ফুলপুরের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা, জরুরিভিত্তিতে মেরামতের দাবি এলাকাবাসির

Phulpur-Pic-bow.jpg

এম এ মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে সুতারপাড়া টু কেন্দুয়া বাজার রাস্তাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি রাস্তা। তারাকান্দা টু ধোবাউড়া রাস্তার ফুলপুরের অংশে অবস্থিত এই ভাঙা রাস্তাটির ইট, পাথর ও সুরকি সরে গিয়ে ২০-৫০ হাত পর পর বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাস্তাটি চলাচলের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু এর কোন বিকল্প রাস্তা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে লোকজন এদিক দিয়ে চলাচল করছে।
আজ বুধবার বিকালে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে রাস্তাটির করুণ অবস্থা চোখে পড়ে। দেখা যায়, ২০-৫০ হাত পর পর বড় বড় গর্ত। গাড়ি চলাচলের সময় কাত হয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এতে প্রায় প্রতিদিনই ছোট খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বওলা এমদাদিয়া শারইয়্যা হাফিজিয়া মাদরাসার সামনে কালভার্ট ভেঙে দুই পাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোতে কোন ইন্ডিকেটর নেই। ফলে রাত্রি বেলায় অপরিচিত লোকদের জন্য এই রাস্তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে বওলা গ্রামের লাখ মিয়া বলেন, প্রায় ৫ বছর যাবৎ রাস্তার এই করুণ অবস্থা। আমরা বহু কষ্টে আছি। বর্ষাকালে বাচ্চা কাচ্চা ইস্কুলে গেলে শইল্যে কাদা মাহায়া আয়ে। আর শুকনা মৌসূমে ধুলায় সাদা অইয়া যায়। একই গ্রামের পীর বাড়ির তানভীর খান বলেন, ভালা পোশাক পইরা বাজারে যাওন যায় না। গাড়ি ছিটকান মাইরা কাপড়ে কাদা মাহায়া দে। কেন্দুয়া গ্রামের শহীদ বলেন, এই রাস্তা দিয়া রোগীটুগি লইয়া হাসপাতালে যাওয়া মহাবিপদ। ১০ মিনিটের পথ যাইতে লাগে আধা ঘন্টা। ফুলপুরের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) হালুয়াঘাট উপজেলা প্রকৌশলী শান্তনু ঘোষ বলেন, তারাকান্দা টু ধোবাউড়া রাস্তার ৮ কিলোমিটার রাস্তা করার জন্য একবার টেন্ডার হয়েছিল। তখন ভোলা- ৩ আসনের এমপি নূরুন্নবী চৌধুরী রাস্তাটির ঠিকাদার ছিলেন। ৩ কিলোমিটার করার পর ওই টেন্ডার বাতিল হয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত ফুলপুর উপজেলা প্রকৌশলী আফছার হোসেন বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি ভালভাবে জেনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাস্তাটি আমিও পরিদর্শন করেছি। এটা আসলেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি রাস্তা। আগামী শুকনা মৌসূমের আগেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Top