ময়মনসিংহ-১ আসনে ধানের শীষ তুমি কার?

Capture5.jpg

এম এ মান্নান
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে প্রাথমিক পর্যায়ে কেন্দ্র থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আফজাল এইচ খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলী আজগর ও খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক আলহাজ্ব সালমান ওমর রুবেলকে দলীয় মনোনয়নপত্র দিয়ে বিএনপি ভক্তদের প্রথম ধাঁধাঁয় ফেলানো হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা যখন তাদের চারজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করলেন তখনও ওই ধাঁধাঁ থেকে উদ্ধার হতে পারেনি ময়মনসিংহ-১ আসনের বিএনপি সমর্থকরা।
অনেক অপেক্ষার পর শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করে চূড়ান্তভাবে আলী আজগরের নাম যখন ভেসে উঠলো তখন তাদের মনস্থির হলো। প্রার্থী নির্ধারিত হওয়ায় স্বস্তিবোধ করতে লাগলেন ওই আসনের বিএনপিপন্থীরা। ওমা! এরই মধ্যে হঠাৎ বিএনপির প্রিয় ওই নেতার বিরুদ্ধে ফারমার্স ব্যাংক ঋণ খেলাপির অভিযোগ এনে কাল হয়ে দাঁড়ালো। তারা হাইকোর্টে রিট করলে আদালত তা গ্রহণ করে গত ৯ ডিসেম্বর আলী আজগরের মনোনয়ন স্থগিত করে দিয়ে রুল জারি করে। পেরেশানী এসে ভর করে আলী আজগরকে। কি আর করা। এ রায়ের বিরুদ্ধে ১১ ডিসেম্বর আপিল করেন তিনি। আপিল করলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিয়ে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রাখেন। দু:খ দূর হলো না আলী আজগরের। পরে
আলী আজগরের পক্ষের আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফ সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন যে, এ রায়ের ফলে তিনি আর নির্বাচন করতে পারছেন না। এ কথা শোনার পর ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপি শিবিরে যেন শোকের ছায়া নেমে আসে।
তবে এতে ভেঙে না পড়ে কেউ কেউ ওই শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। নতুন করে আলোচনায় চলে আসে সাবেক সংসদ সদস্য আফজাল এইচ খানের নাম। চেষ্টা করতে দোষ কি। ৯ ডিসেম্বর আলী আজগরের মনোনয়নপত্র স্থগিত হওয়ার পর পরই তিনি সোজা চলে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিকট। সেখান থেকে তার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি নিয়ে ১০ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৫টায় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান আফজাল এইচ খান। চিঠিতে লেখা ছিল আলী আজগরকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্ট যেহেতু তার মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছেন, সেহেতু আলী আজগরের মনোনয়ন পরিবর্তন বা বাতিল করে বিএনপির বৈধ প্রার্থী হিসেবে আফজাল এইচ খানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদানপূর্বক ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হোক। তবে দু:খজনক হলেও সত্য যে, ওই সময় প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দও শেষ হয়ে যায়।
এমতাবস্থায়, ময়মনসিংহের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস আগের চিঠি মোতাবেক বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী হিসেবে আলী আজগরকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। নিরুপায় হয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আফজাল এইচ খান।েএদিকে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে দু:শ্চিন্তা-দুর্ভাবনা ও উৎকণ্ঠা তীব্র আকার ধারণ করে। নতুন করে নাটকীয়তা শুরু হয় ১২ ডিসেম্বরে। ফারমার্স ব্যাংক ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে নেয় আলী আজগরের উপর থেকে। এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আলী আজগরের মনোনয়নপত্রটি পুনরায় বহাল রাখে। ওমা! কিছুক্ষণ পরই শোনা গেল, আফজাল এইচ খানের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি তরিকুল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী আফজাল এইচ খানের মনোনয়ন গ্রহণ করে তাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
এই দ্বিমুখি আওয়াজ হালুয়াঘাটে পৌঁছলে ১২ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আলী আজগর ও আফজাল এইচ খান উভয়ের কর্মী-সমর্থকরা পৃথক পৃথক আনন্দ মিছিল করেন। দু:খের বিষয় হলো এখনো এই ধাঁধাঁ কাটেনি। জানা যায়নি সকল প্রকার ধুম্রজাল কেটে চূড়ান্তভাবে ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী টিকবেন কে? পাবলিকে খালি জিগায়, ধানের শীষ তুমি আসলে কার? আজগরের নাকি আফজালের? তবে বিএনপির লোকেরা কয়, তুমি যারই থাক না কেন, আমরা শুধু তোমারই।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top