শিশুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন অপরূপ সুন্দর ঢাকা মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা

232.jpg

এম এ মান্নান
বিশ্বসেরা চিড়িয়াখানার চার্টে আমাদের ঢাকা মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানাটি ২০১৮ সনে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এটি ১৯৬১ সনে প্রতিষ্ঠিত হলেও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ১৯৭৪ সনের ২৩ জুনে। এর অভ্যন্তরে ২টি লেকসহ বর্তমানে জমির পরিমাণ ১৮৬.৬৩ একর। সুস্থ্য বিনোদন, দুর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংগ্রহ, প্রজনন, শিক্ষা, গবেষণা, প্রাণী বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও এ বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে পশুপাখির ১৩৭টি খাঁচা ও ২৩৭টি প্রকোষ্ট রয়েছে।এছাড়া ৯ প্রজাতির মাংসাশী প্রাণী ৩৫টি, ২১ প্রজাতির বৃহৎ তৃণভোজী প্রাণী ২৬০টি, ১৮ প্রজাতির ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণী ১৯৫টি, ১০ প্রজাতির সরীসৃপ ৭৩টি ও ৫৭ প্রজাতির ১১৫৫টি পাখি রয়েছে। যাদুঘর একুরিয়ামে রক্ষিত রয়েছে ২৫ প্রজাতির ৯২৬ মৎস্যসমূহ। ময়মনসিংহের ফুলপুর এক্সিলেন্ট স্কুল এন্ড মাদরাসা ২০০৬ সনে স্থাপিত হয়ে প্রতি বছর শিক্ষা সফর উপলক্ষে মধুটিলা ইকো পার্ক, গজনী, বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বকশিগঞ্জের লাউচাপড়াসহ বিভিন্ন স্পটে গেলেও মিরপুরের এই মনোমুগ্ধকর জাতীয় চিড়িয়াখানায় এবারই প্রথম। বাঘ, ভাল্লুক, উল্লুক, সিংহ, জিরাফ, জেব্রা, হাতি, ঘোড়া, বানর, গন্ডার, জলহস্তি, কুমির, ওয়াটার বাক, হরিণ, ডিংকো কুকুর, সাদা কুকুর, গাধা, ভূটানী গরু, ইম্পালা, ইল্যান্ড, গ্রেটার কুডু, উটপাখি, ঈগলপাখি, ক্যাঙ্গারো, গয়াল, গরিয়াল, বন মানুষ, হনুমান, কাঠবিড়ালী, গিনিপিগ, হারগিলা, অজগর, শঙ্খিনী, কুবরা, দারাজ সাপ ইত্যাদি চেনা অচেনা নানা প্রজাতির নতুন নতুন পশুপাখি দেখে ছাত্ররা শুধু অবাকই হয়নি বরং যেন হতভম্ব। পরিস্কার আকাশ বৃষ্টি বাদলহীন নির্ভেজাল দিনে ঘুরে ফিরে দেখা হয় অবাক ও মুগ্ধ হওয়ার মত নানা প্রজাতির পশুপাখি ও জীবজন্তু। বইয়ে অঙ্কিত প্রাণহীন মরা জীবজন্তু কতই না দেখা হয়েছে। কিন্তু এত কাছে থেকে তরতাজা বাস্তব ও জীবন্ত প্রাণীসমূহ এসব কচিকাঁচাদের অনেকেরই আর কখনও দেখা হয়নি। চিড়িয়াখানায় ওইদিন সাইন বোর্ড মাদরাসা, কুমিল্লা নবিয়াবাদ দারুল উলূম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররাও এসেছিলেন। এসেছিলেন তুর্কিস্তানের তাবলীগ জামাতের চিল্লা শেষ হওয়া মুসলিম ভাইয়েরাও। বেশ কয়েকজনের সাথে কথাবার্তা ও কোলাকুলি হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১০/১২ বছর বয়স হয়ে গেলেও অনেকের মা-বাবা আজও তাদের এসব জীবজন্তু দেখানোর সুযোগ পাননি। জীবনের প্রথম চিড়িয়াখানায় গিয়ে তারা কী যে খুশি তা বুঝাতে যেন ভাষা খুঁজে পান না। এক খাঁচা থেকে আরেক খাঁচায় দৌঁড়াদৌঁড়ি ও ছুটোছুটির হিড়িক পড়ে যায়। একটির চেয়ে আরেকটি খাঁচার প্রাণীর সৌন্দর্য্য যেন কম নয়। মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে মাথার অতি কাছ দিয়ে যাওয়া বিমান ও হেলিকপ্টার দেখার আনন্দও উপভোগ করছিল তারা । সে যেন এক অপরূপ ও মন মাতানো দৃশ্য। আনন্দের যেন বন্যা বইছিল। ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ রোডস্থ এক্সিলেন্ট মাদরাসার সামনে থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ভোর ৫টায় রওনা হওয়ার কথা থাকলেও বাস আসতে দেরি করায় সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে রওনা করে দুপুর সাড়ে ১২টায় গিয়ে পৌঁছতে হয়েছিল চিড়িয়াখানায়। গিয়েই ভাষ্যকারের মাইকে নানা ধরনের সুন্দর সুন্দর উপদেশের পাশাপাশি শুনতে হয়েছিল বিকাল ৫টায় ব্যাক করার কথা। ফলে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। অল্প সময়ে সারতে হয়েছে অনেক কাজ। মাঝখানে খাওয়া-দাওয়া আর নামাজ তো বটেই। তবু কোনমতে নির্দিষ্ট সময় ৫টার মধ্যেই আমরা এক নজর করে দেখে আসতে পেরেছিলাম প্রায় সবকিছুই। হঠাৎ করে এত হাঁটা! পা ফুলে যাওয়া, রেস্টের জন্য পথে বসে পড়ার মত ঘটনা যেন ছিল কষ্টেরও। তারপরও আনন্দের জোয়ারে ভাঁটা নামাতে পারেনি কোন কষ্টই। খাওয়া দাওয়ার সময় বসার আসন ও পরিবেশ নষ্ট করার মত ঘটনা অনেকেই অহরহ ঘটালেও আমরা তা করিনি। দৌঁড়ে দৌঁড়ে প্রায় সব কিছুই দেখা হয়েছিল। হঠাৎ এক সময় সূর্য্য হেলে পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ে। ঘড়ির কাঁটা এসে বসে ৫টার ঘরে। মার্জিতভাবে মাইকে জানানো হয় বিদায়ী সম্ভাষণ। পরে ঢাকার বন্ধুদের বিদায় জানিয়ে রাত সাড়ে ১২টায় বাস এসে থামে প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক্সিলেন্ট স্কুল এন্ড মাদরাসা প্রাঙ্গণে। হালকা জ্যাম ব্যতিত পথে কোন অসুবিধা হয়নি। চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে দিক নির্দেশনা প্রদানসহ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন, ছাত্র অভিভাবক সাভার আশুলিয়া থানায় কর্মরত এসআই আমছর আলী, ঢাকার ব্যবসায়ী শরীফুল ইসলাম, হালুয়াঘাটের আতুয়াজঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম, ফুলপুরের রইসুদ্দীন ভেন্ডার, দলিল লেখক রূপসীর মুফিদুল ইসলাম, হিফজ বিভাগের উস্তাদ হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান, নূরানী হুজুর মাওলানা সাঈদুর রহমান, হাফেজ নাঈম বিন কালাম, বাবুর্চি আশরাফ আলী হাসু, ছাত্র সংসদের ভিপি হাফেজ মুনিরুল ইসলাম রাফি, সেক্রেটারী মিনারুল ইসলাম, ছাত্রনেতা ইহতিশামুল ক্বিয়াস মুসাদ্দিক, হাফেজ আসিফ বিল্লাহ নুমান, হাফেজ আব্দুর রহমান শাকিল প্রমুখ। ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৯২৩২ নং শ্যামলী বাংলা গাড়িটি ড্রাইভ করেন সুদক্ষ ড্রাইভার সুমন। সুপার ভাইজার ও হেলপার হিসেবে ছিলেন যথাক্রমে সাদ্দাম ও জামাল। শিক্ষা সফর বাস্তবায়নে বুদ্ধি, পরামর্শ, উৎসাহ ও সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সার্বিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিলাম মো. আব্দুল মান্নান।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top