তিন যুগ পর ফুলপুর থেকে ওয়ার্ল্ড ভিশনের বিদায় : ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ’ অনুষ্ঠান

Phulpur-Pic2-1.jpg

এম এ মান্নান, ফুলপুর:
প্রায় তিন যুগ অর্থাৎ ৩৪ বছর পর ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে ফুলপুর এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বিদায় নিচ্ছে। এ উপলক্ষে ফুলপুরবাসির পক্ষ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় ফুলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে ওয়ার্ল্ড ভিশনকে ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ’ করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ১৪৭, ময়মনসিংহ-২, (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের এমপি শরীফ আহমেদ। বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভায় বক্তব্য রাখেন, মেয়র আমিনুল হক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড এক্সটারনাল এংগেজমেন্ট ডিরেক্টর কাজি রশিদ, গ্রেটার ময়মনসিংহ রিজিয়নের এক্টিং ফিল্ড ডিরেক্টর রাজু উইলিয়াম রোজারীও, ধন্যবাদ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ফুলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রওশন আরা বেগম, ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় বড় হওয়া লক্ষীপুর রামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা প্রভাষক উত্তম কুমার সেন, মাতৃকানন মহিলা বহুমুখি সমবায় সমিতির সভাপতি মার্থা কণিকা দাস, ফুলপুর অন্বেষণ শিশু ফোরামের সভাপতি সাকিবুল হাসান প্রমুখ। এ সময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তাসহ সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব এম এ হাকিম সরকার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ারা খাতুন, ওসি একেএম মাহবুব আলম, ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল মোজাহীদ সরকার, উবায়দুল হক, আব্দুল মোতালিব, মফিজুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মন্ডল, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন মহলের সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সম্মানিত অতিথি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল ডিরেক্টর ফ্রেড ইউটিভিন বিশেষ অসুবিধায় অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারেননি বলে ভাষ্যকাররা জানান। সভায় ফুলপুর এডিপি ম্যানেজার ইউজিন রড্রিক্স স্বাগত: বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ১৯৮৪ সনে ফুলপুর উপজেলায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচীর মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ভিশন প্রথম উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৮৬ সন পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। পরে ১৯৮৬ সন থেকে ১৯৯৯ সনের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করা হয়। এরপর ১৯৯৯ সনের ১লা অক্টোবর থেকে পুনরায় এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে চলতি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাজ করছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। তিনি আরো বলেন, শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, পয়:নিষ্কাশন, এইচআইভি এইডস বিষয়ক সচেতনতা, কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কমিউনিটিভিত্তিক সমবায় সমিতি গঠন ও শক্তিশালীকরণ, নেতৃত্ব বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু ফোরাম গঠন, শিশু অধিকার ও সুরক্ষা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বহুবিধ কার্যক্রম আঞ্জাম দিয়েছে ফুলপুর এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। এ সময় তিনি ওয়ার্ল্ড ভিশনের নানা অর্জন তুলে ধরেন। এ পর্যন্ত ১৭,৩২০ জনকে চিকিৎসা সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। ৬৫,৯১০ জনকে স্বাস্থ্য শিক্ষা সহযোগিতা, ১৮,৫৭৪ জনকে পুষ্টি প্রশিক্ষণ, ১৩,১৪০ জন অপুষ্টি শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, ১৮,৫৩০ পরিবারে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ও ১৭টি গণশৌচাগার প্রতিস্থাপন, ৫১,৪৩৩টি টিউবওয়েলের আর্সেনিক পরীক্ষা, ৩২টি নলকূপ স্থাপন, ১৫০ জন শারীরিক প্রতিবন্ধীর মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ, ২৮৭ জনকে ধাত্রীবিদ্যা ও গ্রাম্য ডাক্তার প্রশিক্ষণসহ উপকরণ বিতরণ, ৯৬৩ জন শিশুকে হেপাটাইটিস ১বি’ ভ্যাকসিন প্রদান, ১২,৬৫৬ জনকে এইচআইভি এইডস প্রতিরোধ বিষয়ক শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ২৮টি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, ৩৩টি বিদ্যালয় সংস্কার, ১৪টি বিদ্যালয়ে নলকূপ ও শৌচাগার স্থাপন, ৭০টি বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, ৪৮টি প্রি-স্কুল নির্মাণ, ১১৪টি বিদ্যালয় ও মাদরাসার মাঠ ভরাট করা হয়েছে। ১১, ৮৬২ জন শিক্ষার্থীকে স্পেশাল কোচিং প্রদান, ৪৩,১৫১ জন শিক্ষার্থীকে উপকরণ ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান, ৪,৩০৫ জন নারী ও শিশুকে অধিকার বিষয়ক শিক্ষা প্রদান ও ৩১,৭০৯ জন মহিলা/যুবককে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ৯,১৭১ জন সদস্যকে ৬,৮৬,৭৭,৭২০ টাকা মূল ধন দিয়ে ১৫টি সমবায় সমিতি গঠনে সহায়তা করা হয়েছে। ১৩,৯২৮ জন কৃষককে কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ, ১৪,৮২৯ পরিবারে গবাদি পশু বিতরণ, ১,৩৪,২২০টি ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ, ১২,৫৫০ জনকে দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, ৭৮১টি সেলাই মেশিন বিতরণ, ৫টি সমিতির অফিস ঘর নির্মাণ, ৫৫টি পুকুর সংস্কার ও খনন, ৭৭,৮৭৫ জনকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, ২,৪০০ পরিবারে জরুরি খাদ্য ও পুনর্বাসন সহায়তা, ১২,১২৫ পরিবারে শীতবস্ত্র বিতরণ, ৬৩টি কালভার্ট সংস্কার ও নির্মাণ, ৩৭৩টি ইউ ড্রেন নির্মাণ, ৮৩, ৯৪৬ কি.মি. রাস্তা নির্মাণ/পুন: নির্মাণ ও বৃক্ষ রোপন, ১১টি স্কুল কাম আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, ৪,০০০টি পরিবারে হারিকেন প্রদান, ৮৫৭ মিটার সার্ফেস ড্রেন নির্মাণ, ২৪৮টি স্বল্পমূল্যের গৃহ প্রদান, ৪টি রেইল ব্রিজ নির্মাণ, ১২৭টি স্কুল, বাজার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে মাটি ভরাট করা হয়েছে। এছাড়া ৬,৪১১ জন শিশুকে স্পন্সরশীপ প্রোগ্রামে অন্তর্ভূক্তকরণ ও শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান, ২,১০০ জন সদস্য নিয়ে ৮টি শিশু ফোরাম গঠন ও সহায়তা প্রদান, ৮৮ জন শিশু ফোরাম-এর কার্যকরী সদস্য, ৬,৪১১ জনকে শিশু সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান ও ৫,০৫০ জন শিশুর মধ্যে ছাতা মশারী ও স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। সভায় কিছুক্ষণ পর পরই থেমে থেমে শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপহার দেয়া হয়। মনোমুগ্ধকর ওই অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন, পাপিয়া ও রেজাউল করিম। এসব তথ্য জেনে এমপি শরীফ আহমেদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী এডিপি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশকে ফুলপুরে তাদের মেয়াদ আরো বৃদ্ধি করার জোরালো অনুরোধ জানান। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড এক্সটারনাল এংগেজমেন্ট ডিরেক্টর কাজি রশিদ ভবিষ্যতে আরো বৃহত্তর প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করা যায় কিনা তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন বলে জানান।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top