জাহাঙ্গীর হতে পারেন আমাদের জন্য অনুস্মরণীয়

Jahangir-1.jpg

এম এ মান্নান
হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাইমুন (জাহাঙ্গীর) ফুলপুরের সফল মানুষদের একজন। তিনি হতে পারেন আমাদের জন্য অনুস্মরণীয়। শুধু দুনিয়ার দিক থেকে নয় বরং আখিরাতের দিক থেকেও তিনি অনেকটা এগিয়ে। জানা যায়, ছাত্রজীবনে তিনি একজন তুখোর মেধাবী ছাত্র ছিলেন।১৯৭৫ সনের ৭ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাতিকুড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতার নাম ক্বারী আবুল হাশেম ও মাতার নাম মোছা: জুবেদা খাতুন। ইলম হাসিলের লক্ষ্যে ছোটবেলায় তিনি বাড়ি ত্যাগ করেন । ১৯৮৮ সনের দিকে আমুয়াকান্দা বাজার আদর্শ আবাসিক হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করেন। পরে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ’র আমীর গুলশান আজাদ মসজিদের খতীব আল্লামা মাহমূদুল হাসান কর্তৃক পরিচালিত ঢাকা দক্ষিণ যাত্রাবাড়ির জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়ায় পুনরায় হিফজ শোনান। তারপর সেখানেই তিনি কিতাবখানায় ভর্তি হন। ১৯৯৭ সনে কৃতিত্বের সাথে দাওরা পাস করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ক্লাসে তাকরারের আমীর ছিলেন। বিনয়ী, নম্রতা ও সুন্নাতী আমল আখলাকের কারণে হুজুরদের ছিলেন অতি আদরের। হুজুর ক্লাস করে চলে গেলে ছাত্রদের তিনি সবক বুঝিয়ে দিতেন।পারিবারিকভাবে নানা অসুবিধা ও অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও তা তাকে দমাতে পারেনি। ওইসব সমস্যা জয় করেই এগিয়ে চলেন অদম্য এই জাহাঙ্গীর। তিনি কষ্টে থেকেও কখনও ভেঙে পড়েননি ও দেননি কাউকে বুঝতে । তবে উস্তাদরা সবই জানতেন। টানাপোড়েনের সংসারে যখন পকেট খরচ চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছিল ঠিক তখন এই মানুষটির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পথ খুলে যায়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিরাবোতে অবস্থিত মাশরিকী জুট মিলস লি:’র সাবেক এমডি বর্তমান ট্রাস্ট এলায়েন্স’র সিইও আলহাজ্ব খন্দকার রইছ উদ্দিন আহমেদ কুরআন শিখার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কুরআনের একজন ছাত্র বনবার আশায় ভাল একজন হুজুর খুঁজছিলেন।যার কাছে তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন পড়বেন। তার ৯৩, মতিঝিলের অফিসে অথবা গুলশানের বাসায় গিয়ে পড়ানোর শর্তে।বিষয়টি ব্যক্ত করেন, তারই ছেলে হাফেজ ইয়াকিদ আহমেদের উস্তাদ যিনি এই জাহাঙ্গীরেরও ছোটবেলার উস্তাদ হাফেজ গোলাম মোস্তফার কাছে। এমডি রইছ উদ্দিনকে কুরআন শরীফ পড়াতে উস্তাদ হাফেজ গোলাম মোস্তফা তার মন জয় করা প্রিয়ছাত্র আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাইমুন জাহাঙ্গীরকেই নির্বাচন করেন এবং কোন একদিন খবর দিয়ে গুলশানের বাসায় নিয়ে জাহাঙ্গীরের প্রশংসা করে এমডি রইছকে কুরআন শরীফ শিক্ষা দেয়ার জন্য পরিচয় করিয়ে দেন হাফেজ গোলাম মোস্তফা। সেই থেকে জাহাঙ্গীরকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এমডি রইছ উদ্দিন আহমেদ লন্ডন থেকে অনার্স মাস্টার্স করা আর তার স্ত্রী রোজী আহমেদ ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ইংলিশে অনার্স করা। দু’জনকেই তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কুরআন শিক্ষা দিতে থাকেন। কাটতে থাকে তার অর্থনৈতিক দৈন্যতা।তার ছাত্রজীবন থেকেই জাহাঙ্গীরের সাথে পরিচয় ছিল এ প্রতিবেদকের। এমডি রইছের মাধ্যমে পরে তার পরিচয় হয় এফবিসিসিআইএ’র সভাপতি শফিকুল ইসলাম মুহিউদ্দিনের সাথে। তিনি তার ছেলেকে পড়াতেন। পরবর্তীতে উত্তরায় খতমে তারাবীহ পড়ানোকালে পরিচয় ঘটে বিজিএমইএ’র সভাপতি ইসলাম গার্মেন্টস’র চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলামের সাথে। আতিকুল ইসলাম ও তার ছেলেকেও তিনি কুরআন শিক্ষা দেন। এর আগে তার প্রথম খেদমত শুরু হয় টঙ্গীর মুদাফা মাদরাসায়। তারপর উত্তরা দক্ষিণখানের গাওয়াইর জামিয়া এমদাদিয়ায় মুহতামিম হিসেবে একাধারে ৯ বছর।এরপর ২০১০ সনের ২০ সেপ্টেম্বর উত্তরা ময়নারটেকে বিজিএমইএ’র সভাপতি ও তার নিজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দারুল কুরআন ইসলামিয়া মাদরাসায়। এতে প্রিন্সিপাল হিসেবে অদ্যাবধি কর্মরত রয়েছেন তিনি। যারা শুধু বডি, রূপ-চেহারা ও পোশাকাদি দেখে মানুষকে মূল্যায়ণ করেন তারা নিশ্চয়ই তাকে চিনতে ভুল করবেন। তিনি দেখতে ছোটখাটো একজন সাধারণ মানুষ হলেও তার মধ্যে লুকিয়ে আছে চতুর্মুখী প্রতিভা। যার বিকাশ ঘটিয়ে চলেছেন অবিরত। তার পাঠদান পদ্ধতি, অনর্গল অরবী বলার ধরণ, হাসিমাখা কথাবার্তা ও ওয়াজ নসীহত অত্যন্ত চমৎকার ও মুগ্ধ হবার মত। তার বর্তমান মাসিক বেতন ৫৯,০০০ টাকা। যা বাংলাদেশের কওমী মাদরাসাসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় কোন প্রিন্সিপালের আছে কিনা জানা নেই। ১৯৯৮ সনে আন্তর্জাতিক তাফসীর ও হিফজ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশে ফার্স্ট হয়ে সৌদী আরব গেলে তিনি বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১১ সনে পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন। প্রতিভাবান এই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠিত আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাতিকুড়া ইসলামিয়া মাদরাসাটি ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর তিনি তা সচল করেন ও সুন্দর সুচারুরূপে এখন তা চলছে। এলাকাবাসী ও শিল্পপতিদের সহযোগিতায় নিজগ্রামে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করেন মাদরাসা সংলগ্ন বিশাল জামে মসজিদ।উপজেলার সলঙ্গা গ্রামে খাদিজাতুল কুবরা নামে তার প্রতিষ্ঠিত একটি মহিলা মাদরাসা রয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক নানা প্রতিষ্ঠানের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। উত্তরখান মজলিশে দাওয়াতুল হকের নায়েবে আমীর তিনি। তিনি ইত্তেহাদুল উলামা উত্তরখান শাখার যুগ্ম সম্পাদকও। এছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তিনি। সাদাসিধে এই মানুষটির প্রায় ৬ শতাংশ জমির উপর উত্তরার ময়নারটেক প্রমি সুসাইটিতে ৪৩/ডি/৬ ঠিকানায় নিজস্ব বাসভবন রয়েছে। তিনি একজন সফল ব্যক্তি। তার অর্থনৈতিক সফলতার পিছনে শিল্পপতি ছাত্রদের সহযোগিতা ও সমমনা বন্ধুদের নিয়ে ল্যান্ড বিজনিসের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি কথায় কথায় মহান আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তার জীবন ব্যবস্থা ও অধ্যবসায় হতে পারে আমাদের মত সাধারণদের জন্য অনুস্মরণীয় ও অনুকরণীয় পাথেয়।

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top