ফুলপুরে বিষমুক্ত বেগুন চাষ করে লাভবান সবজি চাষী শফিকুল

Phulpur-Amua-Nurul8.jpg

নুরুল আমিন:
মাঠজুড়ে মাথা সমান উঁচু বেগুন গাছ। সবুজ পাতার আড়ালে গাছের পড়তে পড়তে ঝুলে আছে বড় আকারের বেগুন । এ চিত্র ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চর পয়ারী গ্রামের খড়িয়া নদীর পাড়ের সব্জি-চাষী শফিকুল ইসলামের বাড়ির আঙিনার একটি সবজি ক্ষেতের। মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করেছেন কৃষক শফিকুল। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন তিনি। আরও ৪০/ ৫০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবেন বলে তার আশা। ফুলপুরের খড়িয়া নদীর চর এলাকাটিতে আগে থেকেই নানা সবজির আবাদ হতো । কিন্তু এবার বিষমুক্ত বেগুন চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শফিকুল। ফুলপুর উপজেলার কৃষি বিভাগের পরামর্শে বিষমুক্ত বেগুন চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন সবজি চাষি শফিকুল। তার সবজি ক্ষেতে গাছ যেমন বড় হয়েছে ফলনও হয়েছে বেশি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এলাকার আরো কয়েকজন কৃষক বিষমুক্ত বেগুন চাষ করেছে। শফিকুল তার বেগুন ক্ষেতে সেক্স ফেরোমন ফাঁদের মাধ্যমে কীটনাশক ছাড়াই সবজির আবাদ করেছেন। তার বেগুন ক্ষেতে দেখা গেছে মাঝে মাঝে বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্লাস্টিকের পাত্র ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এসব পাত্রের তলায় অল্প পরিমাণ পানিতে মরে আছে কীটপতঙ্গ। শফিকুল জানান পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রতিবছর সবজি ক্ষেতে কীটনাশক ছিটাতেন তিনি। ফুলপুর কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান তার বাড়িতে এসে অধিক ফলনের উৎসাহ ও পরিবেশ বান্ধব বিষমুক্ত সবজি চাষের কৌশল বুঝিয়ে দেয়ায় সেক্স ফেরোমন ফাঁদে সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছেন তিনি। স্থানীয় কৃষি বিভাগ প্রদর্শনী হিসাবে তার বেগুন ক্ষেতকে স্বীকৃতি দিয়ে আর্থিক প্রণোদনাও দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সোমবার পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদনের মাঠ দিবসে এসে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তারা শফিকুলের বেগুন ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। এ সময় সবজিচাষী শফিকুলের বেগুন ক্ষেত প্রাঙ্গণে পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় মাঠ দিবস উদযাপন করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সেক্স ফরমোন পুরুষ পোকা আকর্ষণের এক প্রকার সুগন্ধি। এটির গন্ধ বাতাসে ছড়ালে পুরুষ পোকা এসে পাত্রে পড়ে। এরপর মারা যায়। পুরুষ পোকা মারা গেলে বংশবৃদ্ধি কমতে থাকে। তিনি আরো বলেন, বিষমুক্ত সবজি খেলে গ্যাস্ট্রিকসহ নানা রোগবালাই থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বিষ ক্রয় করতে হয় না বলে খরচ অনেক কমে যায়। চাষিদের বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেওয়ায় অনেক চাষি এখন বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন । চাষিরা কীটনাশক ছাড়াই ফরমোন ফাঁদের মাধ্যমে ভালো সবজি উৎপাদন করতে পারলে ভবিষ্যতে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে বিষমুক্ত সবজি চাষ হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল। তিনি বলেন, আগে মানুষ মাছ ও দুধ বেঁচতো না। এটাকে অপমানের কাজ মনে করতো। এখন অনেকেই মাছ ও ডেইরি ফার্ম করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। সে দিন বেশি দূরে নয় কৃষকরা পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করে লাভবান হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন পল্লী অঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে কোন খালি জায়গা রাখা যাবে না। প্রতিটি খালি জায়গায় নানা জাতের সবজি উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তিনি বেগুন, লাউ, কুমড়া, সিম চাষের পাশাপাশি বেশি করে পেঁয়াজ চাষ করার জন্য কৃষকদের আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, পয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম, আমুয়াকান্দা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, কৃষক উজ্জ্বল মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাহাপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন।

Top