ত্রাণ নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার অভিজ্ঞতা

mianmar.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রাণ নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার কাজটা আমরা যতো বেশি ইজি ভেবে নিচ্ছি মূলত: ততো ইজি নয়। আমরা রমজানে একবার গিয়েছিলাম টেকনাফের কুতুপালং ক্যাম্পে। আমাদের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে যেমন সুখের গল্প আছে, আছে দুঃখ এবং বেদনার গল্পও।আমরা সাতজন গিয়েছিলাম কুতুপালং ক্যাম্পে। এর আগে আমরা দু’জন ভাইকে সামান্য কিছু ইফতার সামগ্রী নিয়ে পাঠিয়েছিলাম কেবল অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য।৬ বস্তা ইফতার সামগ্রী ছিলো তাদের সাথে। যোগাযোগ করেছিলাম সেখানকার একজন মুহতারামের সাথে।মুহতারাম তাদের রিসিভ করে নিয়ে যায়।
বলা বাহুল্য, ঢাকা থেকে ৬ বস্তা ইফতার সাথে নিয়ে যাওয়া সহজ ছিলো না বিধায় ইফতার সামগ্রী আগেই পৌঁছে দিয়েছিলাম। আমাদের দু’জন ভাই যখন ক্যাম্পে গিয়ে নির্দিষ্ট মাদ্রাসায় খোঁজ নিলো, দেখলো মাদ্রাসায় মাত্র দুটি ইফতার সামগ্রীর বস্তা। জানতে চাইলাম, বাকীগুলো কোথায়? বললো,- ‘বাকীগুলো অন্য মাদ্রাসার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
বললাম,- ‘আমরা তো অন্য মাদ্রাসার জন্য আনিনি। এই মাদ্রাসার জন্য এনেছিলাম। আপনি আমাদের অনুমতি ছাড়া সেগুলো অন্য জায়গায় দেন কীভাবে?’ এরপরে মুহতারাম তার ফোন সুইচ অফ করে দেন। উনাকে আর পাইনি আমরা। এভাবেই আমরা সেবায় প্রতারিত হই।এরপর আমরা স্বশরীরে ৭ জন গেলাম। সাথে কোন জিনিসপত্র নেইনি, টাকা ছাড়া। গিয়ে সবকিছু দেখলাম। অবস্থা বুঝলাম।
এরপর দু’দিন সেখানে অবস্থান করে যা কাজ করার ছিলো- মসজিদ রিপেয়ারিং, টয়লেট নির্মাণ, সাঁকো নির্মাণ, টিউবওয়েল বসানো, মাদ্রাসা-এতিমখানার ছাত্র-শিক্ষকদের দু মাসের খাবারের ব্যবস্থা, শিক্ষকদের বেতন, মসজিদ এবং মাদ্রাসার বিচ্ছিন্ন হওয়া বৈদ্যুতিক লাইন ফিরিয়ে আনা ইত্যাদি করে দিয়ে আসি, আলহামদুলিল্লাহ্‌। এ কথাগুলো এজন্যই বলছি, কারণ সেখানে যে কেউ যে কোন মূহুর্তে দালালের হাতে পড়ে যেতে পারেন। সেখানকার দালালগুলোর সুন্নতী লেবাস। এদের খপ্পরে পড়া মানেই আপনার ৯০ ভাগ দান তাদের পকেটে….! আমরা ৭ জন যেদিন সেখানে গিয়েছিলাম, সারাদিন কাজের পর ভাবলাম সন্ধ্যায় আমরা সেখানকার মসজিদে রাতটা অতিবাহিত করবো কিন্তু আমাদের যাওয়ার আগের দিন সেখানে (একই ক্যাম্পে) একটি মার্ডার হয়। চারদিকে, প্রশাসনিক লোকজন। মাইকে ঘোষণা হলো- সন্ধ্যার পরে সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই যেন গ্রেফতার করা হয়। যেহেতু সাথে ৬ জন ভিন্ন ভিন্ন মানুষ, তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্যাম্পে অবস্থান করাটা ঠিক মনে হয়নি। পরে আমরা কক্সবাজারে এক বন্ধুর হোটেলে এসে উঠি।
ক্যাম্পগুলোতে সর্বদা প্রশাসনিক লোকজন থাকেন। তারা যদি কাউকে সন্দেহ করেন তাহলে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পয়েন্টে পয়েন্টে চেক পোস্ট রয়েছে। আমাদের কয়েকবার ইনভেস্টিগেইট করা হয়েছিলো। বলেছিলাম,- ‘আমরা তাবলীগে এসেছি’…এটা বলেই পার পেয়েছিলাম। সুতরাং, যারা যাবেন, তারা সেখানে কারো হাতে কোন জিনিস, কোন ত্রাণ, কোন টাকা পয়সা দিবেন না। জায়গা চেনা, ক্যাম্প চেনার জন্য তাদের সাহায্য নিতে পারেন। যদি তাদের হাতে আপনার অনুদান তুলে দেন, তাহলে নিশ্চিত যে সেটার ৮০-৯০ ভাগ তাদের পেটে চলে যাবে। যারা যাচ্ছেন বা যাবেন, দয়া করে ব্যাপারগুলো মাথায় রাখবেন। খুব কৌশলে কাজ করতে হয়।
পরিস্থিতি বুঝে আগাবেন। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন, আ-মী-ন।
Set your starting state with one keyframe, and your end state with another, and hype does new site the rest

Share this post

PinIt
mamannan537

mamannan537

I'm M A Mannan. I'm a founder principal of Excellent School & Madrasah It's new name is Darul Ihsan Qasimia (Excellent) Madrasah. It's situated at Phulpur in Mymensingh. I'm also a journalist. I write in The Daily Tathyadhara, The Dainik Bangladesher Khabor and Bangladesh Pratidin.

scroll to top