মাঠ প্রশাসনে নারী ইউএনও জেবুন নাহার শাম্মী

UNO-Jebun-Nahar.jpeg

নুরুল আমিন
“যদি পার্শ্বে রাখ মোরে সংকটের পথে, দুরূহ চিন্তার যদি অংশ দাও, যদি অনুমতি কর কঠিন ব্রতের তব সহায় হইতে, যদি সুখে দুঃখে মোরে কর সহচরী, আমার পাইবে তবে পরিচয় “| কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রাঙ্গদা কবিতার এ পংক্তিকে যেন বাস্তব রূপদান করেছেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার নারী ইউএনও জেবুন নাহার শাম্মী। মননশীলতা ও কর্মতৎপরতায় মাঠ প্রশাসন পরিচালনায় নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছেন সযোগ পেলে নারীরাও পারে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে। ফুলপুর উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদানের এক বছরেই একজন জনবান্ধব সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় করাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। তার মননশীলতা অদম্য প্রচেষ্টা দক্ষ প্রশাসনিক নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে ফুলপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম। জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা- নারী জাগরণের যে আহ্বান বেগম রোকেয়া রেখেছিলেন যেন সে পথেই হাঁটছেন ইউএনও জেবুন নাহার শাম্মী। উপজেলায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কথা হয় ফুলপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মীর সাথে। তিনি বলেন নারী হিসাবে নয় ইউএনও হিসেবেই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি। উপজেলা প্রশাসনে দাপ্তরিক কাজের গতি অব্যাহত রেখে সেবাপ্রার্থী জনগণকে সন্তুষ্ট রাখাই আমার মুল লক্ষ্য। তিনি বলেন ফুলপুরে এসে আমি প্রথমে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম আমার পুর্বের ইউএনও রাশেদ হোসেন চৌধুরী স্যার যেভাবে মানুষের ভালবাসা অর্জন করে গেছেন তা রক্ষা করতে পারবো কিনা। ময়মনসিহ জেলা প্রশাসকসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে একজন নারী হয়েও আমি প্রশাসনের সম্মান রক্ষা করতে পারছি বলে মনে করছি। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও মাদক প্রতিরোধ, সরকারের গৃহীত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নসহ সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করতে চান বলে জানান এ নারী কর্মকর্তা।
তিনি বলেন চাকরীতে সময় দেওয়ার পাশাপাশি নিজের সংসারেও সময় দিতে হয় তার । একমাত্র কোলের শিশু তুলতুলকে সামাল দিয়েই বিগত সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এখন উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন । অনেক সময় রান্নাবান্না সব কাজও নিজেই করেন। কাজের বুয়াকে কাজ বুঝিয়ে দিতে হয় । আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কথা বলতে গিয়ে ইউএনও জেবুন্নাহার শাম্মী বলেন কর্মক্ষেত্রে নারীরা এখনো কিছু প্রতিবন্ধকতায় আছে। দিন দিন সেসব প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে বাংলাদেশের নারী সমাজ আরো এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। ফুলপুরে ভিক্ষুকদের জন্য একটি ভিক্ষুকপল্লী করার ইচ্ছার কথা তিনি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছেন বলে জানান। যেখানে ভিক্ষুকদের জন্য থাকবে নানা সুযোগ সুবিধা যাতে তারা ভিক্ষাবৃত্তি ত্যাগ করে। তিনি বলেন ফুলপুরকে ভিক্ষুকমুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি। এ ব্যাপারে মাননীয় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের সাথেও কথা বলবেন বলে জানান। ফুলপুরে দায়িত্ব পালনের শুরুতেই তারা স্থানীয় রাজনীতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সহযোগিতা চেয়েছিলেন । তারা সব সময় সহযোগিতা করছে জানিয়ে তিনি জানান আমি চেষ্টা করছি ফুলপুরের মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে। ফুলপুরের মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয় সহনশীল। এ জনপদের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবতী মনে করছি। চলতি শীত মৌসুমে গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালায় ও ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে প্রাপ্ত কম্বল নিজ হাতে অসহায়দের কাছে পৌছে দিয়েছেন। এলাকায় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সেখানে গিয়ে হাজির হতে দেখা গেছে। রাতের অন্ধকারও তাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। তার কাছে কোন অসহায় মানুষ গিয়ে হতাশ হয়েছে এমন রেকর্ড নেই বলে জানান তার কার্যলেয়ের কর্মচারীরা।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top