কর্মদক্ষ বাবুল ভাই আমাদের অনুপ্রেরণা

Babul-Medline.png

এম এ মান্নান
কর্মদক্ষ বাবুল আক্তার বাবুল ভাই আমাদের অনুপ্রেরণা। তার সম্বন্ধে দু/চার কথা লিখতে গিয়ে প্রাসঙ্গিকভাবে নিজের কথাও কিছু এসে যায়। আমি ১৯৯২ সনে ভারতীয় উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার ছারছীনা দারুস সুন্নাত আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হই। আবু বকর সিদ্দিক হলের ২নং কক্ষে এক বছর থাকার পর আমাদের ফুলপুরের কৃতি সন্তান কুটুরাগাঁও ফাযিল মাদরাসার সহযোগী অধ্যাপক ছারছীনার যুলফিকার শিল্পী গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য ও ছারছীনা ছাত্র সংসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শফীকুল ইসলাম ভাইয়ের সহযোগিতায় ১৯৯৩ সনে উত্তর জগন্নাথকাঠী হাজী আব্দুর রহমান জামে মসজিদে ইমাম পদে নিয়োগ পাই। যিনি ওই মসজিদেরই ইমাম ছিলেন। ওখানে বছর দুয়েক ইমামতি করি। পাশাপাশি মসজিদের মক্তবেও পড়িয়েছি। কুরআন পড়িয়েছি রাতে বয়স্কদেরও। এরপর চলে যাই আকলম কাজী বাড়ি জামে মসজিদে। সেখানেও একই পদে দায়িত্ব পালন করি। ওই মসজিদে ইমামতি ও মক্তব পড়ানোর সময় আজকের সফল ব্যক্তিত্ব মেধাবী ও একটিভ পারসন বাবুল ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়। তিনি কাজিবাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন মজিবর কাজির ঘরে লজিং থাকতেন। খুবই স্মার্ট ও কর্মচঞ্চল ছিলেন বাবুল ভাই। পড়ালেখার পাশাপাশি বহু ছেলেমেয়েকে প্রাইভেট পড়িয়ে তখনই একজন ভাল শিক্ষক হিসেবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন তিনি। ছোটবেলায় তার মা মারা যাওয়ার পর পড়ালেখার উদ্দেশ্যে বাড়ি ত্যাগ করেন বাবুল ভাই। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে। পড়ালেখা করতেন স্বরূপকাঠী কলেজে। তিনি ছিলেন আমার নিয়মিত মুসল্লী ও একনিষ্ঠ বন্ধু। প্রায় ছুটিতেই তিনি বাড়ি যেতেন না। ঘরে ছিল সৎ মা। বলা যায়, বাবা অনেকটা আনমনাই ছিলেন। সৎ মা আদর করলেও তেমন ভাল লাগতো না তার। মায়ের কথা মনে হলে কষ্টে প্রায়ই আড়ালে আবডালে বসে কাঁদতেন বাবুল ভাই। আমি বহুবার তার চোখে পানি দেখেছি। মোছার চেষ্টা করেছি। তাকে দিয়েছি প্রয়োজনীয় সান্ত্বনা। তিনি আমার কাছের বন্ধু ছিলেন। ১৯৯৫ সনে আমি যখন কামিল পরীক্ষার্থী বাবুল ভাই তখন ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার্থী ছিলেন। মসজিদের বারান্দায় বসে পড়াশুনা চলতো এক সাথেই। আমাদের সাথে যোগ দিতেন আমার ক্লাসমেট খুলনার ইমদাদ ভাই। তিনি রাতে তার লজিং বাড়ি না থেকে আমাদের কাজি বাড়ি জামে মসজিদে এসে থাকতেন। প্রতিযোগিতা হতো কে কত বেশি রাত জেগে পড়তে পারে। বাবুল ভাই ফ্লাস্কে করে চা ভরে নিয়ে আসতেন। চোখে ঘুম আসলে চলতো নিজেদের বানানো চা।সাথে মুড়ি চানাচুরও থাকতো। আর কতক্ষণ পর পর গলা ছেড়ে গজল গাইতাম। তখন প্রায় শ খানেক গজল পুরো বা আংশিক মুখস্থ ছিল। খুব ফুর্তিতে সময় কাটতো। কামিল পরীক্ষা শেষে দেশে চলে গেলাম। থেকে গেলেন বাবুল ভাই। তার লেখাপড়া শেষ হলে কাজিবাড়িরই ইমাম কাজি নামে একজন ব্যবসায়ী তাকে তেজগাঁয়ে তাদের স’মিলে ম্যানেজার পদে নিয়ে যান। মিলে তখন খুবই দুর্দিন চলছিল। কাজ না পাওয়ায় শ্রমিকরা একে একে চলে যাচ্ছিল। সারাদিনেও কাজ মিলতো না। দিনের শেষে অনেক সময় ভাড়া কর্জ করে ঘরে ফিরতে হতো। এমন দূরাবস্থায় মিলটি হাতে নেন যশী বাবুল ভাই। মাত্র দুই বছরের মাথায় পুরো জমজমাট করে তুলেন স’মিলের ব্যবসা। আগে যেখানে দু/চার মণ কাঠও ছিল না মিলে বাবুল ভাই যোগদানের পর কাঠের উপর দাঁড়িয়ে শহর দেখা যেত। মিল সতেজ হওয়ার পর হঠাৎ কষ্ট পেয়ে মিলের চাকরি ছেড়ে দেন বাবুল ভাই। যোগ দেন ধানমন্ডির ৪/এ রোডের ৪৩ নং বাড়ির এ-৩ এপার্টমেন্টের পাটওয়ারী এন্টারপ্রাইজে। সূচনা হয় নতুন দিগন্তের। যতই দিন যাচ্ছিল ততই তার কর্মস্পৃহা, অমায়িক ব্যবহার ও দক্ষতার জয় হয়। তার একটিভিটিজে মুগ্ধ হন পুরো পাটওয়ারী এন্টারপ্রাইজ পরিবার। মার্কেটে প্রায় একচেটিয়া ব্যবসা পান নিবেদিতপ্রাণ এই মার্কেটিং ম্যানেজার বাবুল ভাই। বেতনের ফিগার ছোট হলেও প্রচুর পরিমাণ বোনাস ও কমিশন পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন মিতব্যয়ী ক্ষুদে এই বাবুল ভাই।
জানা যায়, তার কোম্পানীতে কর্মরত ২৬ জন কর্মচারীর ২৫ জনে মিলে কোম্পানীকে যে লাভ দেন, বাবুল ভাই একাই এর দ্বিগুণ দিতে পারেন। ফলে বাবুল ভাই শুধু এই প্রতিষ্ঠানে নয় আশপাশের প্রতিষ্ঠানের জন্যেও হয়ে ওঠেন অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। ইতোমধ্যে তিনি ব্যবসায়িক কাজে চীন সফর করেছেন। নিজের অর্থায়নে ঢাকা মোহাম্মদপুরের সীমানাঘেঁষে কেরানীগঞ্জের আটি বাজার সংলগ্ন ঘাটারচরে লাবনী লেক সিটিতে শহীদ বুদ্ধিজীবি সড়কে আলিফ কটেজে গড়ে তুলেছেন মিডলাইন ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এছাড়া আরো তিন বন্ধুকে নিয়ে রয়েছে একটি ঔষধ কোম্পানী। বাবুল ভাই ওই কোম্পানীর অর্ধেকাংশের মালিক। ঘাটার চর লাবনী লেকসিটির শহীদ বুদ্ধিজীবি সড়কে ১০ তলা বিশিষ্ট আলিফ কটেজে রয়েছে ২৮টি ফ্ল্যাট। এর ৪টির মালিক বাবুল ভাই। এছাড়া ওই রোডেই বাবুল ভাইসহ ৬ বন্ধুর অর্থায়নে নতুন আরেকটি ১০ তলা ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। কথা হচ্ছিল আলিফ কটেজের দ্বিতীয় তলায় বাবুল ভাইয়ের আলিশান ফ্ল্যাটে বসে। তিনি বলেন, এখনো মাঝে মাঝে মনে হয় আমি ভাড়ায় থাকি। এত সুন্দর বাসা আমার তা ভাবতেই অবাক লাগে। বাবুল ভাই আগে থেকেই নামাজী ছিলেন। আল্লাহর শোকরিয়াস্বরূপ সম্প্রতি তিনি দাঁড়িও রেখে দিয়েছেন। তিনি কাউকে ধোঁকা দেন না, ঠকান না। কারো সাথে মিথ্যা কথা বলেন না। মালে ভেজাল দিয়ে ব্যবসা করেন না। অধীনস্থদের প্রতি তিনি সদা যত্নশীল। তিনি বলেন, সততার সাথে কাজ করলে আল্লাহ বরকত দেন। আমি এর বাস্তব উদাহরণ। তিনি নিয়মিত দেশে যান। সৎমাসহ বাবা, ভাইবোন ও নিকটাত্মীয়দের খোঁজ খবর রাখেন। নিয়মিত যাকাত আদায় করেন। শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি বন্ধুবান্ধবসহ সামাজিক কর্মকান্ডে সময় দিয়ে থাকেন। তিনি টাঙ্গাইলে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বিবাহ করেছেন। ভাবীর নাম রিনা তালুকদার। খুবই ভাল মানুষ। নামাজী, মিষ্টভাষী ও অতিথি পরায়ণ। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে নিয়ে তাদের সুখের সংসার। ছেলে মাহাদী হাসান রাবী স্থানীয় ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউট থেকে সমাপনী পরীক্ষার্থী। সে অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র ছেলে। সে ইতোমধ্যেই কুরআন শরীফ নাজেরা পড়া শিখেছে। ভাগ্যবতী মেয়ে নাবিহা আক্তার রিদার বয়স কেবল ৩ মাস। এয়ার কন্ডিশন বাসায় সার্বিক সুবিধায় বেড়ে ওঠা রিদার মুখে নেই কোন কান্নাকাটি। তার জন্য ভাবীর তেমন কোন পেরেশানী পোহাতে হয় না। তার মুখে শুধু হাসি আর হাসি। অনেক কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে বড় হওয়া বাবুল ভাইয়ের চলাফেরা এখনো রোডের গাড়ি দিয়েই। তবে তিনি শিগগিরই গাড়ি কেনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মেয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, মেয়েটি আমার খুবই ভাগ্যবতী। সে দুনিয়ায় আসার মাসেই আমার এক লক্ষ টাকা ইনকাম হয়েছে। যা সাধারণত: হয় না। তার ছেলেও অত্যন্ত মেধাবী ও নামাজী। তিনি তাদের হাফেজ আলেম বানানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সকলের দোয়া প্রার্থনা করেন।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top