একটি নদীর অপমৃত্যু! নির্বিকার প্রশাসন, আশু ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ

Rangsa-River.jpg

নুরুজ্জামান সরকার বকুল
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার সর্ববৃহৎ নদী হলো রাংসা। এক সময়ের প্রমত্তা ও খরস্রোতা রাংসা নদীটি মানবসৃষ্ট অত্যাচারে আজ মৃতপ্রায়। এখন আমরাই একে “মরা রাংসা” নামে ডাকি। যত্রতত্র বাধ দিয়ে, পুকুর দিয়ে, অবাধে মাটি ও বালু উত্তোলন করে আমরা একে মেরে ফেলছি। এ কারণে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর নাব্যতা । ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ । এতে ধ্বংস হয়ে যাবে কোটি টাকায় নির্মিত বেশ ক’টি সেতু । অথচ এক সময় এ নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল আজকের এই জনপদ ও নামকরা হাটবাজারগুলো। তারাকান্দা, দাদরা, চংনাপাড়া, হরিয়াগাই বাজারগুলোতে যাত্রী আর মালামাল পরিবহণ করা হতো এই নদীপথ দিয়ে। এইতো কিছুদিন আগেও পাল তোলা নৌকা দিয়ে জারী, সারী, ভাটিয়ালি গান গেয়ে মাঝিরা নাইওরিকে নাইওর নিয়ে যেতো। মনের সুখে মাছ ধরতো। দাড় টেনে শতশত মণের ভারবাহি মালবোঝাই নৌকা দিয়ে ধান, পাট, আলুসহ অনেক উৎপাদিত ফসল এনে জড়ো করত তারাকান্দা বাজারের বড় ব্রীজ সংলগ্ন ঘাটে। ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নামার পরও কিছুদিন আগে সচল ছিল এই ঘাট। আজ আমাদের মানবসৃষ্ট বাধাবিপত্তিতে সব শেষ হওয়ার পথে। ইদানিং দাদরা ব্রীজ হতে হরিয়াগাই ব্রীজ পর্যন্ত ৮-১০টি পয়েন্টে কারো কোন অনুমতি না নিয়েই দেদারসে বালু ও মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল। জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। যেন এক মগেরমুল্লুক! জীবিকা নির্বাহ করতে এ নদীর তীরে তীরে বসতি গড়ে তুলেছিলো অনেক জেলে পরিবার। আজ তারা বেকার, নয়তো চলে গেছে অন্য পেশায়। নানান রং বাহারী নামের ৪৮-৫২ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত এ নদীতে। আজ সবকিছু গালগল্প মনে হবে। নৌকা বাইচ তো এখন অলীক-কল্পনা। আমার জানামতে, এখানে কোন বালু মহাল বা সায়রাত মহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। তাহলে কাদের স্বার্থে এভাবে মৃতপ্রায় নদীকে গলাটিপে শেষ করে দিচ্ছি আমরা? নদীটি রক্ষায় আশু ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top