কাগজে নয়, পাথরে নয় ফুলপুরের মানুষ আপনার নাম লিখে রাখবে অন্তরে

UNO-Rashed2.jpg

এম এ মান্নান
কাগজে নয়, পাথরে নয়, ফুলপুরের মানুষ আপনার নাম লিখে রাখবে অন্তরে। আপনি প্রমাণ করে গেছেন যে, রাজনীতির বাইরে থেকেও মানুষের উপকার করা যায়। ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফুলপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি (গঠনতন্ত্র মোতাবেক) মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরীর মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে বদলিজনিত কারণে ফুলপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শনিবার বাদ ইশা ফুলপুর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইউএনও’র উদ্দেশ্যে বক্তারা এসব কথা বলেন। ভোরের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার ফুলপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, কাগজে নয়, পাথরে নয়, ফুলপুরের মানুষ আপনার নাম লিখে রাখবে অন্তরে। এ সময় ফুলপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি দৈনিক ইনকিলাবের ফুলপুর উপজেলা সংবাদদাতা মো. খলিলুর রহমানের উপস্থাপনায় আরো বক্তব্য রাখেন, ফুলপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাপ্তাহিক ফুলপুর-এর সম্পাদক ও দ্যা নিউ নেশন পত্রিকার ফুলপুর প্রতিনিধি মো. হুমায়ুন কবীর মুকুল, দৈনিক সবুজ পত্রিকার ফুলপুর প্রতিনিধি এটিএম রবিউল করিম রবি, আমার সংবাদ পত্রিকার ফুলপুর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বাবুল, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার ফুলপুর প্রতিনিধি এম এ মান্নান প্রমুখ। সাংবাদিক মুকুল বলেন, একদিন হয়তো আপনি সচিব হবেন, সেদিন বেঁচে নাও থাকতে পারি, তবে ফুলপুরের প্রতি আপনার সুনজর রাখবেন এটাই প্রত্যাশা করি। এম এ মান্নান বলেন, জনহিতকর নানা কাজের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের অভিভাবক হিসেবেও আপনি কাজ করে গেছেন। আপনাকে আমরা ভুলব না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, এক শ্রেণীর মানুষ রাজনীতিবিদদের অপছন্দ করে, এক শ্রেণীর মানুষ প্রশাসনকে অপছন্দ করে, আরেক শ্রেণীর মানুষ সাংবাদিকদের অপছন্দ করে কিন্তু ফুলপুরে এমন কোন শ্রেণী পেশার মানুষ নেই যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরীকে অপছন্দ করে। ইউএনওকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, আপনি মানুষের মন জয় করেছেন। সত্যিই আপনার তুলনা হয় না। মেয়র আমিনুল হক বলেন, ফুলপুরের মানুষ আপনাকে যদি ভাল কিছু দিয়ে থাকে তবে সেগুলো নিয়ে যাবেন। আর যদি খারাপ কিছু দিয়ে থাকে তবে মাটিতে গর্ত করে সেগুলো ফুলপুরেই রেখে যাবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফুলপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি দৈনিক সংবাদের ফুলপুর প্রতিনিধি নুরুল আমিন। তিনি বলেন, উনাকে আমরা শুধু গরিব দরদী একজন দক্ষ ইউএনও হিসেবেই জানি কিন্তু এর বাইরেও তিনি অনেক বড় একজন আল্লাহওয়ালা মানুষ ছিলেন, যা আমরা অনেকেই জানি না। এ সময় তাবলীগের বিভক্তি নিয়ে ফুলপুর উপজেলা মসজিদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইউএনও কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে উল্লেখ করেন সাংবাদিক নুরুল আমিন। এর আগে অনুষ্ঠানের মধ্যমণি প্রধান অতিথি বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন যাবৎ কেন যেন আমার ঘুম হচ্ছে না। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঈশ্বরগঞ্জ ও আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ যে যে জায়গায় কাজ করেছেন এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, যদি কেউ কারো উপকার করে তবে তা কখনো বৃথা যায় না। আবার বিপরীতে, যদি কেউ কাউকে বিনা অপরাধে জ্বালায় অপকার করে তবে এরও ভুগনি তাকে ভুগতে হয়। তিনি তার কাজের বর্ণনা দিয়ে বলেন, সময়ে রাত ৩/৪টা পর্যন্তও কাজ করতে হয়েছে। আমার কাছে আসা সবাইকে আমি সময় দিতে চেষ্টা করেছি। কাউকে এভয়েড করতে পারিনি। সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র দায়িত্ব পালনসহ এত কাজ করতে হয়েছে যে, অনেক সময় সংসারের দিকে তাকানোর সময়ও পাওয়া যায়নি। এ সময় তার স্ত্রী ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লীরা তরফদারের অভিমানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। হেসে দিয়ে তিনি বলেন, গিন্নি মাঝে মাঝে বলে, তুমি এত ব্যস্ত থাক, সারা বাংলাদেশে তোমার মত ইউএনও মনে হয় আর নাই। এ সময় তিনি আরো বলেন, অফিসে যারা ভাল, সাধারণত: সংসারে তারা ভাল হয় না। কারণ, অফিসে সময় দিলে সংসারে এত সময় দেওয়ার সময় কোথায়? ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, আমার কাজে আমি কখনো আনইজি ফিল করিনি। তিনি আরো বলেন, আমি যেখানেই থাকি না কেন আপনাদের প্রতি সব সময়ই আমার নজর থাকবে। আপনারা আমাকে মাফ করে দিবেন, এটাই আমার শেষ কথা। এর আগে বিদায়ী ইউএনওকে মানপত্র পাঠ করে শোনান আমার দেশ পত্রিকার ফুলপুর প্রতিনিধি সিদ্দিকুল হাসান আর স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের ফুলপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম। সবশেষে বলা হয়, ক্রেস্ট বা মানপত্র বড় কথা নয় বরং আমরা যদি তাঁর আদর্শকে স্মরণ করে চলতে পারি তবেই আজকের এ অনুষ্ঠান স্বার্থক হবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, এড. মিজানুর রহমান, আলহাজ্ব আব্দুস ছাত্তার (দিনকাল) , মোস্তফা খান (আমার দিন), আব্দুল্লাহ আল সায়েম লিঠু (সাঃ ফুলপুর), সোহেল রানা (দিগন্ত বাংলা), ইমাম হোসেন (গণ জাগরণ), সাখাওয়াত হোসেন (বাংলাদেশ সময়), ইয়াকুব আলী (মুক্ত খবর), সাংবাদিক তপু রায়হান, সাইদুল ইসলাম মোবারকী প্রমুখ।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top