বন্যায় রাস্তা ভেঙে খান খান, কৃষি ঋণ মওকুফ দাবি

Phulpur-Pic-Road.jpg

এম এ মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে বন্যার পানি কমে ভেসে ওঠছে গ্রামীণ জনপথ। বন্যার পানির তোড়ে ফসলাদি, বাড়িঘর ও গাছপালাসহ রাস্তাঘাট অধিকাংশই ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। স্থানে স্থানে খাল ও নালার সৃষ্টি হয়েছে। সাঁকো ছাড়া এসব পথে চলার কোন ব্যবস্থা নেই স্থানীয় অধিবাসীদের। ফলে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষেরা মিলেমিশে স্বেচ্ছাসেবায় নির্মাণ করেছেন প্রায় শতেক সাঁকো। বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গায় কয়েক হাত পর পর বাঁশ-কাঠের নির্মিত সাঁকো। কুঠুরাকান্দা, নিশুনিয়াকান্দা, ফতেপুর, সঞ্চুর, সেনেরচর, খামারপাড়া, মারুয়াকান্দি, মাইকপাড়া, ধনারভিটা, মেরিগাই, উলুয়াকান্দা, বনোয়াকান্দা, মালিঝিকান্দা, পুটিয়া, বড় পুটিয়া, ঘোণাপাড়া, সিংহেশ্বর ও ছনধরাসহ বিভিন্ন গ্রামের অলিগলি ঘুরার সময় চোখে পড়ে ভুক্তভোগীদের জীবন মানের করুণ চিত্র ও এসব সাঁকো। নিশুনিয়াকান্দা গ্রামের সিএনজি চালক সোহেল রানা জানান, বর্তমানে সাঁকো ছাড়া আমাদের চলার কোন উপায় নেই। আশপাশ এলাকার ভুক্তভোগীরা মিলে স্বেচ্ছাসেবায় ছোট-বড় প্রায় শতেক সাঁকো নির্মাণ করেছেন। ঘোণাপড়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ার উসুলুদ্দিন, আবুল কাশেম, রহম আলীরা মিলে তাদের বাড়ির পাশে একটি সাঁকো বানিয়েছেন। বড়পুটিয়া গ্রামের সবচেয়ে বড় বাজারের সংলগ্ন রাস্তায় স্বেচ্ছাসেবায় একটি সাঁকো নির্মাণ করেছেন আজিজুল হক, আনিসুর রহমান ও শাহাব উদ্দিনসহ এলাকাবাসী। তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাঁশ, কাঠ, তার ও সূতা সংগ্রহ করে নিজেরা শ্রম দিয়ে ওই সাঁকো নির্মাণ করেন। বনোয়াকান্দা দাখিল মাদরাসার ইবতিদায়ী শাখার শিক্ষক মাওলানা আরিফ রব্বানী বলেন, বিগত ৬/৭ বছরের মধ্যে এ ধরনের বন্যা আর হয়নি। এবারের বন্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মালিঝিকান্দা গ্রামের জোসনা বেগমের ঘরে পানি উঠায় বন্যার সময় তার দিন কেটেছে চৌকির উপর শুয়ে বসে। খাবার রান্না করতে হয়েছে সাঁতরিয়ে আরেক বাড়িতে গিয়ে। সে বলে, বন্যায় আমরার সব ভাসায়া নিয়া গেছে। আমরা অহন বহুত ঋণী। এ সময় কৃষক আব্দুল কাদির, নজরুল ইসলাম ও মোতালেবসহ বেশ কয়েকজন কৃষক কৃষি ঋণ মওকুফের দাবি জানান। উপজেলায় বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের কাছে এখনও চাননি এবং সেটা করাও হয়নি।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top