তামিমময় বাংলাদেশের একটি ইনিংস

Tamim-Iqbal-celebrates20170325194536.jpg

বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হতে তখনও বাকি ৪৬ বল। ৪৩ নম্বর ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিটি ছুড়লেন লঙ্কান পেসার লাহিরু কুমারা। সেটাকে পেছনের পায়ে গিয়ে আস্তে করে ফাইন লেগে ঘুরিয়েই অপর প্রান্তে চলে আসলেন তামিম ইকবাল।

প্রান্ত বদলের পর এক হাতে ব্যাট উঁচিয়ে অন্য হাত শূন্যে ছুড়ে লাফিয়ে উঠে উল্লাসে মেতে উঠলেন না। শুধু হেলমেটটা মাথা থেকে খুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে স্রষ্টা স্মরণ করলেন তিনি। তারপর ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন। বিপরীত দিক থেকে সাকিব এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন। দুই বন্ধু পিচের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আলিঙ্গনে আবদ্ধও হলেন।

এভাবেই শতরান পূরণ হলো দেশের এক নম্বর ওপেনারের। তামিম মানেই হাত খুলে খেলা। তামিম মানেই ফ্রি স্ট্রোক প্লে। তামিম মানেই প্রতিপক্ষ বোলারদের তুলোধুনো করা। তামিম মানেই অতি আক্রমণাত্মক শট খেলে একটা সময় সাজঘরে ফেরা।

কিন্তু আজ সে চেনা তামিমের অন্য রূপ। আজকাল নিজের চেয়ে দলের কথা অনেক বেশি ভাবেন। দায়িত্ব এবং কর্তব্যবোধও বেড়েছে। তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজ রণগিরি স্টেডিয়ামের দায়িত্বপূর্ণ শতরান।

একদিক আগলে রাখার পাশাপাশি স্কোরবোর্ড সচলের কাজও যে একসঙ্গে করা যায়, আজ তামিমের ইনিংসটি তারই দলিল। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। একই গতিতে খেলে তিন অঙ্কে পৌঁছে যাওয়া। ৭৬ বলে পঞ্চাশ, ২৬ নম্বর ওভারের দ্বিতীয় বলে।  ১২৭ বলে শতক পূর্ণ ৪৩ নম্বর ওভারের দ্বিতীয় বলে! এক ডজন বাউন্ডারিতে।

শেষ পর্যন্ত লাহিরু কুমারার বলে লংঅনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে ফেরত আসলেন তামিম। ততক্ষণে নামের পাশে যোগ হয়েছে ১২৭ রান (১৪২ বলে, ১৫টি বাউন্ডারি আর ১টি ছক্কায়)।

 

এদিকে রণগিরি স্টেডিয়ামের গ্যালারির নাচ-গান তখন অনেকটাই থেমে গেছে। কারণ একটাই, বাংলাদেশ তখন খুবই মজবুত অবস্থানে। তামিম অনেক বেশি উচ্ছ্বাস-উল্লাস করতেই পারতেন; কিন্তু করেননি। অথচ এমন উচ্ছ্বাস যে তাকেই মানায়! সব ফরম্যাটে তো বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রানের মালিক তিনিই। একই সঙ্গে ওয়ানডেতে আরও এক সেঞ্চুরির মালিক হলেন।

ক্যারিয়ারের ৮ম ওয়ানডে শতরানের দিনে তামিম আরও একটি সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন। শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে এতকাল একমাত্র সেঞ্চুরিটিই ছিল তার। আজ আরও একটি সেঞ্চুরি এলো। সেটিও যে তামিমের ব্যাট থেকেই!

তামিমের সাফল্যের সাতকাহন এখানেই শেষ নয়। ডাম্বুলায় এতকাল ১২৪ রানের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত স্কোরটা ছিল পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদির। তামিম আজ তা টপকে গেলেন।

এখন ডাম্বুলার রণগিরিতে আফ্রিদির নাম মুছে তামিমের নাম স্থায়ীভাবে লেখা হয়ে গেল। তার সাথে আরেকটি প্রতিশোধও তোলা হলো। এই ডাম্বুলায় সাত বছর আগে বাংলাদেশ যে বার শেষ খেলেছিল, সেবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৩১২ রান করে ১২৬ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছিল লঙ্কানরা।

আজ তামিম, সাব্বির ও সাকিবরা তার চেয়ে বেশিই করলেন। এখন শেষ কাজটা ভালোয় ভালোয় হয়ে গেলেই চলে।

Share this post

PinIt
scroll to top