জার্মানী প্রতিষ্ঠান ‘মাটি’র কার্যক্রমে প্রয়োজন আলাদা চমক

Mathi1.jpg

এম এ মান্নান
শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় চন্দ্রকোণা ইউনিয়নে চরমধুয়া গ্রামে জার্মানীদের প্রতিষ্ঠিত ‘মাটি’ নামক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন আলাদা চমক। সেকেলে পরিবেশে চলছে সবকিছু। জার্মানসহ ১০’র অধিক দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত সেখানে ‘মাটি’র রয়েছে একটি স্কুল শাখা । সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অগোছালো ও এট্রাক্টিভনেসলেস পরিবেশে স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের নেই পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ ও সুনির্দিষ্ট পোশাক বা ইউনিফর্ম। খেলাধুলারও কোন বড় মাঠ নেই। বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত স্কুলটিকে ঘিরে ডিজিটাল ফ্যাসিলিটিজ অন্তর্ভুক্তিসহ এলাকাবাসির যে প্রত্যাশা রয়েছে তা পূরণ হচ্ছে না। একটি আদর্শ শ্রেণী কক্ষে যা থাকার প্রয়োজন ওই স্কুলে তা সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। এমনকি উন্নত কোন ব্ল্যাক বোর্ডও নজরে পড়েনি। স্কুলে খাতা কলমে দুইশ ছাত্রছাত্রী থাকলেও উপস্থিতির হার ছিল নিতান্ত কম। আয়েশা খাতুন নামে একজন টীচারের কাছে স্কুল বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি নিজে কথা বলতে রাজি না হয়ে বলেন, আপনি রাশিদা আপার সাথে কথা বলেন। তখন রাশিদা আপাকে পাওয়া যায়নি। ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্কুলটিতে দুই শ’র মত ছাত্রছাত্রী ও ১০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। স্কুলের পক্ষ থেকে তাদের দুপুরে এক বেলা খাবার দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, ওখানে স্কুলিং ছাড়াও রয়েছে চোখের ফ্রি চিকিৎসা ও কৃষি বিষয়ক কার্যক্রম। এছাড়া হতদরিদ্রদেরকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদবিহিন ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে। এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতে তাদের ২৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন। আলাদা কোন কিছু নয় বরং তারা দেশীয় অন্যান্য কৃষকের ন্যায় বিভিন্ন কৃষি করে থাকেন। কৃষিতে তাদের বিশেষত্ব হলো, তারা কোন প্রকার সার, বিষ বা কীটনাশক ব্যবহার করেন না। তারা বরং নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত কেঁচো কম্পোস ব্যবহার করে কৃষিতে সাশ্রয় আনাসহ ফলনে ভাল করে থাকেন।
সাত একর জমির উপর পাকা রাস্তা ঘেঁষে প্রতিষ্ঠিত ‘মাটি’র অফিসটিতে একটি চার তলা বিল্ডিংসহ অভিনব কায়দায় তৈরিকৃত মূল অফিস, রেস্ট হাউজ ও গেস্ট হাউজসহ বেশ কয়েকটি বিল্ডিং রয়েছে। তবে অফিসিয়াল টাইমে ওগুলো ছিল অনিরাপদ অবস্থায় নিম্নমানের শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ। সরকারী বা বেসরকারী কোন ছুটি না থাকলেও কোন কর্মকর্তার দেখা মিলেনি তখন। মূল ফটক ছিল দারোয়ানবিহিন ও খোলা। ওখানে ওয়ালে কিছু কার্যক্রমের বিবরণ লেখা থাকলেও মূল ফটকে ছিল না কোন সাইন বোর্ড। ভিতরে বিল্ডিংগুলোর সামনেও নেই কোন নেম প্লেট । ৩টি শ্রেণীকক্ষে আনুমানিক ১০/১৫ জন করে ছাত্রছাত্রীসহ ৪/৫ জন শিক্ষিকা ও পথে ৩/৪ জন কর্মচারী দেখা গেছে। নানা ধরনের ফল ফুলের গাছগাছালি দ্বারা আচ্ছাদিত নয়নাভিরাম অফিসগুলো প্রায় ঘন্টাখানেক ঘুরেফিরে দেখার পর ফেরার সময় ভিতরে প্রবেশ করেন, ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম। এর সামান্য পর জুয়েনা এবং হেলেনা নামে দুজন জার্মানী। কথা হয় জুয়েনার সাথে। তিনি বলেন, এটি একটি সেবা সংস্থা। গত সাত মাস যাবৎ তিনি এখানে কাজ করছেন বলে ইংলিশ টকিংয়ে জানান। তাদের কাজ হলো অবজারভেশন করা। সংস্থার টার্গেট পূরণে বুদ্ধি পরামর্শ ও কৌশলগত সহযোগিতা করা। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মাটি’র মূল কার্যক্রম হলো, অতি দরিদ্রদের জন্য আশার আলো-শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা, পড়ন্ত বেলা বয়স্ক ভাতা দেওয়া, বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা দান, অর্গানিক কৃষি (জৈব কৃষি), বন্যা পুনর্বাসন ও শীতবস্ত্র বিতরণ, অন্ধ দূরকরণ প্রকল্প, বাটারফ্লাই ডে-কেয়ার, কাইলাজুড়ী হেল্থ কেয়ার প্রকল্প, ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ, সেলাই, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট কারপেন্ট্রীসহ এখানে নারীর অধিকার, জলবায়ূ পরিবর্তন, শব্দদূষণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা, এইচআইডি/এইডস ও কৃষকদের দেশীয় বীজ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। এ সময় হেলেনাও তার সাথে ছিলেন।
ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম জানান, এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে মিজরীয়র, ব্রেড ফর দ্যা ওয়ার্ল্ড, স্টিফটুংগ ব্রুকে, ফেসওয়াস ইভি, মাটি ইভি, ৩ দ্রিটে ভেল্টলাডেন, লডাবিগসবুরগ, জার্মান সরকার ও জার্মান বন্ধুরা, আন্ধরী হিলফ, কারিতাস সুইজারল্যান্ড ও এন জেড লিংক গ্রুপ আমাদের অর্থ যোগান দিচ্ছে। আমার সাথে ছিলেন, সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল আমিন ও পপুলার লাইফের ফুলপুর শাখার সহকারী প্রকল্প পরিচালক রাকিবুল ইসলাম মাহফুজ। সাংবাদিক নুরুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম জানান, সংস্থাটি লাভবান। তবে এর মান উন্নয়নে পরিবেশগত ও কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা ও উন্নত প্রযক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন বলে সুধীমহল মনে করেন।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top