মোমেনশাহীর চরখরিচায় বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত

Ershad-JP.jpg

মোমেনশাহীর চরখরিচায় বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত
এম এ মান্নান
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার জামিয়া মাহমূদিয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া চরখরিচায় ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জামিয়া ময়দানে খতমে কুরআনে কারীম, খতমে বুখারী ও বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা, মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমীর, গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদের খতীব, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ি জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়ার মুহতামিম পীরে কামিল মুহিউস সুন্নাহ্ শায়খুল হাদীস আল্লামা মাহমূদুল হাসান দামাত বারাকাতুহুম। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বিশেষ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রমুখ।মাহফিলে বয়ান করেন, বালিয়ার শায়খুল হাদীস মাওলানা এমদাদুল হক, মুহতামিম মাওলানা আইন উদ্দিন, মাঝিয়াইল মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম ও চরখরিচা মাদরাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা নূর আহমাদ, ঢাকার মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, যাত্রাবাড়ি মাদরাসার নাজিমে তালীমাত মাওলানা আনওয়ারুল হক, উস্তাদ মাওলানা জয়নুল আবেদীন, ময়মনসিংহের মুফতী আহমাদ আলী, উত্তরা গাওসুল আজম জামে মসজিদের খতীব মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী, কুয়াকাটার হাফিজুর রহমান সিদ্দিকীর ছোটভাই যাত্রাবাড়ি মারকাযুত তাক্বওয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতী হাবিবুর রহমান মিসবাহ, মাওলানা মুনাওয়ার হুসাইন, মাদারীপুর শিবচর জামিয়াতু সুন্নাহর মুহতামিম মাওলানা নিয়ামাতুল্লাহ ফরিদী, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী, অত্র প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম মাওলানা মাসরুর হাসান প্রমুখ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, আমি বড় আলেম নই তবে ছোটবেলায় মাদরাসায় পড়েছি। আমি এখানে বক্তব্য দিতে আসিনি। তবে আমি আপনাদের মতই একজন মুসলমান। আমি ১৯৬৭ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করেছি। আমি বাংলা লেখাপড়া করলেও ছোটবেলা থেকে মসজিদ মাদরাসার খেদমত করি। আমি ওয়াজ করব না।আর হুজুরের সামনে ওয়াজ করার সাহসও আমার নেই। আপনারা ছোট ছেলেমেয়েদের কুরআন শিখাবেন। আমি ৫/৬বার জেল খেটেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদর করে আমাকে Full মন্ত্রী বানিয়েছেন। তিনি আমাকে ৩১ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা দিয়েছেন ছেলেমেয়েদের জন্য কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিতে। কুরআন শিখাতে আপনারা মক্তব করলে আমি আপনাদের সহযোগিতা করব। আপনাদের ছেলেমেয়েরা যাতে সহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে পারে, নামাজটা পড়তে পারে, এর ব্যবস্থা করবেন। ছোটবেলা থেকে নামাজ পড়ার প্রতি ইঙ্গিত করে পরহেজগার এই ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মা কইছে, আমি নেংডা অইয়া দাইড়াবান্ধা খেলছি। আযান অইলে লুঙ্গি পইরা নামাজ পড়তে গেছি।’ বক্তব্যে তিনি সকলের দোয়া কামনা করেন। বিশেষ অতিথি জাতীয় পার্টির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন বলেন, আল্লামা মাহমূদুল হাসান শুধু এ এলাকার নয় তিনি সারা দেশের জন্য একটি প্রদীপস্বরূপ। চরমোনাই, ছারছীনার পীরের সাথে আমি তাকে তুলনা করব না। তিনি কত বড় মাপের আলেম, আমাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাহেব তাকে কতটুকু মহব্বত করেন তা বলে বুঝাতে পারব না। আজ (শুক্রবার) সকালে চেয়ারম্যান মহোদয় যখন এখানে আসতে রওনা করেন তখন আকাশে খুব কুয়াশা ছিল। হেলিকপ্টারে পথ দেখা যাচ্ছিল না। প্রোগ্রাম ক্যানসেল করব কিনা ভাবছিলাম। তারপরও স্যার বললেন, যাও মরলে মরে যাব, তবু যাব। হুজুর মাহফিলের দাওয়াত দিয়েছেন, সেখানে যেতেই হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, আমি একাধারে ৩/৪ ঘন্টা বসেও আল্লামা মাহমূদুল হাসানের বয়ান শুনেছি। মন্ত্রের মত, মুগ্ধ হবার মত তার জ্ঞানগর্ব বয়ান। তিনি কত বড় জ্ঞানী তা বুঝাতে পারব না। আপনারা তার কাছ থেকে কিছু জ্ঞান নিয়ে যান।কাজে লাগবে।চরখরিচা মসজিদ ও মাদরাসার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই মসজিদ মাদরাসা দেখে খুশি হয়েছি। আনন্দে আপ্লুত হয়েছি। তিনি বলেন, কুরআন তিলাওয়াত করে বাংলাদেশ সুনাম অর্জন করেছে। ছোট ছোট বাচ্চারা কুরআনের হাফেজ। এটা চিন্তা করলে আশ্চর্য লাগে। সূরা জুমায় বলা হয়েছে, আযান শুনে বেচাকেনা ও কাজকাম বন্ধ রেখে তোমরা দ্রুত মসজিদে চলো আস। তাই জুমার দিন আমি সরকারী ছুটি ঘোষণা করেছিলাম। এটা এখনও বহাল আছে। বাংলাদেশকে আমি ইসলামী রাষ্ট্রও ঘোষণা করেছিলাম কিন্তু সেটা বহাল রাখেনি। আল্লামা মাহমূদুল হাসানের ভুয়ূষী প্রশংসা করে এরশাদ বলেন, আল্লাহ পাক তাঁকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। আপনারাও তাঁর জন্য দোয়া করবেন। মাহফিল উপস্থাপনায় ছিলেন, গাজীপুরের মাওলানা নুরুল ইসলাম, অত্র প্রতিষ্ঠানের উস্তাদ মাওলানা বদরুল আলম ও মাওলানা নিয়ামাতুল্লাহ ফরিদী। সবশেষে মধ্যরাতে খতমে কুরআনে কারীম ও খতমে বুখারী শেষে দোয়ার মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন, আল্লামা মাহমূদুল হাসান দামাত বারাকাতুহুম।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top