শিক্ষকদের উচিৎ বেইসলাইন মূল্যায়ন করে পাঠ পরিচালনা করা

M-A-Mannan.jpg

প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষাক্রম হলো যোগ্যতা ভিত্তিক। প্রতিটি শ্রেণিতে শিশু নির্ধারিত কিছু অর্জন উপযোগী যোগ্যতা অর্জন করে। ৫ বছর মেয়াদী শিক্ষা সমাপনীতে শিশু নির্ধারিত প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জন করে। কিন্তু প্রত্যাশিত শিক্ষাক্রম এবং অর্জিত শিক্ষাক্রমের মধ্যে ব্যবধান থেকে যায়। কারণ, প্রতিটি শিশু সমানভাবে শিখছে না। প্রতিটি শিশুর বুদ্ধিমত্তা এক রকম নয়। সকল শিশু শিক্ষার সুস্থ্য পরিবেশ পায় না। ফলে কোন শিশু খুব দ্রুত শিখছে, কোন শিশু একটু দেরিতে শিখছে।
শিশুর মস্তিস্কের গঠন শুরু হয় মাতৃগর্ভ থেকে। মাতৃগর্ভ থেকে ৮ বছর বয়সের মধ্যে শিশুর মস্তিস্কের পূর্ণাঙ্গ গঠন হয়। গর্ভে থাকা অবস্থায় মায়ের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং চিন্তামুক্ত আনন্দঘন পরিবেশে থাকা এবং পরিবারের সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতা পেলে একটা সুস্থ্য সন্তান জন্ম হয়। জন্মের পর শিশুর বুদ্ধি ও বিকাশে প্রয়োজন পর্যাপ্ত স্বাস্থসেবা ও প্রয়োজনীয় পারস্পরিক ক্রিয়ামূলক যত্ন।
আমাদের গ্রামীণ সমাজে বসবাসকারীদের মধ্যে এখনো অনেকে অসচেতন। শিশু মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় মায়েরা পুষ্টিকর খাবার পায় না। দরিদ্রতার কারণে শিশুকে পুষ্টিকর খাবার দিতে পারেনা। যেভাবে শিশুর বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যত্ন নেয়া দরকার সেভাবে নেয় না। ফলে অনেক শিশু সঠিকভাবে বেড়ে ওঠতে পারে না। নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।
মস্তিস্কের গঠন এবং পরিচর্যা সঠিকভাবে হয়না বলে শিক্ষা জীবন শুরুতেই অনেক শিশু কোন কিছু সহজে মনে রাখতে পারেনা। বলতে পারেনা, এমনকি শিখতে পারে না। তাছাড়া বাবা মা অশিক্ষিত ও দরিদ্র হওয়ায় শিশুকে শিশু শ্রমে লিপ্ত করার কারণে অনেক শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না । শিশুর শারীরিক অসুস্থতা, বাবা মায়ের অসচেতনতা, শিশুর নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসাসহ বিভিন্ন কারণে অনেক শিশু পড়াশুনা পিছিয়ে পড়ে কিংবা ঝরে পড়ে।
প্রাথমিক শিক্ষায় বর্তমান চ্যালেঞ্জ সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং সমানভাবে শিখার সুযোগ করে দেয়া ও ঝরে পড়া শূণ্যের কোটায় নিয়ে আসা। প্রতিটি শিশুর বুদ্ধিমত্তা এক নয়। প্রতিটি শিশু একই কৌশলে শিখতে পছন্দ করে না। প্রতিটি শিশু কোন না কোন পরিবার থেকে আসছে। কিভাবে শিখতে পছন্দ করে তা জানতে হবে।শিশুর আগ্রহের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বেইস লাইন মূল্যায়ন করে শিশুর পঠন দক্ষতা চিহ্নিত করে তার পাঠগত অবস্থা জানতে হবে।
পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় বেইসলাইন মূল্যায়নের আলোকে স্তর ভিত্তিক শিখনফল এবং শিখন-শিখানোর কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। স্তর ভিত্তিক পাঠদান শিক্ষকের জন্য একটু কষ্টকর হলেও সকল শিশুর জন্য শিখন নিশ্চিত করণে এর বিকল্প নেই।
স্তর ভিত্তিক পাঠদান পরিচালনায় শিক্ষকের করণীয়ঃ
১। বছরের শুরুতে পূর্বের শ্রেণির বই থেকে টুলস্ তৈরী করে শিশুর শ্রেণি ভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা যাছাই করতে হবে। শিশুর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
২। বেইসলাইন মূল্যায়নের মাধ্যমে শিশুর পাঠগত অবস্থান অনুযায়ী দলভাগ করতে হবে।
৩। শিশুর পাঠগত অবস্থানের উপর ভিত্তি করে দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
৪। শিশুদের আসন বিন্যাসে পাঠগত অবস্থানের উপর ভিত্তি করে বসাতে হবে।
৫। দলগত অবস্থানের উপর ভিত্তি করে শিখনফল ও শিখানোর কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
৬। শিক্ষক সমবেত কাজের পাশাপাশি বেইসলাইনের আলোকে ছোট দলে শিশুদের শিখনে সহায়তা করবেন।
৭। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি শিশুতোষ-গল্পের বই পড়তে দিতে হবে।
স্তর ভিত্তিক পাঠদানের ফলে পিছিয়ে পড়া শিশুদের আলাদা সহায়তা প্রদানের ফলে তাদের দূর্বলতাগুলো সহজে নিরাময় দেয়া সম্ভব। শ্রেণির সকল শিশুকে একই লেভেলে না আনতে পারলে শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা অর্জনসহ প্রত্যাশিত শিক্ষাক্রম অর্জন করা সম্ভব নয়। ফলে প্রাথমিক স্তরে স্বনির্ভর ও সাবলীল পাঠকও তৈরী হবেনা। তাই প্রতিটি শিশুর শিখন নিশ্চিতকরণে বেইস লাইনের গুরুত্ব অপরিসীম।
(সংগৃহীত)
There are several options available to expose parents to the most important concepts that will effectively equip them to help their children write essay learn to write

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top