বালিয়ার শততম বড়সভায় মন্ত্রী আসার সময় পুলিশ বাঁশি বাজালে বয়ান ছেড়ে চলে যেতে উদ্যত হন কুয়াকাটার বক্তা মিসবাহ

Misbah.jpg

এম এ মান্নান
ময়মনসিংহ বিভাগের ঐতিহ্যবাহী ক্বওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়ার ১০০তম বড়সভা এবার ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ২দিন ব্যাপী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফুলপুর-তারাকান্দা আসনের এমপি শরীফ আহমেদ। প্রধান অতিথির গাড়ি যখন মাদরাসায় প্রবেশ করছিল রাস্তা ক্লিয়ারের জন্য পুলিশ তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল। এ সময় মঞ্চে বয়ানরত ছিলেন কুয়াকাটার বক্তা মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ। ৫০-৬০ হাত দূরে বাঁশি বাজানোতে মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ ক্ষুব্ধ হয়ে মাইকে বলেন, বাঁশি বাজায় কে? বক্তা ক্ষুব্ধ হওয়ায় মঞ্চ পরিচালনাকারী হেফাজতে ইসলামের আমীর হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফীর খলীফা বালিয়ার সাবেক নায়েবে মুহতামিম মাওলানা ওয়াইজ উদ্দিন মাইকে বলতে থাকেন, মন্ত্রী মহোদয়কে মেহমানখানায় নিয়ে বসান। তিনি সেখানে বিশ্রামে থাকবেন। পরে উনাকে মঞ্চে আনা হবে। এসব কথা বলার সময় বক্তা হাবিবুর রহমান মিসবাহ রাগে তার আসন ছেড়ে চলে যেতে উদ্যত হন এমনকি ৮/১০ হাত চলে যান। পরে মাহফিল উদযাপন কমিটির লোকজন হতাশ হয়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ান ও তাকে বসতে অনুরোধ জানাতে থাকলেও তিনি বয়ান করতে রাজি হচ্ছিলেন না। এ সময় কিছু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও পরিবেশ ঘোলাটের অবস্থা দেখা দেয়। শ্রোতামন্ডলী ও মঞ্চে উপবিষ্ট সকলেই হতবাক হয়ে যান। মজলিসে শুরার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুজিবুর রহমান ও মঞ্চভর্তি উলামায়ে কেরাম তখন অবাক হয়ে ওই বক্তার দিকে তাকিয়েছিলেন। কিন্তু বক্তা কাউকে তোয়াক্কা না করে অতি তুচ্ছ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যেতে উদ্যত হন। অথচ এ ব্যাপারে সভা আয়োজক কমিটি বা কোন সদস্য দায়ী নন। জানা যায়, বালিয়ার ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তার বক্তব্য ছেড়ে দিয়ে চলে যাওয়ার মত কোন ঘটনা এখানে ঘটেনি। এটা এক ধরনের তাকাব্বুরী। সামান্য ব্যাপার নিয়ে রিয়া বা তাকাব্বুরী প্রকাশ পায় এমন আচরণ অন্তত: আলেমদের নিকট থেকে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করে না। এক পর্যায়ে এই বক্তা আবার চেয়ারে ফিরে গিয়ে বয়ানে বসেন। বসার পর বেশ কয়েক মিনিট চুপ থাকেন। যদিও বালিয়া মাদরাসা কোন ব্যক্তিপূজা করে না এবং ব্যক্তিপূজার কোন ঘটনা সেখানে ঘটেওনি তবু ওই বক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মন্ত্রী কেন যে কেউ হোক আমি কোন ব্যক্তিপূজারীতে বিশ্বাসী নই। পুরো ময়মনসিংহবাসীর উদ্দেশ্যে ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলেন, ময়মনসিংহের মানুষ আমাকে দাওয়াত না দিলে আমার কিছু যায় আসে না। এরপর তিনি মাবাবার হক ও জাহান্নামের আযাবের বর্ণনাসহ নানা বিষয়ে প্রায় এক ঘন্টা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে গিয়ে বসেন।
এই বক্তার বয়ানের পর দোয়া চেয়ে বক্তব্য রাখেন, মাননীয় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সহকারি সিনিয়র সচিব ফুলপুর উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী, তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান এড. ফজলুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম নয়ন, ফুলপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল খালেক প্রমুখ। এর আগে ফুলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল বাসার আকন্দ, তারাকান্দা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, ফুলপুর উপজেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
শততম বড়সভা উদযাপন উপলক্ষে বিগত দিনে এখান থেকে যারা হাফেজ ক্বারী, মাওলানা ও মুফতী হয়েছেন এমন প্রায় পনেরশ ছাত্রকে সম্মানের পাগড়ী প্রদান করা হয়। আর প্রধান অতিথিকে মানপত্র, চাদর, জায়নামাজ, তাসবীহ ও জমজমের পানিসহ নানা উপঢৌকন দেওয়া হয়েছে। বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি তার বাবা পাঁচবারের সাবেক এমপি ভাষা সৈনিক মরহুম এম শামছুল হক ও পীরে কামিল আল্লামা গিয়াছ উদ্দিন (রহ)’র আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তার দাদা এড. সমির উদ্দিন নামাজ পড়তেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত নির্বাচনের আগে আমি মরহুম পীর আল্লামা গিয়াছ উদ্দিন হুজুরের নিকট এসে তার দুই পা ছুঁয়ে দোয়া চাইলে তিনি বলেন, তুমি একদিন অনেক বড় অইবা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি যেন আপনাদের মুখ উজ্জ্বল রাখতে পারি সেজন্য মহান আল্লাহর তাওফীক কামনা করছি। এরপর তিনি মাদরাসার পক্ষ থেকে দাবি পুকুর ভরাটের আশ্বাসসহ একটি বিল্ডিং নির্মাণেরও প্রতিশ্রুতি দেন।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top