তাবলীগের চলমান সঙ্কট নিরসনে ৬ সিদ্ধান্ত

Tablig2.jpg

এম এ মান্নান
বর্তমানে তাবলীগ জামাত নিয়ে যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে, উহা নিরসনে ২৮ জুলাই ২০১৮ শনিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের এক বৈঠক বা ওয়াজাহাতি জোড় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জোড়ে জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল পীরে কামেল আল্লামা আশরাফ আলী, জামিয়া বারিধারার মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, মারকাজুদ দাওয়ার আমিনুত তালিম মুফতি আবদুল মালেক, কিশোরগঞ্জ জামিয়া ইমদাদিয়ার মুহাতামিম আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ, গহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিন, ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, শাইখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক, লালবাগ জামিয়ার মুহাদ্দিস মুফতি ফয়জুল্লাহ, বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান মুফতি এনামুল হক, বারিধারা মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি ওবায়দুল্লাহ ফারুক, আরজাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, উত্তরা আল মানহাল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আযহারীসহ বাংলাদেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।
শুধু তাই না, এ উপলক্ষে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে সারা দেশ থেকে হাজার হাজার উলামায়ে কেরাম ও তাবলীগের সাথীদের মোহাম্মদপুরের কবরস্থান মাঠে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। মাঠের চতুর্দিকে প্রায় ১ কিলোমিটারজুড়ে ছিল শুধু মানুষ আর মানুষ।
জোড়ের নামে তাবলীগের চলমান সঙ্কট নিরসন ও মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও উলামায়ে কেরামের অবস্থান পরিস্কার করতেই মূলত: এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জোড় শেষে তাবলীগ জামাতের চলমান সঙ্কট নিরসনে ৬টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওই ৬ সিদ্ধান্তে উলামায়ে কেরাম সবাই ঐক্যমত পোষণ করেন।
সিদ্ধান্তগুলো হলো-
১. জমহুর উলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন, তিনটি মৌলিক কারণে- (ক) কোরআন ও হাদিসের মনগড়া ব্যাখ্যা, (খ) তাবলীগের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে তাবলীগ ব্যতিত দ্বীনের অন্যান্য মেহনতকে যথা দ্বীনি শিক্ষা ও তাসাউফ ইত্যাদিকে হেয়প্রতিপন্ন করা। (গ) পূর্ববর্তী তিন হজরতজি (হজরত মাওলানা ইলিয়াস রহ., হজরত মাওলানা ইউসুফ রহ, ও হজরত মাওলানা এনামুল হাসান রহ.) এর উসুল ও কর্মপন্থা থেকে সরে যাওয়ার কারণে মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেবকে বর্তমানে অনুস্রণ করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ও বর্জনীয়।
২. মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেব হজরত মাওলানা এনামুল হাসান রহ. এর রেখে যাওয়া শুরায়ী নেযামকে উপক্ষো করে নিজেই নিজেকে আমীর দাবি করেছেন, যা শরীয়ত বিরোধী। তাই তার কোন সিদ্ধান্ত/ফায়সালা বা নির্দেশ কাকরাইল তথা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত করা যাবে না।
৩. দারুল উলুম দেওবন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতাদর্শ থেকে সরে গিয়ে নতুন কোন ফেরকা গঠনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এহেন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কোন জামাত বা ব্যক্তিকে নেযামুদ্দিনে পাঠানো বা যাওয়া মুনাসিব হবে না।
অনুরূপভাবে নেযামুদ্দিন থেকে আগত কোন জামাতকে বাংলাদেশের কোনো জেলায়/থানায় অথবা ইউনিয়নে কাজ করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।।
৪. হজরত মাওলানা ইলিয়াস রহ., হজরত মাওলানা ইউসুফ রহ. ও হজরত মাওলানা এনামুল হাসান রহ এর বাতানো পদ্ধতিতে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ সারা দুনিয়াতে সমাদৃত ও গৃহীত হয়েছে।
তাই বাংলাদেশে তাবলীগের কাজ পূর্ববর্তী ওই তিন হজরতের পদ্ধতিতে এবং উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। নতুন কোন পদ্ধতি চালু করা যাবে না। কাকরাইল, টঙ্গী ময়দান এবং জেলা মারকাযসহ সকল মারকায এই নীতিতেই পরিচালিত হবে।
৫. কাকরাইল মসজিদের যে সমস্ত শুরা সদস্য আমরণ মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেবের ভ্রান্ত আকিদা অনুসরণের হলফনামা করেছেন যা শরীয়ত পরিপন্থি, তারা শুরার সদস্য থাকার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন।
অতএব, তাদেরকে তাবলীগের কাজে শুরা ও ফায়সালায় না রাখার আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
৬. ২০১৮-তে টঙ্গী ইজতেমায় সরকারের সাথে পরামর্শক্রমে আগামী ২০১৯-এর টঙ্গী ইজতেমার জন্য নির্ধারিত তারিখ- প্রথম পর্ব ১৮, ১৯, ২০ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় পর্ব ২৫, ২৬, ২৭ জানুয়ারি এর সাথে আজকের মজমা ঐকমত্য পোষণ করছে। এসব সিদ্ধান্ত সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন ও বর্তমানে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে বিশৃঙ্খলা রোধে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সবশেষে বাংলাদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বয়ান ও দোয়ার মাধ্যমে দুপুর ১টায় জোড় শেষ হয়।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top