ফুলপুরে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে কুরবানির চামড়া

20190812_183639.jpg

এম এ মান্নান
মযমনসিংহের ফুলপুরে আধা লিটার মাম পানির চেয়েও কম দরে বিক্রি হচ্ছে কুরবানির পশুর চামড়া। ফুলপুর বাসস্ট্যান্ডে চামড়ার হাট পরিদর্শন করে এমনটিই জানা যায়। চামড়া ব্যবসায়ী সুমন জানান, খাশির চামড়া ১০ থেকে ৩০ টাকায কিনা হচ্ছে। আর গরুর চামড়া প্রতিটি ৫০ থেকে ৩শ টাকায কিনতাছি। অথচ আধা লিটার মাম পানির দাম ১৫ টাকা। বৈঠামারী গ্রামের রাকিবুল ইসলাম মাহফুজ বলেন, আমরা সাত জনে মিলে ৬৫ হাজার টাকায় একটি গরু কুরবানী করেছিলাম। পরে এর চামড়া নিয়ে পড়তে হয বিপাকে। সন্ধা হয়ে গেলেও কেউ চামড়া নিতে চায় না। অবশেষে একজন পাইকারের নিকট যাইস্যা বিক্রি করেছি। ঈদের দিন সোমবার সন্ধ্যায় ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চামড়া বাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় চামড়ার দর খুবই কম। রূপসী বাঁশাটী, বালিয়া, বওলা ও পাগলা গ্রামে খবর নিয়ে জানা যায়, ওইসব এলাকায় চামড়ার দর বাসস্ট্যান্ডের চেয়েও কম। উপজেলার পারতলা গ্রামের আবুল কাসেম ৪টি গরুর চামড়া নিয়ে আমুযাকান্দা ব্রিজের গোড়ায় অসহায়ের মত বসে আছেন। তিনি জানান, ২ ঘন্টা ধরে বসে আছি। আমার ৪টা চামড়া ৫ টেহার উপরে কেউই দাম কয় না। তবে জামিয়া মাদানিয়া দারুল উলূম গোদারিয়ার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল খালেক জানিয়েছেন তাদের ৫৩টি চামড়া প্রতিটি ৬শ টাকা করে বিক্রি করেছেন। আর খাশী বিক্রি করেছেন ৩০ টাকা করে। চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৫শ টেহার উপরে অহন কোন চামড়া কিনছি না। ছাগল খাশীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাগল খাশী আমরা কিনি না। ফুলপুরের একজন পাদুকা ব্যবসায়ী বলেন, চামড়ার দর যেভাবে কমছে চামড়ার জুতা বা চামড়া জাতীয় জিনিসের দাম কিন্তু সেভাবে কমছে না। তিনি আরো ধারণা দেন, যে চামড়া ৩শ টাকায বিক্রি হচ্ছে এটুকু চামড়া দিয়ে ২ হাজার থেকে ২২শ টাকা দামের জুতা হবে অন্তত ১০ থেকে ১২ জোড়া। তার প্রশ্ন, তাহলে চামড়ার দর এত কম কেন? হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল গ্রামের মোশাররফ হোসেন রিপন বলেন, আমরা ৫ জনে একটা গরু কুরবানী দিছি। চামড়া বিক্রি করে ভাগে পাইছি মাত্র ১০০ টেহা। অন্তত ১০ টা মাদ্রাসা থেকে চামড়ার টেহা চাইয়া গেছে। আর আশপাশের গরিবরা তো আছেই। অহন কারে কইথ্যে দিব, বলেন? আমুযাকান্দা গ্রামের মোতালেব চামড়ার দর পতনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চামড়ার দর পতনের কারণে মাদ্রাসার এতিম অনাথ ও নিঃস্ব গরিবরা বঞ্চিত হবে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য তিনি সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Top