শতবর্ষী ‘সমলা’র একাকিত্ব জীবন দেখার যেন কেউ নেই

samala.jpg

ওমর ফারুক সুমন
চারিদিকে জঙ্গল আর ঘুটঘুটে অন্ধকার। জনমানব শূন্য। ভাঙ্গা বেড়া। ভাঙ্গা ঘর। ঘরে নেই কোন প্রদীপ। মানুষ খেকো মশাগুলো ভুঁ ভুঁ করে উড়ে বেড়াচ্ছে। তেলাপোকা, ইদুর আর বন্য প্রাণীরা যার নিত্যসঙ্গী। এমনি এক জনমানব শূন্য জঙ্গলের অন্ধকার কুটিরে অনাদর আর অবহেলার মাঝে একফুটো পানির তৃষ্ণায় ছটফট করছে এক শতবর্ষী বৃদ্ধ নারী। যেন মৃত্যু তার খুব সন্নিকটে। বয়স একশত বছরেরও উপরে। এই বৃদ্ধ নারীর সন্ধান মিলে হালুয়াঘাটের নড়াইল ইউনিয়নের বাঘমার গ্রামে। নাম তার সমলা খাতুন। স্বামী মৃত দুবরাজ হাজী। শক্রবার সন্ধায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখা যায় এমনি এক মর্মস্পর্শী ঘটনা। ভাঙ্গা কুটিরের পাশেই বৃষ্টির জমাকৃত পানি পান করার জন্যে ছটফট করছে। কেউ নেই তারপাশে। শুরুতে গাঁ শিহরে উঠে। শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। ছোট শিশুর ন্যায় প্রশ্রাব আর পায়খানা করে সারা শরীর মাখিয়ে রেখেছে। পরে খবর নিয়ে দেখা যায়, এই অসহায় বৃদ্ধ নারীর বুক ফাঁটা কান্না। আকলিমা আর হালিমা নামে দুইটি মেয়ে আছে তার। শাহ জাহান নামে একটি ছেলে ছিল। সেও অনেক আগেই মারা গেছে। কোন পুত্র সন্তান আর জীবিত নেই। এক সময় ধন, জন দৌলত সবই ছিলো। নুরুল আমিন নামে মেয়ের জামাতা সব সম্পদ ছিনিয়ে নেয়। এই বৃদ্ধ অসহায় নারীর আশ্রয় হয়েছে এখন জঙ্গলের ভাঙ্গা কুটিরে। জানা যায়, প্রতি রাতে সকলের ঘুম নষ্ট করে বিধায় তার জন্যে করা হয়েছে এই ব্যবস্থা। কোন বেলায় খাবার রেখে যায় আবার কোন বেলায় কেউ নেয় না তার কোন খবর। একটি মশারী বা একটি কয়েলও জ্বালিয়ে দেবার প্রয়োজনও মনে করেনা কেউ। অনাহারে অর্ধাহারে রোগ শোকে জর্জরিত সমলা। মৃত্যু পথের পথযাত্রী। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছরের পর বছর এই পরিণতি হয়েছে বৃদ্ধ নারীর। দুই মেয়ে ও মেয়ের জামাতা সব সম্পত্তি ছিনিয়ে নেয় কৌশলে। এখন দেখাশোনা করে না তারা। কথা বলার চেষ্টা করি বৃদ্ধা সমলার সাথে। আমতা আমতা করে বলেন, এই ঘরে আমি একাই থাকি। বয়স্ক ভাতার টাকাটাও মেয়ে উত্তোলন করে। পরে তার মেয়ে আকলিমার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার মা ঐ ঘরেই থাকতে পছন্দ করে। তাছাড়া ওর চিল্লাচিল্লিতে রাতে বাড়িতে কেউ ঘুমাতে পারেনা। তাই তাকে আলাদা ঐ কুটিরে রাখা হয়েছে। তবে তার মায়ের খোঁজখবর ঠিকমতো নেন না এমনটি অস্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন সকালে মায়ের কাপড় চোপড় পরিবর্তন করে দেই।

Viel schweigen und viel missverstehen, bei denen, die hohe grenzen ziehen, ghostwritinghilfe.com wenn menschen übers meer weit fliehen keiner will die toten sehen

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top