স্বামীর বাধ্যগত স্ত্রী

Woman.jpg

এম এ মান্নান
কোন এক স্বামী বিদেশ যাওয়ার আগে তার স্ত্রীকে বলে গেলেন, আমি বাড়ি না আসা পর্যন্ত আমার বাড়ি থেকে বের হয়ো না। এ কথা বলে চলে যাওয়ার কিছুদিন পর স্ত্রীর কাছে খবর আসলো তার বাবা খুব অসুস্থ্য। কিন্তু স্বামীর নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি তাকে দেখতে যাননি। বাবার জন্য দোয়া করতে থাকেন। এরপর আবার খবর আসলো তার বাবা মারা গেছেন। তারপরও স্বামীর কথা অমান্য হবে ভেবে ওই স্ত্রী তার বাবাকে শেষ দেখা দেখতে যাননি। কান্নাকাটি করে বাবার জন্য দোয়া করতে থাকেন। এর কিছুদিন পর বিদেশ থেকে স্বামী বাড়ি আসলেন। তখন স্ত্রী স্বামীকে সব খুলে বললেন। হৃদয় বিদারক ওই ঘটনা শুনে স্বামী কেঁদে দিয়ে বলেন, তুমি আমাকে মান্য করেছ শুনে খুশি হয়েছি। তবে তোমার মা-বাবা মারা যাবেন তারপরও তাদের দেখতে যাবে না এতটা নিষ্ঠুরতা ও কঠোরতা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। যাক, আল্লাহ যেন তোমাকে এর উত্তম প্রতিদান দান করেন। এরপর স্বামীকে নিয়ে স্ত্রী তার বাবার বাড়ি গেলেন। একদিন রাতে স্ত্রী স্বপ্নে দেখেন, তার বাবা বেহেশতে খুব শান্তিতে আছেন। মেয়েটি বাবার কাছে জানতে চায়, বাবা, তুমি কেমন আছো? বাবা বলেন, মা, তোমার উসীলায় বেহেশতে আমি অনাবিল সুখে আছি। মেয়েটি বলে, বাবা, আমি কি আমল করলাম যে তুমি আমারিউসীলায় সুখে আছো? বাবা তখন বলেন, তুমি যদি তোমার স্বামীর নিষেধ অমান্য করে আমাকে দেখতে আসতে তাহলে তা পাপ হতো। আর আমিও সেই পাপের অংশীদার হতাম। তুমি তা করনি বলে আল্লাহ তোমার ওই আমল পছন্দ করেছেন এবং এর প্রতিদান দিচ্ছেন।
ইসলামে এমন বিধানও আছে যে স্বামীর অনুমিত ছাড়া স্বামীর মাল থেকে ফকিরকে কোন ভিক্ষা পর্যন্ত দেওয়া যাবে না। অথচ বর্তমানে অনেক স্ত্রীরাই এসব মানেন না। তারা স্বামীকে না জানিয়ে অন্যায়ভাবে স্বামীর সম্পদ ভোগ বিলাসিতায় নষ্ট করে থাকেন। এমনকি স্বামীর অবাধ্য হয়ে যখন যা ইচ্ছে তাই করে থাকেন। যখন যেখানে ইচ্ছে সেখানেই ঘুরে বেড়ান। এগুলো উচিৎ নয়। আল্লাহ তাদের সহীহ বুঝ দান করুন। সন্তানের নেক আমলের দ্বারা বাবা-মার উপকার হয়। আল্লাহ সকলকে সহীহ্ বুঝ দান করুন। সংগৃহীত

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top