করে যাচ্ছে।
অধ্যক্ষ শাহাদত বলেন, জন্মলগ্ন থেকে নাঈম কথা বলতে না পারলেও তার মাঝে সম্ভাবনাময় প্রতিভা লক্ষ্য করেছি। সে সবই বুঝে ও করতে পারে। তার সুপ্ত মেধাকে বিকশিত করতে পারলে জাতি উপকৃত হবে।
নাঈমের মা হেলেনা খাতুন বলেন, নাঈম সুবিধাবঞ্চিত এক বালকের নাম। হত দরিদ্র ও বাক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সবসময়ই সে সুবিধাবঞ্চিত ছিল। সে সমাজের অন্য পাঁচজন বালকের মত সুবিধা পায়নি। নানা অসুবিধা ও প্রতিকুলতার ভিতর দিয়ে তাকে বড় হতে হচ্ছে। তার জন্য আমাকেও সহ্য করতে হয়েছে অনেক লাঞ্ছনা-বঞ্ছনা। দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছি কেউ তাকে ভর্তিই করতে চায়নি। আজ আমার ছেলে ভাল ফলাফল করেছে শুনে আমি খুশি, আমি গর্বিত।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে নাঈমের সাথে, তার পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলি। জানা যায়, নাঈমের স্বপ্ন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া।
নাঈমের মা হেলেনা খাতুন বলেন, নাঈমকে এ পর্যায়ে আসতে বহু বাধা-বিপত্তি পোহাতে হয়েছে।বাক প্রতিবন্ধী হওয়ায় শিক্ষকরা আমার ছেলেকে কোনো স্কুলে ভর্তিই করতে রাজী হতো না। অনেক কাকুতি মিনতি করে, অনুনয় বিনয়ের মাধ্যমে নিজের কাঁধে পড়া শিখানোর দায়িত্ব নিয়ে ভর্তি করাতে হতো। তিনি আরো বলেন, আমি নিজে নাঈমকে বর্ণ পরিচয় শিখিয়েছি, সংখ্যা শিখিয়েছি। সবার আগে মা, বাবা, ভাই, বোন শিখিয়েছি। আস্তে আস্তে নাঈম আজ অনেক কিছু শিখেছে।সে এখন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তার মা জানান, ‘হালুয়াঘাট দক্ষিণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে ৫ম শ্রেণী পাস করে নাঈম। পরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানেও বহু জৈ-ঝামেলায় কেটেছে পাঁচটি বছর। এসএসসি পরীক্ষার আগে ফরম ফিলাপে বাধা। পরে সহযোগিতা করেন হালুয়াঘাটের সাবেক প্রতিবন্ধী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেলালুজ্জামান সরকার। এসএসসি পাস করার পর কলেজে ভর্তি করাতেও তিনি সহযোগিতা করেছিলেন।স্যারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তার সহযোগিতায়ই বিএম কলেজে ভর্তি করিয়েছিলাম নাঈমকে।সেখান থেকে এবার ২০১৯ সালে কৃতিত্বের সাথে এইচ এস সি পাস করে নাঈম। এখন উচ্চ শিক্ষার জন্য সে বিদেশ যেতে চায় কিন্তু তা কি করে সম্ভব? এ নিয়ে আমি দু:শ্চিন্তায় আছি। কিচ্ছু ভাল লাগে না। রাতে চিন্তায় ঘুম হয় না। ছেলের স্বপ্ন পূরণে কি করব, কোথায় যাব? এই ভাবনায় সময় কাটে।’
কথা হয় বাক প্রতিবন্ধী প্রতিভাবান মেধাবী ছাত্র নাঈমের সাথে। নাঈম এ প্রতিবেদককে লিখে জানায়, ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ও একজন বড় অফিসার হয়ে আমি দেশের সেবায় অবদান রাখতে চাই। সে লিখে আরো জানায়, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বিদেশে যেতে মন চায়। এ ব্যাপারে নাঈম সরকারের সহযোগিতা কামনা করে।
নাঈম বলে, ‘প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় এবং আমরাও যে দেশের জন্য অবদান রাখতে পারি সুবিধা পেলে তা প্রমাণ করতে চাই।’

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top