সততার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে ভ্যান চালক সেলিমকে গ্রামাউস দিলো ১০ হাজার টাকা

6033770n.jpg

এম এ মান্নান
গরিব অথচ সৎ এক ভ্যান চালকের নাম সেলিম (৩০)। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার আমুয়াকান্দা বাজার সংলগ্ন আশি পাঁচকাহনিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুস সালাম। সে গত রবিবার রাতে ভ্যান নিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় পথে কুঁড়িয়ে পায় ৯ হাজার টাকা! পাওয়ার পর ভাবে টাকাটা কি করা যায়? না নিয়ে যদি এখানেই ফেলে রেখে চলে যাই তাহলেও হয়তো টাকাটা থাকবে না, কোন অসৎ লোক নিয়ে যেতে পারে। প্রকৃত মালিক হতে পারেন বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত। তাই উহা উঠিয়ে বাড়ি নিয়ে যেতে মনস্থ করে সেলিম। কিন্তু পরক্ষণেই সে ভাবে, এতগুলো টাকা যদি আমি বাড়ি নিয়ে যাই আর আমার স্ত্রী যদি এর প্রতি লোভে কাবু হয়ে যায়! তখন কি হবে? এমন সন্দেহ তাকে পীড়া দিতে থাকলে টাকাটা সে বাড়ি না নিয়ে বরং কাগজে পেঁচিয়ে পথের টাকা পথেই একটি ইটের নিচে চাপা দিয়ে রেখে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে আবার বাজারে যায় সেলিম। গিয়ে শুনে এক বুড়া বেডা কান্নাকাটি করতেছেন। লোকজন জমা হয়ে গেছে। সেলিম সেখানে থমকে দাঁড়ায়। জানতে পারে সরচাপুর নিবাসী ওই বুড়া বেডা তার মেয়ের বাড়ি যাওয়ার পথে অনেকগুলো টাকা হারিয়ে গেছে। তারপর সেলিম এগিয়ে গিয়ে বুড়া বেডার সাথে কথা বলে। কথা বলে সেলিম নিশ্চিত হয় যে, টাকাগুলো এই মুরুব্বিরই। এরপর আশি পাঁচ কাহনিয়ার পথে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে ইটের নিচ থেকে বুড়োকে টাকাগুলো বুঝিয়ে দেয় হতদরিদ্র সৎ ভ্যান চালক সেলিম। দরিদ্র সেলিমের সততার এ ঘটনা উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সেলিমের সততার বর্ণনা দিয়ে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট দেন। সেই পোস্ট ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য ও গ্রামাউস পরিচালক আব্দুল খালেকের নজরে পড়ে। তিনি সৎ ও গুণী এই সেলিমকে খুঁজে বের করে বুধবার সন্ধ্যায় তার অফিসে নিয়ে যান এবং তার এই সততার পুরস্কার হিসেবে তাকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় বিশিষ্ট সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গ্রামাউস পরিচালক আব্দুল খালেক বলেন, আমাদের সমাজে এখনও সৎ মানুষ আছে। এ রকম সেলিম আরো তৈরি হোক। আমরা যদি এদের কদর করি তবে এর সংখ্যা দিন দিন আরো বাড়বে। তিনি সবাইকে সততার মূল্যায়ণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন।
এরপর দেশের কৃষকরা যে নির্মমতার শিকার হচ্ছে সে বিষয়ে আলোচনা হয়। কৃষকদের দু:সময়ে তাদের ধান কেটে দেওয়ার পাশাপাশি আরো কিভাবে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যায় তা নিয়ে ফুলপুরস্থ গ্রামাউস অফিসে বুধবার বাদ মাগরিব ব্যাপক আলোচনা হয়। অবশেষে গঠন করা হয় ফুলপুর কৃষক সহায়তা তহবিল। এ উপলক্ষে গঠিত কমিটিতে গ্রামাউস পরিচালক আব্দুল খালেককে আহ্বায়ক ও সাংবাদিক নুরুল আমিন, নাজিম উদ্দিন, খলিলুর রহমান এবং এটিএম রবিউল করিমকে সদস্য করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে যারা আছেন তারা হলেন, ১) সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন, ২) সাংবাদিক নুরুল আমিন ৩) সাংবাদিক এ টি এম রবিউল করিম ৪) সাংবাদিক খলিলুর রহমান ৫) সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন ৬) সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন ৭) সাংবাদিক আব্দুল মান্নান ৮) সাংবাদিক আতিক রহমান ৯) সাংবাদিক শাহ নাফিউল্লাহ সৈকত ১০) বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহজাহান সিরাজ মিলন ১১) মেম্বার এসোসিয়েশনের সভাপতি রাসেল মেম্বার ১২) মিজান মেম্বার ১৩) হাবিবুর মেম্বার ১৪) তাসফিক হক নাফিও ১৫) গ্রামাউস -এর উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান ১৬) সহযোগি অধ্যাপক আকবর আলী আহসান ১৭) গ্রামাউসের নির্বাহী পরিচালক ও ফুলপুর কৃষক সহায়তা তহবিল –এর আহ্বায়ক মো: আবদুল খালেক । এই কমিটিতে সম্পৃক্ত হয়ে কৃষক সহায়তা তহবিল গঠনে সাহায্য করার জন্য সকলকে অনুরোধ জানানো হয়। এই মূহুর্তে যারা টাকার জন্য ধান ঘরে উঠাতে পারছেন না বা স্বল্পমূল্যে ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে তাদের সহায়তা করবে এই কমিটি। এই কমিটি একটা সময় নির্ধারণ করে দিয়ে করজে হাসানা বা নি:স্বার্থভাবে কর্জ হিসেবে নিম্ন, মধ্যবিত্ত ও অসহায় কৃষকদের মাঝে ২-৩ মাসের জন্য ৩-৫ হাজার টাকা করে ঋণদান করবে।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে সূরা বাকারার ২৪৫ নং আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘কে সে, যে আল্লাহ তা’য়ালাকে কর্জে হাসানা বা উত্তম ঋণ দান করবে? যে এই ঋণ দান করবে আল্লাহ তা’য়ালা সেই উত্তম ঋণ বহু গুণে বর্ধিত করে দিবেন। মূলত: আল্লাহই সঙ্কুচিত ও সম্প্রসারিত করে থাকেন এবং তোমরা তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে।’
আলোচনা সভায় আরো বলা হয়, ২-৩ মাস পর ধানের দর বাড়লে ধান বিক্রি করে এই করজে হাসানা পরিশোধ করার সুযোগ পাবে। শুধু সাওয়াবের আশায় ও কৃষকদের উপকারের কথা চিন্তা করে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্যদের নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বক্তব্যে নানা জনহিতকর বিষয় তুলে ধরে গ্রামাউস পরিচালক আব্দুল খালেক প্রায় ৪৩ জন গরিব ও অসহায় মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে বৃত্তি দেন বলেও জানান।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top