সংবাদের ইকোনমিক সাব-এডিটর থেকে সফল রাষ্ট্রদূত আব্দুল মান্নান হাওলাদার

Phulpur-Pic-Cox-Ukhia.jpg

এম এ মান্নান
ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা দৈনিক সংবাদ-এর ইকোনমিক সাব-এডিটর থেকে সফল রাষ্ট্রদূত নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও মরিশাসের সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. আব্দুল মান্নান হাওলাদার। গত ৩ জানুয়ারি থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং, বালুখালী, লাম্বাশিয়া ও মধুচরায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি। ওই সময় বাইতুল আমান ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট্রের সেক্রেটারী আল জামিয়া শামছুল উলূম বাহেলার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা এনামুল হক, চট্টগ্রাম উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতী আবুল কালাম আজাদ, পপুলার লাইফ ইনস্যূরেন্স কোম্পানী লি: এর ফুলপুর সেলের সহকারী পরিচালক রাকিবুল ইসলাম মাহফুজ ও এক্সিলেন্ট স্কুল এন্ড মাদরাসার প্রিন্সিপাল বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার ফুলপুর প্রতিনিধি আমি মো. আব্দুল মান্নানও তাঁর সাথে ছিলাম। কক্সবাজার সার্কিট হাউজের সেন্টমার্টিন কক্ষে ও গাড়িতে বসে কথা বলি সাবেক ওই রাষ্ট্রদূতের সাথে। ওঠে আসে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের অনুপ্রেরণাময় নানা ইভেন্টস।
তিনি ১৯৫৬ সনের ৫ ডিসেম্বর বরিশাল আগৈলঝড়া উপজেলার রাংতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো. আজহার উদ্দিন হাওলাদার ও মায়ের নাম শামছুন্নাহার বেগম। রাংতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল জব্বারের কাছে তার লেখাপড়ার হাতে খড়ি। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। রাংতা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে গৈলা হাই স্কুল থেকে ১৯৭১ সনে তিনি এসএসসি পাস করেন। তারপর গৌরনদী কলেজ থেকে ১৯৭৩ সনে এইচএসসি ও পরবর্তীতে অর্থনীতি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গৌরবোজ্জ্বল রেজাল্টসহ অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেন। এরপর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও ইউএসএ’র হাওয়াই থেকে এশিয়া প্যাসিফিক সিকিউরিটি স্টাডিজ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ১৯৭৯ সনে কর্মজীবন শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় ইকোনমিক সাব-এডিটর হিসেবে। তারপর বাংলাদেশ বিমানে ট্রাফিক এসিস্ট্যান্ট। এরপর সহকারী কমিশনার/ সহকারী সচিব পদে ১৯৮১ সনে মিলে হৃদয় কন্দরে লুকিয়ে থাকা সোনার হরিণ স্বপ্নের সরকারী চাকুরি। এখান থেকেই উর্ধ্বমুখী যাত্রা শুরু। ভূমি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কেটে যায় তার প্রায় ১৩ বছর। পরে ১৯৯৫ সনে তিনি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে যোগদান করেন। এরপর রাজবাড়িতে এডিসি এডিএম হন মান্নান হাওলাদার। তারপর ইআরডিতে ডেপুটি সেক্রেটারী হিসেবে কাজ করেন তিনি। তিনি ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর ছিলেন। ওখান থেকে লক্ষীপুরের ডিসি হন। এরপর ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের ডাইরেক্টর নিযুক্ত হন। তারপর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৪/৫ মাস কাজ করেন। এরপর যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বিসিএস আইআর’র সদস্য হন। তারপর বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার ডিজি ছিলেন তিনি। এরপর বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন মান্নান হাওলাদার। এরপর প্লানিং কমিশন-এর সদস্য হন তিনি। সর্বশেষ সরকারের আস্থাভাজন ওই কর্মকর্তা ২০১৫ সনের মাঝামাঝি সময় থেকে মরিশাস, কমরোজ, সিসেম ও মাদাগাভাস্কার-এর হাই কমিশনার ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেন আব্দুল মান্নান হাওলাদার। সম্প্রতি তিনি অবসরে রয়েছেন। তাঁর বর্ণিল এই জীবনে তিনি বিশে^র বিভিন্ন রাষ্ট্র সফর করেছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ইন্ডিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যন্ড, কোরিয়া, দ. কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, ইউকে, ফ্রান্স, জার্মানী, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম, রাশিয়া, কানাডা, ইউএসএ, সাউথ আফ্রিকা, কেনিয়া, সৌদী আরব, কাতার প্রভৃতি। একাধিকবার সফর করেছেন এমন দেশের সংখ্যাও কম নয়। তবে মিশর ও ইরাক সফর করা হয়নি তার। ওগুলোতেও সফরের ইচ্ছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
দুই ছেলে সন্তানের জনক এই কর্মকর্তার পারিবারিক ও ব্যক্তিজীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সুখময়। তবে একটি মেয়ে সন্তানের আশা যেন তাকে ব্যথিত করে। তাঁর সহধর্মিনী মিসেস সাবিনা মান্নান একজন গৃহিণী। বড় ছেলে ডা. মাহমূদুল মান্নান শুভ্র একজন এমবিবিএস ও ছোট ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মাকসুদুল মান্নান সাক্ষর কুষ্টিয়া ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করা একজন প্রকৌশলী। তিনি রাংতা উচ্চ বিদ্যালয় ও রাংতা জামে মসজিদসহ বহু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন। এখন তার অবসর কাটে বাসায়ই। তেমন কোথাও বের হন না। তবে ভবিষ্যতে তিনি শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে ব্যাপৃত রাখতে চান।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top