ফুলপুর বিএনপিতে ঐক্য ঐক্য ভাব কিন্তু সমন্বয়ের অভাব

sarwar2.jpg

এম এ মান্নান
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা বিএনপিতে সম্প্রতি ঐক্য ঐক্য ভাব কিন্তু সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রায় এক যুগ ধরে নেতায় নেতায় এমনকি এক কর্মী আরেক কর্মীর সাথে মুখ দেখাদেখি হয় না। তাদের মাঝে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের মাঝে খোশ আলাপন যেন অকল্পনীয়। কোন চা-স্টলে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, শিক্ষা সফর, বিবাহ সাদী এমনকি ঈদ পুনর্মিলনীতেও একত্রে বসতে দেখা যায় না তাদের । নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব যেন চরমে। ওই দ্বন্দ্ব যেন পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ভালবাসা, স্নেহ-মমতায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরস্পরের মধ্যে সদা স্নায়ূবিক যুদ্ধ বিরাজ করছে। ফলে পার করতে হচ্ছে মানসিক যন্ত্রণাময় এক জীবন। কিন্তু এভাবে আর কতকাল? বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শহীদ হয়ে গেছেন। তার কোন মেয়ে নেই। দুই ছেলের ছোটজন আরাফাত রহমান খোকো মারা গেছেন, বড়জন তারেক রহমান বিদেশে। তার সহধর্মিনী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় বন্দী। পুত্রবধুরা থাকলেও দল চালানোর অভিজ্ঞতা যেন তাদের নেই। এমতাবস্থায়, ‘এক জিয়া লোকান্তরে লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে।’ শ্লোগানটির যথার্থতা প্রমাণ করা সময়ের দাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহীদ জিয়ার কাছ থেকে যারা নূন খেয়েছেন, তার দল থেকে যারা সুবিধা নিয়েছেন, শহীদ জিয়ার পরিবারের এহেন দুর্দিনে, দলের প্রয়োজনে তাদের ভূমিকা ও অবদান রাখার মুখ্য সময় এখনই। দরকার হয়ে পড়েছে দলীয় কার্যক্রমকে বেগবান করার ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে অসহায় বেগম জিয়াকে জেলখানার অন্ধকারিত্ব থেকে আলোকিত জীবনে মুক্ত করে আনবার। তা না করতে পারলে শুধু জিয়া পরিবারকে নয় বরং এর খেসারত দিতে হবে দলের সাথে জড়িত সকলকেই। সেই উপলব্ধি থেকেই গত কদিন যাবৎ ফুলপুর বিএনপিতে ঐক্যের তোড়জোর চলছে। শোনা যাচ্ছে দীর্ঘ বার বছর পর ঐক্যের সুর। ৫ মার্চ বিএনপি নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল বাসার আকন্দের বাসায় ও ৬ মার্চ ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. সৈয়দ এনায়েত-উর-রহমানের বাসায় ‘ঐক্য প্রয়োজন’ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে কিভাবে কোথায় বসে কার আহ্বানে ওই ঐক্য হবে? অথবা ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভবের পরও বিলম্বিত কেন, বাধা কোথায়? সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব কেহ দিতে পারেননি। মঙ্গলবার মাগরিবের পর থানা রোডস্থ নিজ বাসভবনে এড. সৈয়দ এনায়েত-উর-রহমান সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান। বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার দূরাবস্থা ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা বুঝান তিনি । বিগত দিনে দলের জন্য তিনি যে অবদান রেখেছেন ও সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন চেয়েছেন সে কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কাঁদা ছুড়াছুড়ি, কানা-ঘুষা আর নয়। ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব বহাল রাখা ও তোষামোদি ব্যক্তি নিয়ে চলার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কুরবানী করতে হবে সকল প্রকার পদপদবি পাওয়ার লোভ লালসাকে। তবেই ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব। এ সময় ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ শহীদ সারোয়ার, সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফুলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল বাসার আকন্দ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. সৈয়দ এনায়েত-উর-রহমান ও তিনি নিজে ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমানের মধ্যে ঐক্য হলেই ফুলপুর বিএনপিতে ঐক্য হয়ে যাবে। ৫নং ফুলপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান খোকা ও উপজেলায় কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ তখন উপস্থিত ছিলেন। মোস্তাফিজুর রহমান খোকা বলেন, বিএনপিতে যে অবস্থা বিরাজ করছে তা লাগাতার ছিল তা কিন্তু নয় বরং দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় কাঙ্খিত ফসল ঘরে উঠানোর উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও বিএনপির অর্জনে রয়েছে।
আশা করি এখনও সকল কিছুর ঊর্ধ্বে ওঠে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছিনিয়ে আনার লক্ষ্যে ও দলের প্রয়োজনে নেতারা আবারও শীঘ্রই মিশবেন ও ঐক্যবদ্ধ হবেন। এদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ শহীদ সারোয়ারও ১০ মার্চ ২০১৮ ফুলপুর থানা রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে ঐক্য বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন ও রবিবার থেকে তিনদিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেন। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে, রবিবার বিশেষ মুনাজাত ও তিনদিন কালোব্যাজ ধারণ। ওই কর্মসূচীতে মান অভিমান ভেঙে সকল নেতাকর্মীকে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি আহ্বান জানান। এ সময় সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দসহ ফুলপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

—- নিউজ আপডেট।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top