প্রশাসনিক কর্মকর্তার মৃত্যু ভাবনা সাধারণের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে

Rashed-UNO.jpg

ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী
এম এ মান্নান
এ দুনিয়ার মৃত্যু শেষ মৃত্যু নয় বরং পরকালে আরেকটা মৃত্যু রয়েছে। জান্নাত জাহান্নাম বন্টন করে দেওয়ার পর পরকালে মৃত্যু নামক জিনিসটির মৃত্যু অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আর মৃত্যু হবে না। আল্লাহ আমাদের কেন কি কাজে পাঠিয়েছেন? যে কাজের জন্য দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন ওই কাজ যারা দুনিয়ার মৃত্যুর আগেই সঠিকভাবে আঞ্জাম দিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে তারা জান্নাতি হবে। আর যারা আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত ভোগ করেও আল্লাহরই বিরোধিতা করেছে, আল্লাহর সাথে নাফরমানী করেছে, আল্লাহর শানের বিপরীতে অপমানজনক ব্যবহার করে আল্লাহকে অস্বীকার করে বসেছে তাদের রেহাই নাই। তবে তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিতে পারেন, সেটা তার একান্ত ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তবে সাধারণ নিয়ম হলো, ওইসব আস্ফালনকারীদের জাহান্নামে পাঠিয়ে তারপর আল্লাহ মৃত্যুর মৃত্যুদান করবেন। এরপর আর কারো মৃত্যু হবে না। জান্নাতীরা জান্নাতে চিরসুখে দিন কাটাবেন আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে চিরদুখে যন্ত্রণাময় আযাবে নিমজ্জিত থাকবে। মৃত্যুকে নিয়ে ভাবলে সাওয়াব হয়। কারণ, মৃত্যু এতই কঠিন যে, এর স্মরণেই মানুষ দুর্বল হয়ে যায়। অন্তরে ভীতির সঞ্চার হয়। মন্দ-গর্হিত ও পাপ কাজ থেকে বিরত থেকে ভাল কাজে মনোনিবেশ করতে শিখে। তাই হাদীসে প্রতিদিন কমপক্ষে একশত বার মৃত্যুর কথা স্মরণ করতে বলা হয়েছে। কেননা, যে পাপ মানুষকে চিরস্থায়ী শাস্তির দিকে ঠেলে দেয়, মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে সেই পাপের প্রতি ঘৃণা জন্মায় ও পাপবিমুখ করে। নেকের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। আখিরাতে চিরসুখের স্থান জান্নাতের পথকে সুগম করে। আমাদের সাধারণের মৃত্যু স্মরণ আর আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মৃত্যু স্মরণ এক নয়। রাত দিন তফাৎ। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মৃত্যুর কথা স্মরণ করলে তিনি কোন অন্যায়ে জড়িত হবেন না। এতে করে হাজারো মানুষ তাদের হকবঞ্চিত থেকে রক্ষা পাবে। ফিরে পাবে ন্যায্য অধিকার। পৃথিবী তখন হবে নিরাপদ ও বসবাস উপযোগী। সমাজের প্রতিটি পরতে পরতে বিরাজ করতে থাকবে বেহেশতী সুখ ও শান্তি। আমাদের ফুলপুর ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী স্যার মৃত্যুকে স্মরণ করে ফেইসবুকে একটি সুন্দর স্ট্যাটাস দিয়েছেন। উহা এখানে তুলে ধরা হলো: আল্লাহ তাঁকে দ্বীনের জন্য কবুল করুন।
মৃত্যু, মানুষের এক অনিবার্য পরিণতি।আমরা কেউ মৃত্যু প্রত্যাশা করিনা। কিন্তু অবধারিতভাবে আমাদেরকে এই সুন্দর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হবে। প্রতিদিন আমাদের আশেপাশের অনেক মানুষ চলে যাচ্ছে অন্য এক জগতে। অজানা সেই জগত। কেউ তো কখনো ফিরে এসে বলে যায়নি, কেমন আছে তারা সে জগতে। আর তাই এ বিষয়টি মানুষকে জন্মের পর থেকে যখন সে বুঝতে শিখে তখন থেকেই ভাবায়।
আমাদের আশেপাশের অনেক মৃত্যুই আমাদের ঠিক সেভাবে স্পর্শ করে না।আজ যে মানুষটি আমার পাশেই ছিল, হয়তো পরিবারের কোন সদস্য কিংবা সহকর্মী কিংবা যেকোনভাবেই পরিচিতজন- আকস্মিকভাবেই হয়তো শুনলাম পৃথিবীতে সে আর নেই।কি বিচিত্র এক অনুভূতি। আর যে তার মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিতভাবে আগেই জেনে যায় তার কিরকম বোধ হয়, তা হয়তো কারো উপলব্ধি করা সম্ভব না।ফাসির দড়ির সামনে অথবা চোখের সামনে বন্দুকের নলের আহবান কিনবা অবশ্যম্ভাবী কোন দূর্ঘটনার আগে মানুষের কি মনে হতে পারে? কোন স্মৃতিগুলো তার মনে ভেসে উঠে?
হয়তো নিজেকে কল্পনায় সেই বিশেষ লোকের ভূমিকায় চিন্তা করলে কিছুটা উপলব্ধি করা যায়। মাঝে মাঝে মনে হয়, যে লোকটি প্রতিদিন মৃত মানুষদের জন্য কবর খুঁড়ে দেয় তার কি কোন অনুভূতি আছে। কিংবা যে জল্লাদ মানুষকে ফাসির দড়িতে ঝুলায় তার।
মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই বেশ কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা মনকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছে। তাই মাঝে মাঝেই এই চিন্তাগুলো অযাচিতভাবেই এসে যায়।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top