ফুলপুরে সাদ ও জুবায়ের পন্থীর দ্বন্দ্ব, এক মসজিদে নামাজ বন্ধ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

Phulpur-Pic-Noihati-6.jpg

এম এ মান্নান:
ময়মনসিংহের ফুলপুরে এতাআতী গ্রুপ তথা সাদপন্থী ও জুবায়ের গ্রুপ তথা উলামাপন্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্বে উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের নৈহাটি বাজার জামে মসজিদে নামাজ বন্ধ রয়েছে। শুক্রবারে ওই মসজিদে জুমা আদায় হয়নি। এমনকি এরপর থেকে অদ্যাবধি মসজিদটি অনাবাদি রয়েছে। এতে নামাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে এলাকায় মুসল্লিদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে স্থানীয় মুরুব্বিরা বিষয়টি সুষ্ঠু সূরাহার পথে হাঁটছেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

রূপসী ইউনিয়ন তাবলীগের মুরুব্বি তাজুল ইসলাম জানান, সাদ গ্রুপ ও উলামা গ্রুপের দ্বন্দ্ব নিরসন কল্পে ফুলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল ও ফুলপুর ওসির নেতৃত্বে একটি লিখিত সমঝোতা হয়েছিল। উলামা গ্রুপের মাওলানা আইন উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল খালেক, মাওলানা জয়নুল আবেদীন ও সাবেক অধ্যক্ষ কাজী আব্দুস সাত্তারসহ ৫জন এবং সাদ গ্রুপের মো. ফেরদৌস, শাহাবুদ্দীন, সাইদুর রহমান ও খলিলুর রহমানসহ ৫জনকে নিয়ে ওই সমঝোতাপত্র পাস হয়।

এতে বলা হয়েছিল, সাদপন্থীরা উলামা পন্থীদের মসজিদে তাবলীগের জামাত নিয়ে যাবেন না। আর উলামা পন্থীরাও সাদ পন্থীদের মসজিদে তাবলীগের জামাত নিয়ে যাবেন না। এভাবে চলে আসছিল। সম্প্রতি সাদপন্থীরা ওই শর্ত ভঙ্গ করে যাচ্ছে বলে উলামাপন্থীরা অভিযোগ করেন। উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের নৈহাটি জামে মসজিদটি মাওলানা জুবায়ের গ্রুপ বা উলামাপন্থীদের নেতৃত্বাধীনে ছিল। গত রবিবার কুড়িপাড়া গ্রামের তফাজ্জল হোসেন ময়নার নেতৃত্বে ওই মসজিদে একটি জামাত নিয়ে আসেন।

পরে মসজিদের ইমাম মাওলানা নাজমুল বিধি মোতাবেক তাদেরকে মসজিদে অবস্থান করতে নিষেধ করলেও তারা তা কর্ণপাত করেননি। পরের দিন তিনি বিষয়টি বালিয়া মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরপর সোমবার জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়ার মুফতি আব্দুল কাদির আওলাদ ও সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মোখলেছুর রহমান মন্ডলের নেতৃত্বে কয়েকজন আলেম ও ছাত্র ওই মসজিদে গিয়ে সাদপন্থীদের ওয়াজ নসীহত করে বুঝান। এ সময় সাদপন্থী কিছু উগ্র মেজাজের যুবক উত্তেজিত হয়ে আলেমদের শানে বেমানান ভাষা ব্যবহার করে।

এতে বালিয়া থেকে আসা আলেমরা ব্যথিত ও মর্মাহত হয়ে ফিরে যান। এই মসজিদের ইমাম মাওলানা নাজমুল ও খতীব মাওলানা সাইফুল ইসলাম বালিয়া মাদরাসার ছাত্র। বালিয়ার হুজুরদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার পর থেকে ইমাম নাজমুল মসজিদে যাচ্ছেন না। এরপর উপজেলার সাদপন্থী তাবলীগীরা ওই মসজিদ তাদের দখলে নেয় এবং মঙ্গলবার জোড় ডেকে সবাইকে ওখানে সমবেত করে খুশি প্রকাশ করেন। এদিকে, বালিয়া মাদরাসার বড় বড় আলেম এসে বুঝানোর পরও সাদপন্থীরা তাদের সাথে অস্যেজন্যমূলক আচরণ করায় বৃহস্পতিবার মসজিদের খতীব মাওলানা সাইফুল ইসলাম মোবাইলে অপারগতা প্রকাশ করে আর জুমায় ইমামতি করবেন না বলে মসজিদের জমিদাতা জমির উদ্দিনকে জানিয়ে দেন। তারপর স্থানীয় ওয়ারেস মাস্টার, আজিজুল মাস্টার ও সুরুজ ডাক্তার গং শুক্রবারের নামাজ পড়াতে কোন আলেম খুঁজে পাননি।

পরে মুসল্লিরা পাশের মসজিদে গিয়ে জুমা আদায় করেন। এরপর থেকে উভয় গ্রুপের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি সুষ্ঠু সূরাহার লক্ষ্যে শনিবার বেলা ২টায় রূপসী বাজার মসজিদে একটি ওয়াজাহাতী মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়ার মুহতামিম মাওলানা আইন উদ্দিন, সাবেক নায়েবে মুহতামিম মাওলানা ওয়াইজ উদ্দিন, মুফতী আব্দুল কাদির আওলাদ, মুফতী আজিমুদ্দীন শাহ জামালী, ফুলপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কাজী আব্দুস সাত্তার, ছনকান্দা জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহি উদ্দিন, ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাইনুদ্দীন, গোদারিয়া মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম, রূপসী রওজাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মুজিবুর রহমান, সুফফা মাদরাসার পরিচালক হাফেজ এরশাদুল্লাহ, উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ, আহম্মদিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, কেউ কেউ উলামায়ে কেরামকে সমাজের কাঁটা মনে করছে। এটা ঠিক নয়। উলামায়ে কেরাম না থাকলে দুনিয়া থাকলে এই দুনিয়ায় আবার জাহেলী যুগ ফিরে আসবে। এ সময় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা আরো বলেন, বালিয়া মাদরাসা আমাদের মা-বাবা। এ দেশের প্রায় প্রতিটি মহল্লা পাড়ায় বালিয়ার ছাত্র রয়েছে। এদের উপর কোন প্রকার হামলা বা কটাক্ষ বরদাশত করা হবে না। এ সময় তারা ৫ দফা ঘোষণা করেন। দফাগুলো হলো, এতাআতী তথা সাদপন্থীদের মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ মর্মে প্রতিটি মসজিদে নেইম প্লেইট বসানো হবে। তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে। ইউনিয়নভিত্তিক ওয়াজাহাতী জোড় করা হবে। মসজিদ কমিটি থেকে এতাআতীদেরকে অপসারণ করা হবে। এ বিষয়ে বালিয়ায় গিয়ে মীমাংসা আনতে হবে। এ বিষয়ে নৈহাটী জামে মসজিদ এলাকার মুরুব্বি ওয়ারেস উদ্দিন মাস্টার বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম না। তবে ওইদিন বালিয়ার হুজুরদের সাথে এলাকার যুবকরা যে ব্যবহার করেছে পরে আমি সবই শুনেছি। এগুলো আদৌ ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে শিগগিরই সূরাহা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম ও ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমারত হোসেন গাজির নিকট জানতে চাইলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

Top