‘করলে ব্রি ধান বিরাশি, চাষী দিবে বীরের হাসি’— ড. তমাল লতা আদিত্য

Phulpur-News-Bri82.jpg

এম এ মান্নান
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার পয়ারী ইউনিয়নের ইমাদপুর গ্রামে শনিবার বিকালে চলতি মৌসূমে নতুন জাতের আউশ ধান ব্রি৮২ ও ব্রি৪৮ জাতের শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ড. তমাল লতা আদিত্য এ কথা বলেন। তিনি বলেন, করলে ব্রি ধান বিরাশি, চাষী দিবে বীরের হাসি। শস্য কর্তন করে স্কুল মাঠে মাড়াই করার পর মেপে দেখা যায়, ব্রি৮২ ও ব্রি৪৮ প্রতি একরে ৪৫ মণ করে ধান ফলন হয়েছে। এ সময় স্থানীয় অনেক কৃষক উপস্থিত ছিলেন। বাম্পার ফলনে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষকরা তখন ওই ধানের বীজ চাচ্ছিলেন চাষী রজব আলীর কাছে। ধান কর্তন ও মাড়াইয়ের পর এ উপলক্ষে ইমাদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হলরুমে ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগিতায় ও ব্রি গাজীপুর এর ফলিত গবেষণা বিভাগের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্রি৮২ এর গবেষণা বিভাগের পরিচালক প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষিকন্যা বলে খ্যাত কৃষিবিজ্ঞানী ড. তমাল লতা আদিত্য। তিনি বলেন, দেখা যায়, মানুষ শুধু একটি সন্তানের উপর নির্ভর করে না। বিকল্প গ্রহণ করে। তেমনি ব্রি৮২ ধানটিও ব্রি৪৮-এর বিকল্প ও পরিপূরক একটি ধান। মাত্র ১০০ দিনেরও কম সময়ে এ ধান ঘরে তোলা যায়। কম খরচে এর ফলনও বেশি। এ জাতীয় ধানের দানার আকৃতি মাঝারি মোটা। ১০০০ ধানের ওজন হয় ২৩.৮৪ গ্রাম। দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৮.০ ভাগ। তাছাড়া প্রতি দানায় প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৭.৬ ভাগ। এতে ভাত হয় খুব ঝরঝরে। এর কান্ড শক্ত ও মজবুত হওয়ায় ধান গাছ ১১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হলেও ঝড় তুফানে সহজেই তা ভেঙে বা ঝরে পড়ে না। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এ ধান প্রতি হেক্টরে সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৫ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। ড. তমাল লতা বলেন, ব্রি৮২ জাতটির জীবনকাল স্বল্প হওয়ায় রোপা আউশ মৌসূমে এ ধান আবাদ করার পর আমন ধান আবাদের সুযোগ তৈরি হবে। ইমাদপুরে চাষী রজব আলীর ব্রি৮২ ধানের ক্ষেত পরিদর্শনকালে ধানের বাহারি রূপ ও ফলন দেখে উপস্থিত সবাই মুগ্ধ ও খুশি হন। ক্ষেতের আলে দাঁড়িয়ে প্রধান অতিথি বলেন, ‘করলে ব্রি ধান বিরাশি, চাষী দিবে বীরের হাসি।’ স্কুল হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ডিএই’র অতিরিক্ত পরিচালক মো. আসাদুল্লাহর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিশ্বজিৎ কর্মকার, উপজেলা কৃষি অফিসার সুকল্প দাস, চাষী রজব আলী প্রমুখ। বিশ্বজিৎ কর্মকার বলেন, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাড়ছে। পাশাপাশি এদের জন্য বাড়ছে স্কুল কলেজ ও ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনা। কিন্তু কোন জমি বাড়ছে না । বরং কমে যাচ্ছে। তাই আমাদের এই অল্প জমিতে কিভাবে অধিক ফলন হয়, সেই চিন্তা করতে হবে। ব্যবহার করতে হবে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জিয়াউর রহমান। এ সময় সিনিয়র সাংবাদিক ফুলপুর প্রেসকাবের সহ-সভাপতি নুরুল আমিন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফুলপুর প্রতিনিধি এক্সিলেন্ট স্কুল এন্ড মাদরাসার প্রিন্সিপাল এম এ মান্নান, ইমাদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ইউনুস আলী, সোহেল রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top