ফুলপুরে পুটিয়া বন্যা আশ্রয় শিবির বেদখলে

Phulpur-Pic-Shibir-1.jpg

এম এ মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের পুটিয়া বন্যা আশ্রয় শিবিরটি বেদখল হয়ে গেছে। বন্যা আশ্রয় শিবির বলতে সেখানে এখন অবশিষ্ট কিছু নেই। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলের প্রথম দিকে (১৯৮২-৮৫’র মধ্যে) দুই একর জমির উপর এই শিবিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পুটিয়া তখন হালুয়াঘাটের অংশ ছিল। হালুয়াঘাট- ধোবাউড়া আসনের সাবেক এমপি অধ্যক্ষ এমদাদুল হক মুকুলের তত্বাবধানে এটি নির্মিত হয়েছিল। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক এমপি এমদাদুল হক মুকুল জানান, এটা এরশাদ সরকারের প্রথম দিকের একটি প্রকল্প। আমার যতটুকু মনে আছে, সেখানে বন্যা আশ্রয় শিবিরের জন্য ১৪০ হাত দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ৪টি টিনের ঘর করা হয়েছিল। বর্তমানে ঘরের টিন-কাঠ, দরজা, জানালা কিছুই নেই। এমনকি দেয়ালের ইটগুলোও কে বা কারা নিয়ে গেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভাঙা দেয়াল ও কয়েকটি পিলার কালের স্বাক্ষী হয়ে এখনও দাঁড়িয়ে আছে। দুই একর জমির কিছু অংশে ভূমিহীন কয়েকটি পরিবার ঘর বেধে আছে। পুরো জমিটার চারদিকে আরও কিছু জমি বেদখল হয়ে গেছে। বাইরাখালী রাজঘাট থেকে নৌকায় ওই এলাকায় যাওয়ার সময় কথা হয় বড় পুটিয়া গ্রামের সাঈদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, শিবিরের চার দিগ দিয়া জমি কমাইয়ালছে। ঘর-দোর কইরালছে। আশ্রয় শিবির বলতে অহন আর কিছু নাই। একই গ্রামের ভ্যান চালক আব্দুর রশিদ বলেন, এইনো থাইক্যা অনেকে জমির মালিক অইয়া গেছে। স্থানীয় মুরুব্বি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘৮৮’র বন্যার পর বহু দিন ধইরা বন্যা না হওয়ায় এইনের আশ্রয় শিবির ভাইঙা টিন সব উপজেলা হেড কোয়ার্টারে নিয়া গেছে। হুনছি এই টিন দিয়া হেইনো তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য কোয়ার্টার করা অইছে। আমার কথা অইলো, সরহার এইনের জন্য যে ঘর-দোর করছিল তা হেইনো নিবে কেন? শিবিরটি পুন:নির্মাণ করলে বন্যার সময় এই এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। আমরা পুনরায় এই বন্যা আশ্রয় শিবিরটি চাই। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top