ফুলপুরে উচ্ছেদ অভিযানকালে বোল্ড ড্রেজারের চাকা পাংচার

Phulpur-Pic4-oct-1.jpg

এম এ মান্নান
ময়মনসিংহের ফুলপুরে বুধবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা অবধি চলে সওজের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান। দুপুর বেলা।আমুয়াকান্দা মোড় মসজিদে তখন যুহরের নামাজ চলছিল। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন মুসল্লি নামাজরত ছিলেন। ওই সময় হঠাৎ বোল্ড ড্রেজারে মসজিদের মেহরাবে আঘাত হানে। আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে বোল্ড ড্রেজারের চাকা পাংচার হয়ে যায়। বুঝে ওঠতে পারেননি ড্রাইভার সঞ্জয়। প্রকট শব্দে তখন সবাই একটু কেঁপে ওঠেন।মসজিদে এক আঘাতেই মেহরাবের দুইপাশের ওয়াল হালকা ফেটে টিন ও কাঠের পাইর ভেঙে ফাঁক হয়ে যায়। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী তখন একটু তফাতে ছিলেন। পরে তিনি দ্রুত মসজিদ পরিদর্শন করে যেটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা মেরামতের উদ্যোগ নেন। ইউএনও অফিসের সহকারী আব্দুল মজিদ দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে নতুন টিন এনে মেহরাব মেরামত করে দেন। তবে ওয়াল মেরামত করা সম্ভব হয়নি। সময় নিয়ে ওটাও করে দেয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। গত ঈদুল আজহার পর দুইবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা প্রচার পেলেও পরিচালিত হয়নি অভিযান বিধায় এবারও ফুটপাতের ওই দোকানদাররা বিষয়টি সত্যি হয়ে যাবে বলে ভাবতে পারেননি। উচ্ছেদ অভিযান বিলম্বিত হওয়ায় প্রশাসন টাকা খেয়েছে বলেও কেউ কেউ রিউমার ছড়াচ্ছিল। অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান হলো। এ অভিযানে রাস্তাঘাট সম্প্রসারিত হয়েছে। ভবিষ্যতে আর যানজট হবে না বলেও সুধীমহল আশা করছেন। এদিকে, আমুয়াকান্দা মোড় মসজিদের মুসল্লি ফল ব্যবসায়ী বাবলু বলেন, মসজিদের দোকানঘর ভেঙে ফেললেও আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙা হয়নি। একই কথা বলেছেন, স্থানীয় বিল্লাল হোসেন ও একেএম মফিদুল হকসহ অনেকেই। এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, তারা সময় নিয়েছে। ওই সময়ে না ভাঙলে ওটাও ভাঙা হবে।তিনি বলেন, মসজিদের দোকানের চালাঘর ভাঙার সময় অনাকাঙ্খিতভাবে ড্রেজারটি মেহরাবে হালকা আঘাত হানে। এতে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। যেটুকু হয়েছে আমরা তা মেরামত করে দিয়েছি। একজন মুসল্লি জানান, মসজিদের ওই দোকানভাড়া থেকে ইমামের বেতন দেওয়া হতো। অভিযান চলাকালে ফুলপুর থানা পুলিশ ও আমজনতাসহ উপস্থিত ছিলেন, সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার (ফুলপুর সার্কেল) ইঞ্জিনিয়ার সাখের হোসেন সিদ্দিকী, ওসি আলী আহম্মেদ মোল্লা, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ হাকিম সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, ওসি (তদন্ত) রুহুল আমিন, পৌরসভার সচিব আব্দুল মোতালেব প্রমুখ।ওই অভিযানে ফুটপাতের শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ও সাময়িক বেকার হয়ে পড়েন।কলেজ রোডের মাথায় চায়ের দোকান ছিল হাফিজের। আফসোস করে হাফিজ বলেন, আমরা গরিব মানুষ কি করব? আমরার কি জমি জোরাদ আছে? আমরার সম্পদ থাকলে কি সিএমপির জাগাত আইয়া দোহান করি? আমার ছেড়াডার লেহাপড়াডা শেষ অয় নাই। হতাশ হয়ে তিনি বলেন, অহন আমার কি অইব? আবার সরকারের প্রতি আশাবাদী হয়ে তিনি বলেন, সরহার মনে করলে সিএমপির খালি জায়গায় আমরারে সেটেলও করতে পারে।ক্ষুদ্র এসব ব্যবসায়ীর জন্য কিছু করা হবে কিনা জানতে চাইলে ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা কোন দিকে যাব? কেউ বলেন, যানজট নিরসন করতে হবে।আবার কেউ বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কোথায় যাবে? কেন, বাজারের ভিতরে জায়গা নেই? বাজারের ভিতরে উনারা দোকান করুক। যানজট নিরসন করতে হলে সওজের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা সরাতেই হবে।অবশেষে নৈরাশ না করে তিনি বলেন, দেখা যাক, কি করা যায়।
I press the link right now chose to post in my facebook page instead

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top