নদীর এপার ভেঙে ওপার গড়ে এই তো নদীর খেলা : প্রসঙ্গ ডিগ্রিপাড়া বেড়িবাঁধ

Degreepara-12.jpg

এম এ মান্নান
নদীর এপার ভেঙে ওপার গড়ে এই তো নদীর খেলা, সকাল বেলার ধনীরে তুই ফকির সন্ধ্যা বেলা। বিভিন্ন মসজিদে টাকা ওঠাবার সময় কালেক্টররা এসব কথা বলে থাকেন। আমরা তা কানে নেই না। কিন্তু এটি ধ্রুবতারার ন্যায় বাস্তব বটে। এর বাস্তবতা দেখতে যেতে পারেন ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ থেকে চরখরিচা, কাচারী বাজার ও পরাণগঞ্জ হয়ে ডিগ্রিপাড়া রোডটিতে। ডিগ্রিপাড়া রোডের মাথায় এই করূণ দৃশ্যের অবতারণা হয় গত বছর বন্যার সময়। ডিগ্রিপাড়া রোডটি মূলত: একটি বেড়িবাঁধ। গত বছর ব্রহ্মপুত্রের প্রবল শ্রোতে ও পানির ধাক্কায় এক রাতেই ভেঙেচুরে খান খান হয়ে যায় সদ্য কার্পেটিং করা ওই বাঁধটি। ব্রহ্মপুত্রের পাড়ঘেঁষা বসতিতে তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।রাতেই নিজের গড়া ঘরবাড়ি নিজের হাতে ভেঙে জানের ভয়ে সরে পরেন অনেকে। এ বিষয়ে আমার লেখা প্রতিবেদন ময়মনসিংহ প্রতিদিন ও দৈনিক তথ্যধারায় লীড নিউজ হয়েছিল। বিষয়টি সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে নেয়া হলে সাময়িক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন তারা। বাঁশ খুটা গেড়ে ব্রহ্মপুত্রের তোড়ের মুখে শত শত বালুর বস্তা ভোগ দিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করা হয়েছিল। ফলে বস্তিতে ঢুকতে যাওয়া রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনজিহ্বা গুটিয়ে যায়। নদীপাড় এলাকায় প্রায়ই এমন হয়ে থাকে। বরিশাল, চাঁদপুর, কুমিল্লার কথা নাইবা বললাম। এই রোডেই কাচারী বাজার এলাকায়ও বার বার ভাঙন জ্বালায় জ্বলতে হয়েছিল স্থানীয়দের। সে অবস্থার অবসান যেভাবে হয়েছে সেটিই চান ডিগ্রিপাড়াবাসি তাদের বেলায়ও। এলাকাবাসি মনে করেন, সহসা নদী শাসন না করা হলে, ভাঙনের জায়গায় লৌহ কঠিন প্রতিরোধ গড়ে না তুললে নিরাপত্তা বেষ্টিত বেড়িবাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি ও আশ্রয়হীন হয়ে পরতে পারেন কয়েক গ্রামের মানুষ। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পৌর শাখা-১ এর সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ডিপিপিতে প্রক্রিয়াধীন। মাত্র ২/৩ দিন আগেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন। আমরা এখন শুধু বাজেটের অপেক্ষায়।বাজেট পেলেই কাজ ধরে ফেলব।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top