রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা দিলেন মাওলানা এনামুল হক

Rohingya-21.jpg

এম এ মান্নান
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বাহেলা গ্রামের কৃতি সন্তান আল-জামিয়া শামছুল উলূম মাদরাসা ও এতিমখানা বাহেলার প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী লন্ডন প্রবাসী মাওলানা এনামুল হক গত ৩ জানুয়ারি থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং, বালুখালী, লাম্বাশিয়া ও মধুচরা এলাকায় মিয়ানমার থেকে আসা অসহায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। তিনি ঘুরে ঘুরে দেখেন কারা বেশি অসহায়।বিভিন্ন ক্যাম্পে ঢুকে বঞ্চিতদের সনাক্ত করত: ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য প্রকৃত অসহায়দের খুঁজে বের করেন তিনি। তারপর তাদের মাঝে আর্থিক নগদ টাকা পয়সা দান করেন। পাঁচশ থেকে নিয়ে বার হাজার পর্যন্ত প্রতিজনকে তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। রোহিঙ্গারা বড় কষ্টে রয়েছে। ৪/৫ হাত দৈর্ঘ্য একটি কুঠুরিতে গিজগিজে পরিবেশে ঝাঁকাঝাকি করে থাকছে ৭/৮জন সদস্য। মা-বাবা, স্ত্রী, ছেলে মেয়ে, ভাবীসহ থাকছে একই কুঠুরিতে। ওখানে শিশুর সংখ্যা খুবই বেশি। বস্তিতে ঘুরতে গেলে চোখে পড়ে শুধু শিশু আর শিশু। যুবক, বড় ও বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা একেবারে নগণ্য। রোহিঙ্গারা সীমাহীন নির্যাতিত হয়ে নিজেদের দেশ, জমিজমা, সহায় সম্পদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায়, তলায় ও ঢালে ছোট ছোট অস্থায়ী ঠুলি বাসা বানিয়ে উহাতে আঁকড়ে ধরে পড়ে আছে। সারা দেশ এমনকি সারা বিশ্বের বিভিন্ন দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বিপদে পড়লে মানুষ স্বভাবত:ই আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু এরপরও রোহিঙ্গা শিবিরে গড়ে ওঠা মসজিদগুলোতে সেরকম কোন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। রোহিঙ্গা শিশুদের কুরআন শিক্ষার জন্য গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান।আশানুরূপ ছাত্রছাত্রীও সেখানে নেই। ওই এলাকায় নতুন কোন ভদ্রলোক গিয়ে নামলেই শিশু ও মহিলারা ঘিরে ধরে, ভীড় করে। টাকা চায়।প্রকাশ্যে কেউ টাকা দিতে গেলে, বড় ধরনের অঘটনের সম্ভাবনা সুস্পষ্ট।ফলে ওইভাবে টাকা পয়সা দেয়া সরকারীভাবে নিষিদ্ধ।সদা টহল দিচ্ছে ডিএসবিসহ নানা ধরনের গোয়েন্দারা।কথা হয় ডিএসবি পুলিশ সেলিমের সাথে।ব্যক্তি উদ্যোগে প্রকাশ্য ত্রাণ দিতে নিষেধ করেন তিনি।তারপরও মাওলানা এনামুল হক গোপনে গোপনে বিভিন্ন ক্যাম্পে ঢুকে বৃদ্ধ নিতান্ত অসহায়দের মাঝে নগদ টাকা পয়সা দান করেন।রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করেন। দেখতে পান, বাচ্চাদের বসার ও পেশাব পায়খানার সুব্যবস্থা নেই। বিষয়টি ব্যথাদায়ক বলে সঙ্গে সঙ্গে কক্সবাজার থেকে কয়েকশ গজ চট এনে প্রাথমিকভাবে বসার ব্যবস্থা করে দেন তিনি।পরবর্তীতে আল্লাহ চাহে তো তাদের জন্য উন্নত টয়লেট, গোসলখানাসহ থাকা খাওয়ার আরও উন্নত ব্যবস্থা হতে পারে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। তার এসব কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন, নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও মরিশাসের সাবেক রাষ্ট্রদূত আলহাজ্ব মো. আব্দুল মান্নান হাওলাদার।এ সময় চট্টগ্রাম উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতী আবুল কালাম আজাদ, রাকিবুল ইসলাম মাহফুজ ও আমি মো. আব্দুল মান্নান তার সাথে ছিলাম।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top