নারী পুরুষ সমান অধিকারের দাবীদাররা দান্দাল ছাড়া কিছু নয় — ওলীপুরী

hanihala2.jpg

এম এ মান্নান
নারী পুরুষ সমান অধিকারের দাবীদাররা দান্দাল ছাড়া কিছু নয়। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মাঝিয়ালী বাজার জামে মসজিদের উদ্যোগে আয়োজিত মাঝিয়ালী ইউনিয়ন কমপ্লেক্স মাঠে তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মুফাসসিরে কুরআন মুনাযিরে আযম আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কুরআন হলো বাতিস্বরূপ।কুরআন বুঝলে যারা মানতে চায় তারা হেদায়াত পায়। আর বুঝলেও যারা মানতে চায় না, তারা হেদায়াত পায় না। হেদায়াত মানে নূর। সূর্যের আলো, চন্দ্রের আলো বা এ ধরনের আলোকে নয় বরং অন্তরের আলোকে নূর বলে। অন্ধকার পথ চলতে বাতি ও চোখ দুটিই লাগে। ঠিক এমনিভাবে দীনের পথে, হেদায়াতের পথে চলতেও কুরআন ও অন্তরের আলো দুটিই লাগে। বাতি যেমন দুনিয়ার পথকে উদ্ভাসিত করে, তেমনি কুরআন জান্নাতের পথকে তুলে ধরে। সত্য বুঝেও যে মানে না সে তার নিজের অন্তরের বাতি নিজেই নিভিয়ে ফেলেছে। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দিতে চান, তিনি তার অন্তর খুলে দেন। বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আদালত হলো মানুষের বিবেক। কথাটি সত্য হলেও সেই আদালতের দরজায় তালা মারা। বুঝেও যে মানে না, তারা নিজেরাই তাদের বিবেকের বা অন্তরের বাতি নিভিয়ে ফেলেছে। মনের বা অন্তরের বাতি যে নিভেনি তা বুঝার তিন আলামত। ১. দুনিয়ামুখী না হয়ে যাওয়া। অন্যায়ভাবে দুনিয়া উপভোগের চেষ্টা না করা। যারা অন্যায়ভাবে দুনিয়া উপভোগের চেষ্টা করে, বুঝতে হবে তাদের অন্তরের বাতি নিভে গেছে। যারা প্রচুর টাকার বিনিময়ে ইখলাসবিহিন সুরেলা ওয়াজ করে থাকেন তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লামা আনওয়ার শাহ বলেছিলেন, ‘দেশে এখন অনেক ওয়াজ হচ্ছে।’ কিন্তু হুজুর (সা.) এভাবে ওয়াজ করতেন না। এ কথার সমর্থনে আল্লামা ওলীপুরী বলেন, অনেক ওয়াজ হচ্ছে মানুষের মনে হলেও মূলত: তা ওয়াজ নয় আওয়াজ। অনেক আওয়াজ হয়, ওয়াজ হয় না। আওয়াজে হেদায়াত নাই। মানুষ হেদায়াত হয় ওয়াজে। তিনি বলেন, ক্বিয়ামত যখন নিকটবর্তী হবে তখন অনেক গন্যমান্য জঘন্য ব্যক্তির আবির্ভাব হবে। জঘন্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, হুব্বে জাহ্ অর্থাৎ ক্ষমতালোভী। যেসব গন্যমান্য ব্যক্তি সম্মান জোর করে নিতে চায় তারাই গন্যমান্য জঘন্য ব্যক্তি।তিনি বলেন, যারা বলে, নারী পুরুষ সমান; তারাও বুঝে যে নারী পুরুষ সমান নয়। বুঝুক আর না বুঝুক নারীর অধিকার সর্বদায়ই বেশি। সমান অধিকারের দাবীদাররা দান্দাল ছাড়া কিছু নয়। পুরুষের খরচের খাত ৩টি অংশ পায় ২টি। আর নারীর কোন খরচের খাতই নেই। বালেগ হওয়ার পর ছেলেদের খরচ দেয়া পিতার ওপর দায়িত্ব নয়। এমনকি বিবাহ খরচ ও সন্তানাদির খরচও ছেলেদের নিজ কামাইয়ের ওপর পিতার ওপর নয়। আর মেয়েদের বিবাহের আগ পর্যন্ত পিতার ওপর ও বিবাহের পর মৃত্যু পর্যন্ত স্বামীর ওপর যাবতীয় খরচ অর্পিত থাকে। তারপরও মেয়েরা অংশ পায় ১টি। অতএব নারীর অংশ কম নয়। উপস্থিত সুধীমন্ডলীর নিকট প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ১ নম্বরে পাস করলে নাম্বার বেশি নাকি ১০ নাম্বারে পাস করলে নাম্বার বেশি? এতটুকু যারা বুঝে না তারা যেমন বোকা এরচেয়েও বড় বোকা হলো ওরা, যারা বলে কুরআন নারীকে ১ অংশ দিয়ে ঠকিয়েছে। কুরআনের শুধু শাব্দিক অর্থ বুঝলেই হবে না মর্মার্থও বুঝতে হবে। কারণ, নারীর কোন খরচের খাত না থাকলেও পাচ্ছে ১ অংশ আর পুরুষের খরচের ৩টি খাত থাকলেও অংশ পাচ্ছে ২টি। সে হিসেবে কুরআন নারীকে জিতিয়েছে। অথচ বৃহত্তর ময়মনসিংহের কুলাঙ্গার তসলিমা নাসরিন বলে কুরআন নারীকে ঠকিয়েছে। এর সমর্থনে ফরিদা রহমান নামে সাবেক এক মহিলা এমপি বলেন, আমি তসলিমার মত কুরআনকে ভুল বলি না। আমি পুরা কুরআন শরীফ পড়েছি।নারীকে সমান অধিকার দিলে গুনাহ হবে এমন কথা কুরআনের কোথাও নেই। তাই আমি ছেলে মেয়ে উভয়কে সম্পদ সমানই দিব।সূরা নিসার ১১ নং আয়াতে পুরুষের জন্য ২ অংশ আর নারীর জন্য ১ অংশ দিতে বলা হয়েছে আর ১৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে- যারা তাঁর নির্দিষ্ট সীমাসমূহ অমান্য করে তিনি তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। অর্থাৎ যারা কুরআন অনুযায়ী বন্টন করবে না তারা সীমা অমান্য করে কুফুরী গুনাহে লিপ্ত হলো।আর কাফেররা জাহান্নামী হবে। মনের বাতি যে নিভেনি ওই তিন আলামতের ২য় আলামত হলো পরকালমুখী হওয়া। পরকালমুখী হলে বুঝা গেল মনের বাতি নিভেনি। আর ৩য় আলামত হলো মরণের জন্য সদা তৈরি থাকা। যে ব্যক্তি মৃত্যুর জন্য সদা তৈরি থাকে বুঝতে হবে তার মনের বাতি নিভেনি। আর যারা এর ব্যতিক্রম চলবে বুঝতে হবে সে নিজেই তার মনের বাতি নিভিয়ে ফেলেছে। ওই মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন, কিশোরগঞ্জের জামিয়া ইমদাদিয়ার মুহতামিম আল্লামা আজহার আলী আনওয়ার শাহ। মাহফিলে আরও বয়ান করেন, জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়ার শায়খুল হাদীস আল্লামা এমদাদুল হক, কিশোরগঞ্জের শাহ মো. ইসমাঈল, ময়মনসিংহের মুফতী আহমাদ আলী প্রমুখ । এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, ময়মনসিংহ আইনজীবি পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব এড. ফজলুল হক, বানিহালা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল হাছনাত (আছমত) প্রমুখ। মাহফিলটি সফল করতে মাঝিয়ালী বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জিয়াউর রহমানসহ এলাকার মুরুব্বিয়ান, নেতৃবৃন্দ ও যুবকরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top