মাহে রমজান ও আমাদের ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি —- ইউএনও, ফুলপুর

UNO-Rasged-as-a-writer.jpg

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে এর সম্মান রক্ষাসহ ওই মাসে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য যাতে বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। রোযা বিষয়ে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল ফিতর। মূলত ঈদুল ফিতরের মূল আমেজ শুরু হয় রোযা শুরুর সাথে সাথে। আর এ কারণেই এই ঈদুল ফিতরকে অনেকেই রোযার ঈদ বলে থাকেন। বাংলাদেশের মানুষ এই রমজানের জন্য মানসিক প্রস্তুতি আরো আগে থেকেই নিয়ে থাকেন। ছোট বেলায় প্রথম রোযার স্মৃতি এখনো স্পষ্ট মনে আছে। বাবার কাছে রোযার নিয়ত মুখস্থ করা আর রোযার নিয়ম-কানূন শিক্ষা নেয়া আমার কাছে এক দারুণ সুখময় স্মৃতি।
তবে এটি মূল প্রসঙ্গ নয়। প্রতিবার রমজানের আগেই দেখতাম আব্বা রোযার মাসের খরচ নিয়ে খুব চিন্তার মধ্যে থাকতেন। সংসারে চাল, ডাল, তেল, চিনি, পিঁয়াজসহ অন্যান্য মসল্লা ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখতে চেষ্টা করতেন। কারণ, রমজান এলেই কেন যেন এগুলোর দাম বেড়ে যায়।দাম বাড়ে না এমন পণ্য অবশ্য খুবই কম। মাছ, মাংসের দাম বাড়ে। খেজুর, বেগুন, আলুর দাম বাড়ে। সবজির দাম বাড়ে। কিন্তু কেন বাড়ে? সাধারণ মানুষ বলেন, ব্যবসায়িরা এ সময় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন। উদ্দেশ্য, অধিক মুনাফা। ব্যবসায়ীমহল বলে সারা বছরের মুনাফার সিংহভাগ তারা এই সময়ে করেন। সরকারকেও এই দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে যথেষ্ট বেগ পোহাতে হয়। আমাদের ব্যবসায়িক সমাজের একটি অংশ আবার নিজেদের প্যারালাল গভর্নমেন্ট মনে করে। তারা এসবের কোন কিছুর তোয়াক্কা করে না। তাই এ সমস্যার পুরো সমাধানও হয়না। এর পরিবর্তন প্রয়োজন।
পৃথিবীর অনেক দেশেই বড় উৎসবের সময় মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সে সময় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো হয়। ছাড় দেয়া হয়। রমজান অত্যন্ত পবিত্র মাস। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুসলমানগণ সংযমী হবে, এটাই প্রত্যাশিত। তাই খাবার থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ও সকল ক্ষেত্রেই সংযমী হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, রোযার মাসে আমরা অনেকেই যাকাত আদায় করি। এই যাকাত দারিদ্র বিমোচনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে আমাদের প্রচলিত ব্যবস্থায় যেভাবে যাকাত দেয়া হয়, তাতে দারিদ্র বিমোচন তো হয়ই না, দারিদ্র্যকে বরং উপহাস করা হয়। যাকাত বোর্ডকে শক্তিশালী করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা দরকার। আমার মনে হয় এটি সম্ভব। পাশাপাশি একজন যাকাত প্রদানকারী ব্যক্তি যদি প্রতি বছর অন্তত একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে তার পুরো যাকাতের টাকা দিয়ে তাকে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন, তাহলে চিন্তা করে দেখুনতো কি হয়। সমাজ পাল্টে যাবে। আসুন, আমরা কথাগুলোর উপর আমল করার চেষ্টা করি। —- অনুলিখনে: এম এ মান্নান

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top